বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বহুরূপী মানুষ! ঘরে একরকম তো বাইরে আরেক রকম। পরিবারের কাছে যে ব্যক্তি চঞ্চল প্রকৃতির, বন্ধুদের কাছে সেই একই ব্যক্তি চুপচাপ স্বভাবের। একজন মানুষের একাধিক পরিচয়ের সঙ্গে ২০৪০ সালে যুক্ত হবে একটি বিশেষ, ভিন্নধর্মী জানাশোনা। সেটি হলো ডিজিটাল ব্যক্তিত্ব, বা ডিজিটাল পরিচয়। ইন্টারনেটের জগতে তার শুধু নিজের ওপর ভিত্তি করা একটি কার্টুন আভাটারই থাকবে না। থাকবে একদম হুবহু আপাদমস্তক সেই ব্যক্তির এক নতুন রূপ। ডিজিটাল নতুন এই উদ্ভাবনকে ঘিরেই গড়ে উঠছে ‘মেটাভার্স’। ২০৪০ সালের মধ্যে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে এটি। চৌদ্দ বছর পরের এমন পরিস্থিতি নিয়ে ২০২২ সালে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ সেন্টার।
মেটাভার্স ইন্টারনেটের থ্রিডি বা ত্রিমাত্রিক ভার্চুয়াল রূপ। এখানে মানুষ কম্পিউটারে বা স্ক্রিনে শুধু তাকিয়ে থাকবে না, বরং প্রযুক্তির সাহায্যে সেই ডিজিটাল জগতের ভেতরে করতে পারবে প্রবেশ। এটিতে সংযুক্ত থাকবে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), মিক্সড রিয়েলিটি (এমআর) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর)। ভবিষ্যতে ‘মেটাভার্স’ হবে অতিরিক্ত প্রচার, আশা নাকি হতাশার পরিস্থিতি, এটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ। বোধহয় এর সবই হবে। ২০৪০ সালের এই প্রযুক্তি বিষয়ে আরও জানার উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা জরিপে অংশ নেন প্রযুক্তিবিষয়ক বিজ্ঞানীরা। ৫৪ শতাংশ বিজ্ঞানীদের মতে, ২০৪০ সালের মধ্যে মেটাভার্স বিশ্ব জুড়ে ৫০ কোটি বা তার বেশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যন্ত উন্নত অংশে পরিণত হবে। বাকি ৪৬ শতাংশ বিজ্ঞানীরা আশা করেন ঠিক বিপরীত। তাদের মতে ভবিষ্যতে মেটাভার্স মানবজীবনে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে না। গুগল আর্থের সহ-নির্মাতা আভি বার-জিভ জরিপে লিখেছেন, ‘ভিআর মূলত বাস্তবতার সবচেয়ে সাধারণ সীমাবদ্ধতাগুলোকে, যেমন অবস্থান ও ভ্রমণ, পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মকানুন, এমনকি কখনো কখনো সময়কেও দূর করে দেয়; যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়কে প্রায়ই মনে হতে পারে কয়েক মিনিটের মতো এবং আমরা ঐতিহাসিক অতীত কিংবা কল্পিত ভবিষ্যতে ভ্রমণ করতে পারি।’





