দেখা যাক

সাল ২০৩৫। প্রতিদিনের মতো পূর্বদিকে আকাশ লাল করে উঠেছে সূর্য। কিন্তু চিরচেনা সেই সূর্যের আলোয় নেই উষ্ণতা। বদলে গেছে পৃথিবীর পরিচিত ঋতুগুলোর রূপও। কোনো দেশে তীব্র ঠান্ডা আবার কোনো দেশে প্রচণ্ড গরম। বরফের চাদরে ঢেকে গেছে এমন অনেক অঞ্চল, যেখানে কয়েক বছর আগেও দেখা মেলেনি বরফের। ভবিষ্যতের এমন এক সম্ভাবনাই ২০১৫ সালে আলোচনায় এনেছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নর্থামব্রিয়ার একদল বিজ্ঞানী। তাদের পূর্বাভাস, ২০৩০ সালের পর পৃথিবী প্রবেশ করতে পারে এক ক্ষুদ্র বরফযুগে! এ বিষয়ে একই বছরে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন করে দ্য টেলিগ্রাফ।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, সূর্যের কার্যকলাপ কমে গেলে আগামী চার বছর পর যেকোনো সময় পৃথিবীতে তৈরি হতে পারে ক্ষুদ্র বরফযুগের মতো পরিস্থিতি। এই ধারণার পেছনে মূলত রয়েছে সূর্যের চৌম্বকীয় কার্যকলাপ নিয়ে গবেষণা। সেটির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সৌর গবেষকরা তৈরি করেছেন সূর্যের কার্যকলাপের একটি নতুন মডেল। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি ‘অভূতপূর্বভাবে নির্ভুল পূর্বাভাস’ দিতে সক্ষম। গবেষকরা জানিয়েছেন, সূর্যের অভ্যন্তরে তরল পদার্থের যে চলাচল, যেটিকে সূর্যের ১১ বছর মেয়াদি চক্র সৃষ্টির কারণ বলে মনে করা হয়ে থাকে, তা ২০৩০-এর দশকে একে অন্যের সঙ্গে মিলিত হবে। ওয়েলসের শহর ল্যানডুডনোয় ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি মিটিং’-এ দেওয়া এক উপস্থাপনায় অধ্যাপক ভ্যালেন্টিনা ঝারকোভা জানিয়েছেন, তরল পদার্থের দুটি ঢেউ একে অন্যের প্রভাবকে কার্যত নিষ্ক্রিয়’ করে দেবে, যার ফলে সৌর কার্যকলাপ কমে যাবে প্রায় ৬০ শতাংশ। তার ভাষ্য, ‘২০৩০ থেকে প্রায় ২০৪০ সালের মধ্যবর্তী চক্রে তরঙ্গ দুটি একে অন্যের হুবহু প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবে। এরা একই সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তবে সূর্যের বিপরীত গোলার্ধে।’ এ অবস্থা সৃষ্টি করবে বিঘ্ন, অর্থাৎ এরা একে অন্যকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে দেবে। ভ্যালেন্টিনা বলেছেন, “আমরা পূর্বাভাস দিচ্ছি, এর ফলে ‘মাউন্ডার মিনিমাম’ (সূর্য প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার অবস্থা)-এর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।” দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬৪৫ থেকে ১৭১৫ সালের মধ্যবর্তী সময়কালটিকে ‘মাউন্ডার মিনিমাম’ বলা হয়ে থাকে। এই সময়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় অনুভূত হয়েছিল তীব্র শীত।



