অথচ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মঙ্গলবার রাত। সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহরের বি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়ক। এক তরুণীকে টেনে নেওয়া হচ্ছে কোমরে শিকল বেঁধে। সামনে থাকা এক ব্যক্তি টানছেন শিকল, পেছনে কাঁদতে কাঁদতে ওই তরুণী চেষ্টা করছেন হাত ও কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকার। তখন সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাকে মুখ খোলা রাখতে বলছেন— যেন মানুষ তাকে চেনে।
ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর। সেদিন চুরির অভিযোগে আটক করা হয় ওই তরুণীকে। পুলিশ বলছে, ওই তরুণী একটি দোকানের ক্যাশবাক্সে হাত দিয়েছিলেন। তখন তাকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ যায় সেখানে। কিন্তু তাদের জানানো হয়, বিষয়টি মীমাংসা হবে স্থানীয়ভাবে। তখন চলে যায় পুলিশ। এরপরই ওই তরুণীকে কোমরে শিকল বেঁধে টেনে নেওয়া হয় সড়কে। পরে অবশ্য দ্বিতীয়বার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। তবে চুরির অভিযোগে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি কিংবা তরুণীকে শিকলে বাঁধার দায়েও সে সময় কাউকে আটক করা হয়নি।
কিন্তু ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পর এবং সেটি নিয়ে আলোচনার-সমালোচনার পর তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে ওই তরুণীকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন-২০০৯-এর ৮৯ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তিকে সাধারণ নাগরিক আটক করতে পারেন। আর আটক করলেও তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশের কাছে বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে। সেটা না করলে বিষয়টি হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর আগে পুলিশের কাছে গুরুত্ব পায়নি ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারটি কিংবা অসচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছে পুলিশের চোখ।





