প্রচ্ছন্নের ভাবমূর্তি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মানসিক বাস্তবতার সচিত্র ধারাবিবরণীই কি কবিতা? কথা হচ্ছে, কার কবিতা? জসীম উদ্দীনের লেখা কবিতায় যে গ্রামখানি প্রস্ফুটিত, যে বাংলা জীবনানন্দে, সেই গ্রামই কি উপস্থিত আজিকার মাসুদার রহমানের কবিতায়? যে নগর প্যারিস, বোদলেয়রের, সেই নগরই কি শহীদ কাদরীর পল্টন? যে ব্যথা অন্তর্লীন বিনয়ের মধ্যে, ব্যথার স্বরূপ নিশ্চয়ই একই রকম নয় আবুল হাসানের মধ্যে! যিনি লিখছেন, তার ভাব, ভাষার প্রস্তুতি, বলার ধরন একান্তই তার স্বনির্মিত। তার সঙ্গে অন্য কোনো স্বোপার্জনের মিল থাকবে না, এটিই স্বাভাবিক ও সুন্দর। আলোচ্য কবিতার সঙ্গে একটা বোঝাপড়া করতে চেয়ে পড়েছি। মনে হলো, কবিতাকে তিনি পাঠকের সামনে হাজির করতে চাইছেন তার একটি তৈরি করা ভঙ্গিতে। সেই ভঙ্গির সঙ্গে সচরাচর কবিতা-পাঠকের খুব বেশি পরিচয় নাও থাকতে পারে। এতে কোনো সমস্যাও নেই। যে যেমন দিগন্ত নির্মাণ করতে আগ্রহী, সেটি তার স্বাধীনতা। স্বাধীনতার জন্য মানুষ কত কী করে! পাঠকেরও স্বাধীনতা অবাধ, লেখকের চেয়ে বেশিই। ইচ্ছে হলে পড়বে, না হলে পড়বেই না। প্রচ্ছন্নের রূপরেখা কেমন, তারও সীমানা নেই। প্রচ্ছন্নের ভাবমূর্তির কোনো অবয়ব কি দেখানো যাবে? না গেলেও, আবারও বলছি, নো প্রবলেম। আলোচ্য কবি অনেকটাই প্রচ্ছন্নভাবে বলছেন তার কবিতাগুলোর ভেতর দিয়ে। হয়তো কানেকটিভিটিকে তিনি তার মতো করে দেখছেন, পাঠকের জায়গা থেকে নয়। আবার এ-ও সত্য, পাঠক তো এক হাজার প্রকারের। কার কথা কে ভাববে, কে ভাববে না, এর কোনো সংবিধান নেই। স্বাধীনতা, অপার স্বাধীনতা। তেমন গন্তব্যেই নিয়ে যাচ্ছে না, এমন পথেও কিছুদূর হাঁটাহাঁটি হতে পারে। কোনো অর্থবহতা দিচ্ছে না, এমন অনেক দুপুর আসে, আমরা কেউ হয়তো সেই দুপুরে বসে আসন্ন সময় বলতে বিকালের কথা ভাবি, কেউ হয়তো আসন্ন সময় বলতে অনাগত বছরটির কথা ভাবি, কেউ হয়তো ভাবি, আগামী জীবন কোথায় গিয়ে দাঁড় করিয়ে দেবে মাননীয়-দানবীয় জীবনকে! জানি না, জানা নেই। এক দুপুরে আমি কাঁচা আমের জন্য বাগানে ছুরি নিয়ে ঘুরছিলাম। এক দুপুরে এমন বৃষ্টি হলো, স্কুল মাঠ ভেসে গেল। এক দুপুরে আত্মহত্যা করল সেই মেয়ে, যে কি না নবম শ্রেণিতে পড়ত, তার কথা এসে গেল উনিশ বছর পরে, একটি কবিতায়। সবই সেই প্রচ্ছন্নতার অংশ। অংশও নয়, টুকরো টুকরো ইমেজ। ইমেজ আবার কি! অনুভূতি? অনুভূতি আবার কী!
লেখক : কবি



