Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
পাখির জন্য আহম্মদ উল্ল্যাহ
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় বিবিধ

বিশ্ব সাইকেল দিবস

একটি সাইকেল, বহু জীবনের গল্প

আনিসুর রহমান বুলবুল
আনিসুর রহমান বুলবুল
agamir somoy
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫০
একটি সাইকেল, বহু জীবনের গল্প

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

ছোটবেলায় সাইকেলের সঙ্গে পরিচয় হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। কারও বাড়ির বারান্দায়, কারও উঠানে, কারও স্কুলের মাঠে, কারও বাবার পাশে হাঁটতে হাঁটতে, কারও বড় ভাইয়ের হাত ধরে, কারও আবার পড়ে গিয়ে হাঁটু কেটে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সাইকেল জীবনে ঢুকে পড়ে। প্রথমে তা দূর থেকে দেখার জিনিস, পরে স্পর্শের, তারপর চাকা ঘোরানোর, তারপর শেখার আর একসময় নিজের ভরসায় এগিয়ে যাওয়ার। সাইকেল শেখা মানে নিজের শরীর, ভয়, ভারসাম্য আর সাহসের সঙ্গে এক নতুন বোঝাপড়া তৈরি করা।

সাইকেল মানুষের কল্পনাতেও গভীর জায়গা করে নিয়েছে। সাহিত্য, সিনেমা, স্মৃতিকথা, জীবনযাপন, সবখানেই সাইকেলের উপস্থিতি আলাদা অর্থ বহন করে। সাইকেল নিয়ে প্রথম যে সিনেমাটি দেখেছিলাম, সেটি ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’। এই সিনেমায় সাইকেল রেস যেন এক তরুণের আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই। এখানে সাইকেল হয়ে ওঠে নিজেকে প্রমাণ করা এবং হার না মানার ভাষা।

‘পথের পাঁচালী’তে একটি দৃশ্যে উল্টো প্রতিবিম্বে সাইকেল এগিয়ে যায়। তার পেছন পেছন ছুটে যায় দুর্গা ও অপু। দৃশ্যটি যেন গ্রামীণ জীবনের ভেতর আধুনিকতার আগমন, শিশুমনের বিস্ময় এবং দূরের পৃথিবীর প্রতি আকুল আকর্ষণকে একসঙ্গে ধরে রাখে। সাইকেল সেখানে খুব অল্প সময়ের জন্য আসে, কিন্তু তার উপস্থিতি থেকে যায় দীর্ঘক্ষণ। একইভাবে ‘ব্রেকিং অ্যাওয়ে’ সিনেমাতেও সাইকেল তরুণ বয়সের আত্মপরিচয়ের লড়াই হয়ে ওঠে। এক তরুণ সাইক্লিস্ট নিজের সীমাবদ্ধতা, শ্রেণিগত সংকট এবং স্বপ্নের ভেতর দিয়ে বুঝতে শেখে, জীবনের দৌড়ে গতি যতটা জরুরি, নিজের পরিচয় মেনে নেওয়াও ততটাই জরুরি।

এরপর যে সিনেমার কথা না বললেই নয়, সেটি ‘বাইসাইকেল থিভস’। সিনেমাটির গল্পে এক বেকার শ্রমজীবী মানুষ চাকরি পায় এই শর্তে যে তার সাইকেল থাকতে হবে। কিন্তু সাইকেল জোগাড় করবে কীভাবে? তখন এগিয়ে আসে তার স্ত্রী। সংসারের শেষ সম্বল বিয়ের চাদর বন্ধক রেখে সাইকেল কেনা হয়। সাইকেল কেনার পরদিনই মানুষটি ছেলেকে নিয়ে কাজে বের হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই দিনই সাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। এরপর গল্প ঘুরতে থাকে সাইকেলটি ফিরে পাওয়া আর না পাওয়ার দোলাচলে। এখানে সাইকেল হয়ে ওঠে জীবিকা, সম্মান, আশা, পরিবার আর অস্তিত্বের প্রতীক।

‘ওয়াজদা’ সিনেমাতেও সাইকেল হয়ে ওঠে এক শিশুর স্বাধীনতার স্বপ্ন। সৌদি সমাজের নানা নিষেধের ভেতর এক মেয়ের সাইকেল কেনার আকাঙ্ক্ষা আসলে নিজের ইচ্ছাকে স্বীকার করার গল্প। সে সাইকেল চায়, কারণ সে নিজের মতো করে চলতে চায়। এই চাওয়ার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিস্বাধীনতার সবচেয়ে কোমল অথচ শক্তিশালী উচ্চারণ। ফরাসি সিনেমা ‘দ্য কিড উইথ আ বাইক’-এ সাইকেল আরেকভাবে স্মৃতির আশ্রয় হয়ে ওঠে। এক শিশুর কাছে সেটি বাবার সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের শেষ চিহ্ন। সে সাইকেল আঁকড়ে ধরে, যেন সেটিই তাকে ভেঙে পড়া পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত রাখে।

সাম্প্রতিক সময়ে তামিল সিনেমা ‘মেইয়াঝাগান’-এর একটি গল্পও সাইকেলকে স্মৃতির গভীরতম জায়গায় এনে বসায়। প্রায় ২০ বছর পর গ্রামের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে এক লোকের সঙ্গে এক তরুণের পরিচয় হয়। তরুণটি তাকে চেনে, তার অনেক কথা জানে, কিন্তু লোকটি তাকে চিনতে পারেন না। বিয়েবাড়ির সময়জুড়ে ছেলেটি তার পাশে থাকে, সঙ্গ দেয়, নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়, স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, রাতভর গল্প করে, পুরোনো স্মৃতি মনে করানোর চেষ্টা করে। তবু লোকটির মনে পড়ে না, কোথায় তিনি এই ছেলেটিকে দেখেছিলেন।

শেষে ছেলেটি জানায়, শহরে চলে যাওয়ার সময় লোকটি তাকে একটি সাইকেল দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সাইকেলেই বদলে যায় তার জীবন। সে স্কুলে যেতে পারে, তার বাবা সাইকেলে করে পোশাক বিক্রি করতে পারেন। সেই সাইকেল আজও তাদের বাড়িতে স্মৃতি হিসেবে রাখা আছে। মানুষটি সাইকেল দেখে আবেগে ভেঙে পড়েন, তবু ছেলেটিকে চিনতে পারেন না। আমরা অনেক সময় মানুষকে ভুলে যাই, কিন্তু একটি ছোট দয়া, একটি ছোট উপহার, একটি সাইকেলও কারও জীবনের পথ বদলে দিতে পারে।

সাইকেলের সৌন্দর্য এখানেই। এটি একদিকে সাধারণ, অন্যদিকে গভীর। এতে ইঞ্জিন নেই, জ্বালানি নেই, বড় কোনো জাঁকজমক নেই। তবু এটি মানুষকে চলতে শেখায়। সাইকেল ব্যক্তিস্বাধীনতার এক সহজ প্রতীক। যে শিশু প্রথম সাইকেল চালায়, সে প্রথমবার বুঝতে পারে নিজের শরীর দিয়ে নিজের গতি তৈরি করা যায়। যে কিশোর সাইকেল নিয়ে দূরের পথে বের হয়, সে প্রথমবার অনুভব করে, তার পৃথিবী শুধু বাড়ির উঠান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। যে শ্রমজীবী মানুষ সাইকেলে পণ্য বয়ে নেয়, তার কাছে সাইকেল উপার্জনের সঙ্গী। যে বাবা সন্তানকে ক্যারিয়ারে বসিয়ে স্কুলে নিয়ে যান, তার কাছে সাইকেল মমতার বাহন।

সাইকেল কখনো বাস্তবতার, কখনো আবার কল্পনারও বাহন। ফরাসি অ্যানিমেশন ‘দ্য ট্রিপলেটস অব বেলভিল’-এ সাইকেল রেস, পারিবারিক টান আর অদ্ভুত এক অভিযাত্রা মিলেমিশে এমন এক ভিজ্যুয়াল জগৎ তৈরি করে, যেখানে সাইকেলের চাকা যেন বাস্তব ও স্বপ্নের মাঝখানে ঘুরতে থাকে। আবার ‘দ্য ফ্লাইং স্কটসম্যান’ দেখায়, সাইকেল শুধু স্মৃতি বা শৈশবের জিনিস নয়, মানুষের অসম্ভবকে সম্ভব করার জেদেরও সঙ্গী। নিজের তৈরি সাইকেল নিয়ে বিশ্বরেকর্ডের স্বপ্ন দেখা এক সাইক্লিস্টের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গতি কখনো শুধু পায়ের শক্তিতে আসে না, আসে বিশ্বাস, কল্পনা ও না-হারার মানসিকতা থেকেও।

সাইকেল শরীরকে সচল রাখে, মনকে হালকা করে, পথকে কাছের করে এবং মানুষকে নিজের ভরসায় এগোনোর অনুভূতি দেয়। তবে সাইকেলের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো এর ভারসাম্যে। সাইকেল দাঁড়িয়ে থাকলে নিজে নিজে ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে না। তাকে চলতে হয়। চলার মধ্যেই তার স্থিরতা। জীবনেরও তো তাই। থেমে গেলে অনেক সময় ভেতরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। চলতে হয়, সামান্য কাঁপতে কাঁপতে হলেও চলতে হয়।

বিশ্ব সাইকেল দিবস ২০২৬
    শেয়ার করুন:
    মবের মুখে বিজিবির জব্দ করা গাড়ি ছিনিয়ে নিল চোরাকারবারিরা

    মবের মুখে বিজিবির জব্দ করা গাড়ি ছিনিয়ে নিল চোরাকারবারিরা

    ০৪ জুন ২০২৬, ০০:১২

    সাইবার-সিকিউরিটি জোরদারে ৫ দিনব্যাপী ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’

    সাইবার-সিকিউরিটি জোরদারে ৫ দিনব্যাপী ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’

    ০৪ জুন ২০২৬, ০০:০৫

    advertiseadvertise