কী জানি

মন পড়তে আর জ্যোতিষ ধরা লাগবে না। ধরনা দিতে হবে না মনোবিদের কাছেও। গায়ের পোশাকই বলবে ‘মনের কথা’। পরিধেয় দেখেই প্রিয়জনের মনপুরের খবর পেয়ে যাবেন তার আপনজন। আবহাওয়া দপ্তরের মতো ঘণ্টায় ঘণ্টায় দেবে সঙ্গীর মনোরাজ্যের পূর্বাভাস! চলতি পথের পথিকও এক পলকে দেখে নেবেন পাশের জনের অন্তপুরের খবর। এটুকুতেই শেষ? না; আরও ‘হাজার’ চমক থাকবে ভবিষ্যতের ওই নতুন বসনে। লাটে উঠবে হাত দেখে ভাগ্য বলে দেওয়া পেশা। শেষ হবে স্টেথোস্কোপে নাড়ি টেপার দিন। হৃদযন্ত্রের হালচাল বুঝতে দৌড়াতে হবে না চিকিৎসকের কাছেও। ২০৫০ সালেই নাকি বাজারে আসবে সেই কাপড়! গত বছরের মে মাসেই এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মার্কিন ভবিষ্যৎবিদ স্কট স্টেইনবার্গ। ২৫ বছরের মধ্যেই মানুষের গায়ে উঠবে সেই ‘সবজান্তা পোশাক’। কী অবাক দুনিয়া আসছে সামনে! পায়ে পায়ে বিস্ময়! বছরের পর বছর পড়লেও পুরনো হওয়ার ভয় নেই। আজীবন নতুন থাকবে কাপড়। ময়লা হবে না। পৌরাণিক যুগের হাইড্রার (গ্রিক দৈত্য) মতো পুনরুত্থান ক্ষমতা থাকবে সস্তা চিপ বসানো ওই পোশাকেরও। এমনই নাকি হবে ভবিষ্যতের ফ্যাশন ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি। আসবে বড় রকমের পরিবর্তন।
গ্রাহকরা ঘরে বসেই স্মার্টফোনে মাপ দিয়ে ট্রায়াল করবেন তাদের পছন্দের জামা। রঙ মানাবে কি না, নতুন নতুন ডিজাইন; জামা না কিনে সব ঘরে বসেই বেছে নেবেন ক্রেতারা।
টেকসই ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়— এমন উপাদান ও ফেব্রিক দিয়ে বানানো হবে সব কাপড়। ব্যবহার করা হবে রিসাইকেল ফাইবার। পানির অপচয় রোধ হবে— এমন পদ্ধতিতে কাজ করবে সব প্রতিষ্ঠান। মজার ব্যাপার হলো, এসব কাপড় পরিধানে সেন্সর ও ক্ষুদ্র ইলেকট্রিক চিপের মাধ্যমে দেহের তাপমাত্রা, পালস, হার্টবিট সব জানা যাবে। চেহারা দেখে না বুঝলেও বাইরের কাপড় দেখে জানা যাবে আজ কার মনের কী অবস্থা। চিন্তায় আচ্ছন্ন, নাকি খুশিতে দিশাহারা। স্টেইনবার্গ আরও মনে করেন, গরম ও ঠান্ডা থেকে রক্ষা করবে এসব জামা। বাইরের তাপমাত্রা অনুযায়ী একাই তাপমাত্রা পরিবর্তন হবে কাপড়ের। চাইলে নিজের মনমতোও পাল্টে নেওয়া যাবে জামার রঙ। সকালে এক রঙ পরে বের হয়ে বিকালে তা ভালো না লাগলে নিজেই বদলে যাবে জামা! প্রযুক্তি জাদু, নাকি জাদুর পোশাক— কী নাম হবে এই ভবিষ্যৎ জামার?






