তবে

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশু ধর্ষণের আলোচিত ঘটনার বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। দেরিতে হলেও বিষয়টি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে সেই খবর পেতে না পেতেই আরও দুটি ঘটনা নাড়া দিয়ে গেল দেশবাসীকে। এর একটি নাটোরে। সেখানকার আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে। তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে একসঙ্গে কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ডাকাতির পর এক গৃহবধূ ও তার কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে ছয়জনকে। একদিকে বিচার প্রক্রিয়া, অন্যদিকে ঘটনা চলমান। সমস্যা কোথায়? কেন থামছে না ধর্ষণ? কারণ স্পষ্ট। ওপর কাঠামোয় খোঁজা হচ্ছে এর সমাধান, যেখানে এর আরোগ্য সম্ভব নয়। কাজ করতে হবে গোড়ায়। তা না হলে প্রতিদিনই দৃশ্যের জন্ম হতে থাকবে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য ও বিশ্লেষণ, দেশে ধর্ষণ না থামার পেছনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, বিদ্যমান আইনের শ্লথপ্রয়োগ, দুর্বলতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাই প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। অতএব অনেকগুলো ফ্যাক্টর রয়েছে এখানে। একটি ছেড়ে আরেকটি নিয়ে কাজ করা সময়ের অপচয়।
এ ছাড়া সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, ভিকটিম ব্লেমিং, রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার তো আছেই। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব সামাজিক, আইনি কাঠামোগত ত্রুটি দূর করার পাশাপাশি সমাজ থেকে অপরাধের মানসিকতা এবং ভিকটিম ব্লেমিংয়ের সংস্কৃতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি। সবাই জানেন এই জরুরি বার্তা। তবে সেগুলো নিয়ে আদৌ কাজ হচ্ছে কি? হচ্ছে না বলেই বারবার একই ঘটনা ঘটছে। দুর্ভাগ্যক্রমে আগামী দিনগুলোয়ও ঘটতে থাকবে। এর থেকে আশু মুক্তি নেই। তবে মানুষ মুক্তি চায়। এই মুক্তি দিতে বাধ্য বর্তমান নির্বাচিত সরকার।




