Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
জামালের ‘সেলুন লাইব্রেরি’
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কাজললেখা

তুমুল লেখকদের এখন...

  • কাজললেখা সবসময় খবর রাখতে চায় লেখক-সাহিত্যিকদের। তারা কী লিখছেন কী ভাবছেন তা নিয়ে সবসময়ই আগ্রহ থাকে পাঠকের। তাদের আগ্রহ মেটাতে এ সময়ের ৫ অগ্রজ লেখকের খবর নিতে গিয়ে কথা বলেছেন অরবিন্দ পান্তি
অরবিন্দ পান্তি
agamir somoy
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪২
তুমুল লেখকদের এখন...

হাসনাত আবদুল হাই

লেখক হিসেবে তিনি এক বিস্ময়। এ বয়সে এসেও এত কর্মমুখর থাকেন, যা তরুণদেরও হার মানায়। এখনো দুই হাতে লিখছেন, পড়ছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, আড্ডা দিচ্ছেন। নতুন লেখকদের বই পড়ে মতামত দিচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলায় মেধার অভাব নেই; পরিশ্রম করার মানসিকতার অভাব। এখান থেকে বের হওয়া দরকার। সেই তাগিদ, প্রেরণা আত্মার ভেতর থেকে এখনো সমানভাবে উঠে আসে, তাকে বসিয়ে দেয় লেখার কফিশপে, পড়ার টেবিলে। তাই এখনো তার মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে আসে ‘শেকসপিয়ার অ্যান্ড কোম্পানি’র মতো এক রুদ্ধশ্বাস ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তিনি শিল্পকলা নিয়ে লিখেছেন, সেসব বই পড়ার টেবিলে শোভাবর্ধন করে, মনের গহিন সুবাসিত করে তোলে। শিল্পকলা নিয়ে তার মতো পাণ্ডিত্য কম লেখকেরই আছে। এবার তিনি আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ শুরু করেছেন। ভারত ও ইউরোপে নারীদের শিল্পকলাচর্চা, সেই শুরু থেকে, তাদের জীবন ও কর্ম, সংগ্রাম জানতে তিনি পড়াশোনা শুরু করেছেন। আপাতত এসব বিষয়ের বইগুলো এখন তার ধ্যান-জ্ঞান। ‘শিল্পকলায় নারী’ শীর্ষক গ্রন্থে তিনি ভারত ও ইউরোপের শিল্পকলায় নারীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলবেন। ইউরোপে নারীরা দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত থাকলেও তারা রেনেসাঁ যুগ থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত শিল্পকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সমাজের গভীরে থাকা নারীদের কণ্ঠস্বর, সংগ্রাম ও আত্মপ্রকাশের বহুবিধ দিক তুলে আনতে লেখক মালমসলা জোগাড় করছেন, এক অনন্য লড়াইয়ে নামার জন্য প্রস্তুত নিচ্ছেন। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও কখনো কখনো হতাশাও কাজ করছে যে কাজটা শেষ হবে তো! এসবের মধ্যে মাসে কয়েকটি কলাম লেখেন সমকালীন রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। সম্প্রতি জর্জ সেবাল্ডের বই পড়ে রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত জার্মান-ইংরেজি সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং কবি। তিনি স্মৃতি, স্মৃতিভ্রম, ব্যক্তিগত ও যৌথ পরিচয় এবং সভ্যতার অবক্ষয় নিয়ে লেখা তার অনন্য গদ্যশৈলীর জন্য পরিচিত। ‘ভার্টিগো’র মতো বই পড়ে তিনি রীতিমতো মুগ্ধ। কাহিনিহীন প্লট, গাছপালা, রাস্তার এমন বর্ণনার বই তিনি আগে কেন পড়েননি বলে একটু আফসোসও হচ্ছে। এবার বুকার পেলেন তাইওয়ানের এক তরুণ লেখিকা, জানালেন নোবেল সম্পর্কিত মতামত। হাং কান বুকার পর্যন্ত ঠিক ছিল, নোবেল কখনোই নয়। তার মতো কত দুর্বল লেখক ভূরাজনৈতিক কারণে নোবেল পেয়েছেন, সামনে পাবেন— এটা ভাবলেই হাসনাত আবদুল হাইয়ের মন ভারী হয়— সর্বোচ্চ পুরস্কারও রাজনৈতিক, দেশমুখী হয়ে গেছে।

আনোয়ারা সৈয়দ হক

লেখকের লেখায় কপোতাক্ষের সৌন্দর্য আছে, একটা ধ্রুপদি টান আছে। উপন্যাস, ছোটগল্প, শিশুতোষ, প্রবন্ধ, ভ্রমণকথা, স্মৃতিকথার অলৌকিক মায়াস্রোতে অবগাহন করেছেন নিজস্ব ভঙ্গিমায়। দীর্ঘ সময়ের ঋদ্ধ সময়তরীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন তিনি শিল্পের অমৃত ভেলা। শেষ বই বের হয়েছে ২০২৪ সালে ‘সময় বহিয়া গেল’— মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। তবে বইয়ের নামের মতো একটা খেদ আছে লেখকের আত্মাজুড়ে, যা সব লেখকেরই থাকে। এই খেদ থেকে আরও ভালো লেখার, ধ্রুপদি কিছু লেখার পরিশ্রম শুরু হয়। বাস্তবজীবনের অভিঘাতে আনোয়ারা সৈয়দ হক থেমে যাননি; বরং তার সাহিত্যের আখ্যান ও চরিত্রে সেসবের প্রতিফলন চোখে পড়ে। গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ কিংবা শিশুতোষ লেখায় তার প্রমাণ স্পষ্ট। শৈশবে পরিবার ও সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি স্বাধীনভাবে বাঁচতে চেয়েছেন। নিজ পরিবারে যে দুঃসহ অচলায়তন তৈরি হয়েছিল, তিনি সেটা ভাঙতে চেয়েছেন। তাই আক্ষেপের সঙ্গে বলেছেন, ‘জন্মের আগে যদি বক্তব্য থাকত, তাহলে ঈশ্বরের কাছে নতজানু হয়ে প্রার্থনা করতাম যে এরকম একটি সংসারে, এমন একটি সময়ে এবং এরকম একটি যুগে তিনি আমাকে জন্ম না দেন। কিন্তু আমার সে সুযোগ ছিল না। পৃথিবীর এমন একটি অবহেলিত জনপদে, এরকম একটি শঙ্কার সময়, এরকম একটি বিশৃঙ্খল সময়েই সংসারে পাঠানোর আগে ঈশ্বর আমাকে কোনো লাল বিপদ সংকেত দেননি।’ আনোয়ারা সৈয়দ হক রচনার সুকৌশল বর্ণনার ভেতরে এসব দুঃসহ কুয়াশার এক বনায়ন তৈরি করেন। কখনো সরাসরি, কখনো বা রূপকে; কখনো বাদ-প্রতিবাদে, ক্ষোভে, ক্ষুব্ধ সংলাপে। প্রয়োজনে স্পষ্ট চিৎকারে কথা বলেন বিভিন্ন চরিত্রের মুখে। সবই লেখকের জীবনদর্শন থেকেই উদ্ভূত, সংকলিত। ‘সময় বহিয়া গেল’ উপন্যাসসহ বিভিন্ন উপন্যাস, গল্প তার উজ্জ্বল স্মারক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় আপন প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেও আবারও শুরু করেছেন ধ্রুপদি সাহিত্যের অলিগলিতে পদচারণা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়দের লেখা আবার পড়ছেন। কিছুদিন আগে ঘুরে এলেন নিজ জেলা যশোর থেকে। শহরের সবচেয়ে পুরনো ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে সময় কাটিয়েছেন। লেখক, শিল্পী, নাট্যকর্মীদের সঙ্গে তুমুল আড্ডায় মেতেছেন, যা তার চোখ ও মননকে আরও উজ্জীবিত করেছে। দেশের শক্তিমান লেখক সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে সময় কাটানো জীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিজীবনের চরৈবেতি, তিক্ত ও মুগ্ধতার যাপনসমুদ্র নিয়ে তিনি লিখছেন। আমরা সেই স্বর্ণাক্ষরগুলোর পথ চেয়ে রইলাম।

সেলিনা হোসেন

মানুষের সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন এবং নারীর অধিকার নিয়ে তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন। অন্তর্দৃষ্টির গভীরতা ও লড়াকু জীবনের অনুসন্ধান আজীবন তার সাহিত্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে। ​সেলিনা হোসেনের বড় সার্থকতা হলো তিনি ইতিহাসকে কেবল শুকনো তথ্য হিসেবে তুলে ধরেননি, বরং ইতিহাসের পাতায় উপেক্ষিত সাধারণ মানুষকে সেই ইতিহাসের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে কীভাবে ভাষা আন্দোলন পুরো জাতিকে জাগিয়ে তুলল, তা তিনি উপন্যাসে মূর্ত করেছেন। হাঙর নদী গ্রেনেড-এর মতো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসে সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ দেখিয়েছেন। ​অদ্বৈত মল্লবর্মণ বা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সেলিনা হোসেনও মাটির কাছাকাছি থাকা নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষের জীবনকে তার সাহিত্যের উপজীব্য করেছেন। বিশেষ করে নদী ও সমুদ্র উপকূলের মানুষের জীবন তার লেখায় প্রবলভাবে এসেছে। সমুদ্র উপকূলের জেলেদের জীবনের চরম অনিশ্চয়তা, মহাজনদের শোষণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার গল্প উঠে এসেছে। তার বহু গল্প ও উপন্যাসে নদী কেবল একটি ভৌগোলিক উপাদান নয়, নদী সেখানে একটি চরিত্র। নদী যেমন মানুষের জীবন বাঁচায়, তেমনই ভাঙনে সব কেড়ে নেয়—এই দ্বান্দ্বিক জীবনবাস্তবতা তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন অত্যন্ত নিপুণভাবে। ​নারীবাদী সাহিত্যিকের অভাব নেই, তবে সেলিনা হোসেনের নারী চরিত্ররা অনন্য। তারা সস্তা রোমান্টিকতায় ভোগে না কিংবা পুরুষতন্ত্রের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে শুধু চোখের জল ফেলে না। তার উপন্যাসের নারীরা প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর বুড়ি কিংবা তার অন্যান্য গল্পের নারী চরিত্ররা নিজেদের অধিকার ও দেশের প্রয়োজনে চরম সাহসী ভূমিকা পালন করে। চর্যাপদের সময়কাল নিয়ে লেখা উপন্যাসে তৎকালীন সমাজের নারীর অবস্থান ও তাদের ভেতরের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষাকে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। গ্রামীণ ও আঞ্চলিক শব্দের পরিমিত ব্যবহার তার কথাসাহিত্যকে মাটির কাছাকাছি নিয়ে গেছে, অথচ তা কখনোই আঞ্চলিকতার বৃত্তে বন্দি হয়ে থাকেনি। ​সেলিনা হোসেনের সাহিত্য হলো ‘বাঙালির আত্মপরিচয় খোঁজার স্মারক’। তিনি ব্যক্তিমানুষের সুখ-দুঃখকে সবসময় বৃহত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছেন। সেলিনা হোসেন অসুস্থ। আসুন, তাকে সতত প্রার্থনায় রাখি।

মঈনুল আহসান সাবের

বাংলাদেশের সমকালীন কথাসাহিত্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় লেখক। আশির দশকের শুরুতে কথাসাহিত্যে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। তিনি তার নিজস্ব সহজ-সরল অথচ তীক্ষ্ণ ও সাবলীল লেখার শৈলী দিয়ে বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছেন। জনপ্রিয় ধারার সাহিত্য রচনার মোহে তিনি কখনো অবগাহন করেননি। অন্যরা জনপ্রিয় কাতারে এগিয়ে গেলেও তথাকথিত জনপ্রিয় লেখক নন তিনি। সমাজের একজন নির্বিকার দর্শক, ভাঁড়দের ভাঁড়ামি তিনি প্রত্যক্ষ করেন। ভাঁড়দের নানা কীর্তি-কাহিনি তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তুলে আনেন। সত্যি বলতে, তার মতো শক্তিমান কথাসাহিত্যিক বাংলা ভাষাতেই বিরল। বিকাশমান মধ্যবিত্ত সমাজের মনোজগতের জটিল টানাপড়েন তিনি গল্পচ্ছলে সহজভাবে উপস্থাপন করেন। খুব অসাধারণভাবে চরিত্র নির্মাণ, গভীর মনস্তত্ত্ব তার লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তার লেখার আলাদা ভক্তকুলও আছে। কাউকে আদর্শ হিসেবে না মানলেও আদর্শ লেখক যে অনেক আছেন, যাদের লেখা পড়ে শেখা যায়, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেন। ‘পরাস্ত সহিস’ তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। যা এখন ধ্রুপদি তকমায় অভিষিক্ত। সাতটি গল্পের গল্পগ্রন্থে ‘পরাস্ত সহিস’ নামে কোনো গল্প নেই। থাকলে সামগ্রিক অবস্থাটা ধরার যে চেষ্টা, ব্যর্থ হয়ে যেত। সেই শুরু, এখনো চলছে। সেই গোটানো স্বভাব, আছে এখনো। ভালোলাগার বিষয় গল্প। পরাস্ত সহিস কে বা কারা। লেখক এক জায়গায় বলছেন, ‘পরাস্ত সহিস আমি, আমার বাবাও, আমাদের পাশের বাড়ির লোকটি, কিংবা বইটির কম্পোজ, ছাপা, বাঁধাইয়ে যারা ছিলেন, যারা ক্রেতা হিসেবে ছিলেন, প্রশংসা করে যারা বইটির আলোচনা লিখেছিলেন, তারা।’ সেই আশির দশক বা এখন— তেমন কোনো পার্থক্য নেই। রোজকার জীবন থেমে থাকে না, থমকে থমকে চলেছে, এখনো চলছে। ধর্ষণ, টাকা পাচার, ধর্ম ব্যবসা, রাজনৈতিক অন্ধতা, দলকানা জাতি হিসেবে পরিপক্ব বাঙালি। তবু মঈনুল আহসান সাবের এখনো আস্থা রাখেন, মধ্যবিত্তের বিকাশ নিয়ে, রেমিট্যান্স গার্মেন্টস, আদমের কারবার কীভাবে কাঁড়ি কাঁড়ি কাঁচা টাকা আনল আর বদলে দিল অপরিণত, অপ্রস্তুত সমাজ ও মানুষকে— এসব নিয়ে উপন্যাস লিখবেন। কিন্তু সময় তো চলে যাচ্ছে হু হু করে। যিনি মাত্র ১৯-২০ বছরে মাস্টারপিস সব গল্প লিখতে পারেন, জীবন পছন্দমতো উড়িয়ে-পুড়িয়ে-ফুরিয়ে ফেলার তা অকপটে বলতে পারেন, তিনি পরাস্ত সহিস হতে পারেন না! ডাক্তারের কাছে নিয়মিত যাচ্ছেন মঈনুল আহসান সাবের।

মোরশেদ শফিউল হাসান

কবি হতে চেয়েছিলেন, বেশিরভাগ লেখকের মতো কবিতা দিয়ে লেখালেখি শুরু করলেও ছাত্রজীবনেই  শরিফ  ও গফুর মিয়ার ক্যানটিনের আড্ডা,  লিটলম্যাগ ও সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক আন্দোলন এবং তা থেকে সৃষ্ট দায়বোধ তাকে প্রবন্ধের জগতে টেনে নিয়ে যায়। প্রথমদিকে পত্রিকা বা বইয়ের পাতায় কালো কালির হরফে নিজের নাম দেখার আনন্দ, তারপর প্রবন্ধ লেখার জন্য প্রয়োজনীয় মেধা ও মননের অধিকারী বলে স্বীকৃতি পাওয়ার ফল তাকে কবিতা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিল। সম্প্রতি ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে আলাপচারিতায় আবারও কবিতায় ফেরার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন। যদিও কতটা সম্ভব হবে বা আদৌ পারবেন কি না, তা নিয়ে নিজেই সন্দিহান। মাঝে দীর্ঘ সময় সচেতন ও সযত্ন প্রয়াসে যে সভা-সমাবেশ বা সংগঠন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন, ইদানীং তা আর সম্ভব হচ্ছে না। এই জুন মাসেই ঢাকার বাইরে তিনি তিনটি বক্তৃতা করবেন। বিভিন্ন সভা-সেমিনার‌ও সত্যিকার কাজের অনেকটা সম‌য় খেয়ে ফেলছে। লেখালেখির ক্ষেত্রে ইতিহাস ও সমকালকে নিরাসক্ত দৃষ্টিতে বিচার-বিশ্লেষণের যোগ্যতা রাখেন এমন দুর্লভ হয়ে আসা ব্যক্তিদের একজন তিনি। বিচিত্র সময় কাটানো, বিচিত্র মানুষের সান্নিধ্য পাওয়া, চট্টগ্রামে কাটানো স্বর্ণসময় নিয়ে তিনি লিখেছেন, সেসব কয়েকটি পত্রিকায় বেরও হয়েছে, আর কয়েকটি পরিচ্ছেদ লিখে বের করবেন স্মৃতিকথামূলক বই ‘বেড়ে ওঠার কাল’। এরপর ‘স্বাধীনতার পটভূমি: ১৯৬০ দশক’-এর দ্বিতীয় খণ্ড ‘স্বাধীনতা অভিমুখে’ লেখা শুরু করবেন। আর পাঠক সমাবেশ থেকে সম্প্রতি বের হয়েছে ‘সময়ের পথরেখা’ গ্রন্থ। মোরশেদ শফিউল হাসান খানিকটা অসুস্থ হলেও স্মৃতিশক্তি কমে গেছে বলে আক্ষেপ করলেও চাকরি ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলে প্রতিনিয়ত নিষ্ঠার সঙ্গে পঠন-পাঠন, দেশ-বিদেশের রাজনীতি-অর্থনীতি-সংস্কৃতির নিগূঢ় বিশ্লেষণ, বাংলাদেশের সংকট ও ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরব, সেখানে সরকার বা বিরোধীদলীয় বাছবিচার নেই, জাতি-গোষ্ঠী-ধর্ম-রাষ্ট্র নির্বিশেষে নিরপেক্ষতায় জারিত সেসব লেখা সঞ্চিত হয়েছে অনুপম প্রকাশনী থেকে বের হওয়া ‘হাওয়ার গায়ে লেখাজোখা: দহনকালের দিনলিপি’ দ্বিতীয় খণ্ডে। বইটির পাতায় পাতায় বাংলাদেশ তো বটেই, পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলিও চাক্ষুষ হবে।


সাহিত্যিকলেখক
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    দূষণের শুরু আমাদের ঘর থেকেই

    দূষণের শুরু আমাদের ঘর থেকেই

    ০৫ জুন ২০২৬, ০১:১৭

    ঢাকায় হাকান ফিদান, সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা

    ঢাকায় হাকান ফিদান, সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা

    ০৫ জুন ২০২৬, ০০:১৮

    সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ছাড়

    সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ছাড়

    ০৫ জুন ২০২৬, ০০:২০

    জলবায়ু মোকাবিলায় অগ্রাধিকার পাবে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ

    জলবায়ু মোকাবিলায় অগ্রাধিকার পাবে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ

    ০৫ জুন ২০২৬, ০১:১৬

    অর্থ উঠানোর পর ব্যবসায় ধস

    অর্থ উঠানোর পর ব্যবসায় ধস

    ০৫ জুন ২০২৬, ০০:৩৯

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ

    ০৫ জুন ২০২৬, ০০:৩৮

    বিদেশি বিনিয়োগ প্রণোদনা নীতিমালা অনুমোদন

    বিদেশি বিনিয়োগ প্রণোদনা নীতিমালা অনুমোদন

    ০৫ জুন ২০২৬, ০১:০৬

    ফিরছে জীববৈচিত্র্য, দ্বীপবাসী জীবিকার সংকটে

    ফিরছে জীববৈচিত্র্য, দ্বীপবাসী জীবিকার সংকটে

    ০৫ জুন ২০২৬, ০০:৫৯

    কৃষকের হাটে কৃষক নেই

    কৃষকের হাটে কৃষক নেই

    ০৫ জুন ২০২৬, ০০:৩৩

    দূষণের দেশে ২২৮ পরিবেশ মামলা

    দূষণের দেশে ২২৮ পরিবেশ মামলা

    ০৫ জুন ২০২৬, ০০:৫৫

    বন্ধ কারখানা চালুর বহুমুখী উদ্যোগ

    বন্ধ কারখানা চালুর বহুমুখী উদ্যোগ

    ০৫ জুন ২০২৬, ০০:১৫

    নয়াদিল্লির হোটেল অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশির মৃত্যু

    নয়াদিল্লির হোটেল অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশির মৃত্যু

    ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৮

    নোয়াখালীতে ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

    নোয়াখালীতে ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

    ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৪২

    ‘চোখে ভাসছে ছেলে দুটি, কীভাবে ভুলি’

    ‘চোখে ভাসছে ছেলে দুটি, কীভাবে ভুলি’

    ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮

    বৈষম্যের অভিযোগ তুলে অবসরের আবেদন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের

    বৈষম্যের অভিযোগ তুলে অবসরের আবেদন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের

    ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:০৮

    advertiseadvertise