মনে হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গ্যাস, জ্বালানি, নানা ধরনের পাথরসহ কত কিছুরই তো খনি আছে বিশ্বে। সেগুলো নিয়ে আবার যুদ্ধও লেগে আছে দেশে দেশে। হাজার হাজার কোটি টাকার এসব ব্যবসায় যেমন আছে বিপদ, তেমনি আছে আর্থিক লাভও। তবে এমনও একটা দিন আসবে, যখন মর্তের এসব ‘ঠুনকো খনি’ নিয়ে আর হাউকাউ থাকবে না একেবারেই। ব্যবসায়ীরা পৃথিবীর খনি ছেড়ে বিনিয়োগ করবেন চাঁদ ও মঙ্গলের খনিতে। ২০৩০ সালের মধ্যেই মহাকাশের এসব গ্রহ থেকে ধাতবসহ অসংখ্য বিরল মৌল খনন করে পৃথিবীতে পাঠাবে ভবিষ্যতের বড় বড় খনিজ প্রতিষ্ঠান। আসছে বিশ্বের এ পূর্বাভাস ২০২৫ সালে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘এসেনশিয়াল মিনারেলস অ্যাসোসিয়েশন’।
অনেকটা সায়েন্স ফিকশন সিনেমার কোনো দৃশ্য মনে হলেও, বর্তমানে চাঁদ ও মঙ্গলে খননের পদ্ধতি আবিষ্কার বিজ্ঞান অঙ্গনের একটি বড় গবেষণার অংশ। সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানি— উভয়ই পৃথিবী-বহির্ভূত সম্পদ আহরণ ও ব্যবহারের উপায় অনুসন্ধান করতে ব্যস্ত। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দীর্ঘমেয়াদে, মহাকাশে খনিজ আহরণ পৃথিবীতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোর চাহিদা মেটাতেও সহায়তা করতে পারে। ইলেকট্রনিকস, নবায়নযোগ্য (রিনিউঅ্যাবেল) শক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত অনেক উপাদান যেমন, রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট (বিরল মৃত্তিকা মৌল), প্ল্যাটিনাম-গোত্রীয় ধাতু এবং টাইটানিয়াম পৃথিবীতে সীমিত পরিমাণে থাকলেও সৌরজগতের অন্য কোথাও হয়তো তা প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেতে পারে। বিজ্ঞানীদল এ গবেষণায় সফল হলে চাঁদের মাটি বা বরফ থেকে অক্সিজেন আহরণ মহাকাশচারীদের সহায়তা করতে পারে এবং ফেরার যাত্রার জন্য রকেটের জ্বালানি উৎপাদন করতে পারে। এতে মহাকাশে যাত্রার খরচ কমবে এবং অভিযানের সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি। চাঁদে যে ধূলিকণা আর পাথর পাওয়া যায়, সেগুলোই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লোহা ও টাইটানিয়াম। বর্তমানে নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচি এবং অ্যাস্ট্রোবোটিক ও ইনটুইটিভ মেশিনসের মতো বেসরকারি অংশীদাররা এমন সব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে মনোনিবেশ করেছে, যেটির মাধ্যমে এই উপাদানগুলোর মানচিত্র তৈরি এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো আহরণ করা সম্ভব হবে। তাদের এ প্রজেক্টে এরই মধ্যে চাঁদের মেরুতে আবিষ্কৃত হয়েছে বরফ-পানি। ভবিষ্যতে এ বরফ খনন করে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হলে তা চাঁদে অবস্থিত মানুষের ঘাঁটিতে বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং হাইড্রোজেন জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহার করা যাবে।






