কণিকা
গালিভার্স ট্রাভেলসের ৩০০ বছর

জোনাথন সুইফটের বিখ্যাত বই গালিভার্স ট্রাভেলস প্রকাশের ৩০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। অনেকেই বইটিকে শুধু শিশুদের গল্প ভাবেন। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লেখক এড সাইমন বলেছেন, আসলে এটি সে সময়ের ইউরোপের ‘যুক্তিবাদ’ আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা। সুইফট ছিলেন আয়ারল্যান্ডের ধর্মযাজক ও দেশপ্রেমিক। তার বইয়ে দেখানো হয়েছে— শুধু যুক্তি দিয়ে মানুষকে বিচার করলে এবং অনুভূতি ও দয়াকে বাদ দিলে সমাজে অন্যায়, অত্যাচার ও মানুষকে যন্ত্রের মতো ব্যবহার করা বাড়ে। গল্পে গালিভার প্রথমে লিলিপুট নামের দেশে যায়, যেখানে মানুষগুলো খুব ছোট। তারা আকারে ছোট, মনেও সংকীর্ণ; ডিম কোন দিক থেকে ভাঙবে তা নিয়ে তারা ভয়ানক ঝগড়া করে। পরে গালিভার ব্রবডিংনাগে যায়, যেখানে মানুষরা বিশাল আকারের, কিন্তু বেশ উদার ও বুদ্ধিমান। এরপর লাপুটা নামের ভাসমান দ্বীপে যায়, যেখানে শিক্ষিত লোকেরা দিনভর অদ্ভুত তত্ত্ব ভাবে, কিন্তু নিচের সাধারণ মানুষদের ওপর অত্যাচার চালায়। মানুষদের এমন আচরণ দেখে গালিভারের মন ভেঙে যায়; ফিরে এসে সে মানুষের সমাজে থাকতে না পেরে ঘোড়ার আস্তাবলে থাকতে শুরু করে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সুইফটের বই আজও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজও অনেক জায়গায় যুক্তির নামে মানুষকে সংখ্যা, তথ্য বা যন্ত্রের মতো দেখা হয়; শিবির, যুদ্ধ, বৈষম্য ও প্রযুক্তির অপব্যবহার বাড়ছে। ইউটোপিয়া বা আদর্শ সমাজ আছে, কিন্তু আমাদের জন্য নয়।
লিটারারি হাব অবলম্বনে মাসুম বায়েজীদ



