ফরহাদ নাইয়ার কবিতা

কবির প্রতিকৃতি। ফারজিন জামান খান
মৃত মাঘ মাস
কী দারুণ মাঘ মাস ক্ষেত সরিষার
ঋতুর অধিক বয় বায়ু বেশুমার
হরিণ উঁচিয়ে শিঙ ধায় শীতকাল
বাঘের পিঠেতে চড়ে তাড়ায় বিকাল
আমাকে তাড়ায় শুধু মনের হলুদ
পরানের পাখি ডাকে নাম হুদহুদ
সলোমন নই আমি স্যালমন ফিশ
যেদিকে সাঁতার কাটি অফিস অফিস
আরও কাটি অর্ধেক পুন্নিমার চাঁদ
চাঁদের লেজেতে করি আলুর আবাদ
ফুলকপি মুগ আর মসুরের ডাল
পিরিতের হাট ভাঙে হয় না সকাল
তুমি সেই ভাঙা হাটে মৃত জলাধার
টমেটোর রূপ ধরে আসিও আবার
উপপাদ্য
ঘুমের মধ্যে আমার বউ মরে গেছে, অথচ লোকেরা দাফন করতেছে আমারে। এত বুঝাইলাম, কেউ কি কিছু বোঝে নাই? আব্বা যখন কপালে চুমু খাইলো, তারে কানে কানে কইলাম, আব্বা, আমি তো মরি নাই, এদের থামাও। আব্বা কইলো, তুই চুপ কর, মরা মানুষের এত কথা কী! বেঁচে যে আছি এইটা কেমনে বুঝামু! আম্মারে ডাকি, মা এত শব্দ করে কানতেছিল, শোনে নাই। ভাইবোনরা বিলাপে ব্যস্ত। বউ মরে গেছে আমার। বন্ধুদের বললাম, দেখ, আজরাইলের হাতে আমার বউয়ের জান, অথচ তারা তাকায়া আছে আমার দিকে, যেন আমি মিথ্যাবাদী। মাবুদ, আমি যে মরি নাই, প্রমাণ দেব কেমনে, আমি তো উপপাদ্য না।
গুলশানের মেয়েরা
কহিনুরের মাকে নিয়ে আমার কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে না। গ্রামে বড় হইলেও আমার ভালো লাগে গুলশানের মেয়ে। তারা যখন হাঁটে মনে হয় হাঁটছে না, মাটিতে পড়ছে ফুলের স্পর্শ। যেন গাছ থেকে নাগেশ্বর ফুল মাটিতে উড়ে উড়ে পড়তেছে। তারা যখন কথা বলে, মনে হবে টিয়া পাখির ঠোঁট থেকে বের হচ্ছে রাগ ভৈরবী আর হাসলে নদীর কলকল ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাই না। গুলশানে গেলে মনে হয় ন্যাচারের খুব কাছে চলে এসেছি। কোন একটা সারস পাখি ঘাড় উঁচিয়ে কল করছে উবার। কোন একটা ফিঙে লেজ নাড়িয়ে নাকের সামনে দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো পাখি স্রেফ বুলবুলি, তাদের ব্যাকসাইট দেখে আপনার চোখ সরবে না। মনে হবে এরকম লাল পাছার একটা বুলবুলিকে পুষি। শপিংমলগুলারে মনে হবে শালিমার বাগান সেখানে বিচিত্র পাখি আর পাখনা কিচিরমিচির করছে। গুলশানের মেয়েরা যখন আইস ক্রিম খায় আমি ফিল করতে পারি হিমালয়ের বরফ কীভাবে গলে যায়। ওরা কি থুতু ফেলে? ফেললেও মনে হয় বেসিনে গড়াগড়ি খাচ্ছে দুইটা গোল্ড ফিশ।
নীলা
গভীর আলোর মাছ, এখানে সকাল হয়। সাঁতরায় দুয়েকটা বন্য গাড়ির চিৎকার আর সহস্র তিমির হুইসেল। নীলাকে নীল তিমি ভেবে ঢুকে পড়েছিলাম তার পেটের সন্ধ্যায়। সেখানে পক্ষীকুলের ভেতর দুইটা হরিণ। সেখানে বাঘের ঘোঁৎ ঘোঁৎ চুরি করে নিয়েছিলো যে জু, গৃহ ভেবে তার ভেতর ঢুকে পড়েছে আমার সকল বৃষ্টি ও বিস্ময়। কার্পেট ভিজে লাল ফুলগুলো হয়েছে তাজা। দেয়ালে আঁকা মেঘ ডাকছে অথচ আমার এখন তোমার কাছে যেতে ইচ্ছে করছে, এই জুয়ের বাইরে অন্য জুয়ে। তোমার পোষা খচ্চরের পিঠে আমার চিন্তা ও িচৎকার রেখে গভীর সমুদ্র সংকটে চলে যাব একদিন। সকল জাহাজ নিয়ে ভাসব তরঙ্গ ত্রিনয়নে । কোনো কূলে ভেড়াব না। তীর থেকে দূরে, িভড় থেকে আরও দূরে, নীড় থেকে আরও আরও দূরে ভাসব নীলা।
চতুর দশ
দেখা ভুলে গেছি পরানের ফাইরুজ
আমে জামে মন নাই দেখি কাউফলে
তোমাকে দেখার দিনে ফাটা তরমুজ
ভেতরে লোহার লাল এখনো কি জ্বলে?
বাহিরে রুপার মেঘ ভেসেছিল গোল
যেন নূপুর তোমার, জড়িয়ে পাদুটি
রাস্তায় উঠবে বেজে পথের ভূগোল
ভ্রমণের কাছে রেখে চোখের ভ্রুকুটি।
যদি যাই ততদূর, করে আসমান
পিরিতের গান গেয়ে উড়াব বোরাক
পুড়িয়ে তারার ছাই আগুন সমান
করব রুহের ধান তোমার খোরাক
আমার সকল হাত অজুহাতসহ
চোখেতে মরিচ মারে তোমার বিরহ।




