ছবি তোলার পর বৃদ্ধকে শিংয়ের গুঁতায় আকাশে উড়ালো বাইসন

একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাইসনের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক বৃদ্ধ। ছবি: সংগৃহীত
একটি ছবি তুলতে গিয়েছিলেন দাদা-নাতি। আর সেই মুহূর্তেই বদলে যায় পুরো দৃশ্য। হঠাৎ তেড়ে আসে বিশাল এক বাইসন বা গয়াল। শিংয়ের আঘাতে কয়েক মিটার ওপরে ছিটকে পড়েন ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের এই ঘটনার ভিডিও এরই মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাইসনের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই বৃদ্ধ। প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের বাইসনটি দৌড়ে এসে তাকে শিং দিয়ে আঘাত করে ছুড়ে ফেলে দেয় আকাশের দিকে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধ ও তার নাতি ঘাসের ওপর শুয়ে থাকা বাইসনের ছবি তুলছিলেন। কিছুক্ষণ পর প্রাণীটি হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে তেড়ে আসে তাদের দিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তির নাম কার্ল আইসম-ম্যাকড্যানিয়েল। হামলায় তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধেও তারা সাড়া দেয়নি।
ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, বাইসনকে শান্ত প্রাণী মনে হলেও পার্কের অন্য যেকোনো প্রাণীর তুলনায় এ প্রাণীর আক্রমণেই আহত হয়েছেন সবচেয়ে বেশি মানুষ। মানুষের চেয়ে প্রায় তিন গুণ দ্রুত দৌড়াতে পারে তারা। তাই বাইসনের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
পার্ক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, দর্শনার্থীদের সবসময় বাইসনের কাছ থেকে অন্তত ২৫ গজ বা প্রায় ২৩ মিটার দূরে থাকতে হবে। ছবি তোলার জন্য কখনোই বাইসনের কাছে যাওয়া উচিত নয়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে সূর্যাস্তের কিছু আগে ইয়েলোস্টোন লেকসংলগ্ন ব্রিজ বে ক্যাম্পগ্রাউন্ড এলাকায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধ ও তার নাতি কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে বাইসনের ছবি তুলছিলেন। এ সময় বাইসনটি অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। কয়েকবার মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়ার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে দৌড় দেয়।
একটি সাদা পিকআপ ট্রাক ধীরে ধীরে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলেও বাইসনটি সেটির দিকেও তেড়ে যায়। এতে চালক দ্রুত গাড়ি সরিয়ে নেন। এরপর বাইসনটি বৃদ্ধ ও তার নাতির দিকে ধেয়ে আসে। তারা গাছপালার ভেতর দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত কার্ল আইসম-ম্যাকড্যানিয়েলকে ধরে ফেলে প্রাণীটি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিওধারক মাইক ম্যাকলিওড স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাউবয় স্টেট ডেইলিকে বলেছেন, বাইসনটি তার বাম নিতম্বে শিং দিয়ে আঘাত করে উপরে ছুড়ে ফেলে। তিনি আকাশে একবার উল্টে গিয়ে পাশ ফিরে মাটিতে পড়েন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তি পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেলেও পুরো সময় সচেতন ছিলেন। এমনকি তিনি রসিকতাও করছিলেন।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, জুন, জুলাই ও আগস্ট ইয়েলোস্টোনে সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম হয়। বছরের মোট দর্শনার্থীর প্রায় ৬০ শতাংশই এ তিন মাসে পার্কটি ভ্রমণ করেন।
এ সময়টি আবার বাইসনের প্রজনন মৌসুমও। কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং লারামি ফুথিলস বাইসন কনজারভেশন হার্ডের বৈজ্ঞানিক প্রধান জেনিফার বারফিল্ড বলেছেন, প্রজনন মৌসুমে পুরুষ বাইসনের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে তারা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক ও অনিশ্চিত আচরণ করতে পারে।
তিনি জানিয়েছেন, এ মৌসুমে তাদের গবেষণা দলও প্রয়োজন ছাড়া বাইসনের কাছে যায় না। পর্যবেক্ষণের কাজও নিরাপদ দূরত্বে যানবাহনের ভেতর থেকে করা হয়। তার ভাষ্য, পায়ে হেঁটে চলাচলকারীদের জন্য অন্তত ২৫ গজ দূরত্ব বজায় রাখা নিরাপত্তার ন্যূনতম শর্ত।





