Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
৫০ বছর ধরে বর্জ্যমুক্ত রাখছেন রাস্তা-বাজার
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কাজললেখা

না রীতা না নীরা

নাসিমা আনিস
agamir somoy
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯
না রীতা না নীরা

অলংকরণ: ফারজিন জামান খান

শহরের প্রান্তে এত সুন্দর একটা হোটেল আছে, রীতা না জানালে কে জানত! গাছপালায় ছায়ানিবিড় শান্ত শান্ত। ঝুলে পড়া কৃষ্ণচূড়ার মতো বাড়ির লাল ছাদটা, হঠাৎ দর্শনে দূর থেকে মনে হতে পারে প্রাচীন কোনো পোস্টঅফিস কিংবা জমিদারের কাচারি। আর দুপুরের আলোটাও নরম, শীতের দুপুর বলেই। হাইওয়ের পাশে নয়নতারা রেস্টুরেন্টটাকে দেখিয়ে ড্রাইভারকে বলেছিলাম, এখানে রাখো।

আজ অফিস ছিল না। দুটো জরুরি মিটিং ছিল মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে, তারপর ড্রাইভারকে ছুটি দেওয়ার কথা ছিল। এখন সে বিরক্ত হবে কিন্তু গোয়েন্দাগিরি করবে না। যদিও ড্রাইভাররা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা!

তো রীতার সঙ্গে আমার আলাপ অল্পদিনের। কর্তাব্যক্তিদের অনেকের নানা বদভ্যাস সর্বজনবিদিত। আমার বদনাম নাই বাজারে সে কথা আমি হলফ করে বলতে পারি। কেন? সুযোগ হয়নি তাই? না, সেটা কারণ না। আমি সবসময় বিশ্বাস করতাম এসব করে শেষ পর্যন্ত বিপদই হয়। যদিও কোনো বুদ্ধিমতী মহিলা কলিগ, স্থিতধী মেয়ে কি মহিলা আমাকে খুবই আন্দোলিত করে, তার সম্পর্কে কৌতূহল জাগে, আবার তার সম্পর্কে অধিক জানা থেকে বিরতও রাখে। আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি, বুদ্ধিমতী মেয়েদের মধ্যে একটা অসাধারণ দীপ্তি থাকে, মানে আলোকচ্ছটা। যদি কখনো নীরাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করত, তবে এদেরই কাউকে ভালোবাসতাম। চেখভের লক্ষ্মী মেয়ে ওলেনকার মতো মেয়ে আমার পছন্দ নয়। ওলেনকা সেই মেয়ে, যার নিজের কোনো মতামত নেই। বলবার মতো কথা হলো, যার সান্নিধ্যে সে বাস করে তার কথাগুলোই। সে থিয়েটারওয়ালা কি কাঠের ব্যবসায়ী, কি পশুর ডাক্তার, যে কেউ হতে পারে। হায়, লক্ষ্মী মেয়ে ওলেনকা! এখন ড্রাইভারকে ছেড়ে দিয়ে গুটিগুটি পায়ে টেভোলির সামনে এসে দাঁড়িয়েছি, টেভোলি পছন্দ হয়েছে। শহরের মধ্যখানে এটা থাকলে হয়তো এত ভালোলাগত না। হয়তো বিচ্ছিন্নতা, হয়তো বৈসাদৃশ্য উপস্থিতি আমাকে মুগ্ধ করে। কিংবা কী জানি, জীবনে প্রথম কোনো মেয়েমানুষের জন্য অপেক্ষাই আমার চারদিক এমন মোহময়ী হয়ে ওঠার কারণ কি না! এখানেই আমাকে রীতা আসতে বলেছে। রীতাকে আমি জীবনে মাত্র দুবার দেখেছি। প্রথমবার ওর সঙ্গে আমি কথা বলিনি। তবে ও আমাদের সামনে অনেকক্ষণ বসেছিল সাংবাদিক সারিতে। আমার চেনা সাংবাদিক ছেলেটির বন্ধু সে, সেও সাংবাদিকতা করে। সাংবাদিক মেয়েদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অশেষ। চ্যালেঞ্জিং পেশা, মেয়েদের জন্য আরও বেশি। দ্বিতীয়বার একটা সেমিনার শেষে নিচে নেমে দেখি ও গাড়ি কিংবা কারও জন্য অপেক্ষা করছে। আমি গাড়িতে উঠে যাওয়ার মুহূর্তে এসে লিফট চাইল, ওর নাকি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সেমিনার আছে প্রেস ক্লাবে। গাড়িতে ওর সঙ্গে তেমন কথা হয়নি। শুধু নামার সময় আমার মন্ত্রণালয়ের নামটি জিজ্ঞাসা করল। এটারও প্রয়োজন হতো না যদি ও গাড়ির দিকে খেয়াল করত। তারপর দিন তিনেক পর ফোন। স্যার, আমার নাম রীতা, আমায় লিফট দিয়েছিলেন, মনে আছে... ইত্যাদি। তারপর অনেক দিন পর আবার ফোন, স্যার হঠাৎ আপনার কথা মনে পড়ল, ভালো আছেন? তারপর আরও দু-একবার। খেয়াল করে দেখেছি আমি মানুষের চেহারার চাইতে গলার স্বরটি ভালো মনে রাখতে পারি এবং খুব ভালো কণ্ঠ হলে তার প্রতি একটু অনুরক্ত হয়ে পড়ি। এক্ষেত্রেও ব্যাপারটি অনেকটা এমনই। পরিচ্ছন্ন কণ্ঠস্বর, পরিমিত স্বরক্ষেপণ, শব্দ ব্যবহারে সচেতন, অন্যরকম। আমি কথা কম বলি, শুনি, ওর গলার স্বরটি শুনি, ভালো লাগে। আম-কাঁঠাল পাকা খুব গরমের পর মাটি ভিজিয়ে রিনিরিনি বৃষ্টির মতো স্বরটি, একটু ভেজা ভেজা! ইদানীং ও খানেক প্রগলভ হয়ে উঠেছে। কিন্তু তাতে আছে এমন একটা বুদ্ধিমত্তা নাকি চতুরতা, শব্দটি আমার জানা নেই, আমার ভালো লাগে। মনে হয় মেয়েরা এমন হলেই ভালো হয়। নিজের মতো, স্বকীয়। কারও শাড়ি কি গয়না দেখে কিনবে না অথবা না কিনতে পেরে হাপিত্যেশ করবে না, অন্যের কথাকে নিজের বলে চালিয়ে দেবে না, নিন্দামুখর হবে না...। রীতা রবীন্দ্রনাথ নিয়ে কথা বলতে পারে, সুকুমার রায় কি বড়ুয়ার ছড়া গড়গড় করে শোনাতে পারে। না কঠিন, না সরল, অনায়াশ বাগভঙ্গী। চার-পাঁচ দিন ওর সঙ্গে কথা বলেছি। তার মধ্যে সর্বশেষ দিন মানে পরশু আমি ফোন করেছিলাম। কারণ ওর বন্ধু সাংবাদিক ছেলেটির প্রয়োজনে। আমার প্রয়োজন নয়, আমার এক আত্মীয়ের বাসার সামনের রাস্তার বেহাল অবস্থার কোনো রিপোর্ট করানো যায় কি না, সে ব্যাপারে। খুব পীড়াপীড়ি করছিল আত্মীয়টি। তো ও বলল, ওর বন্ধু দেশে নেই। কোথায় তা জিজ্ঞাসা করা শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে কি না, ভাবার আগেই ও বলে, ক্যালগেরিতে, ফিলিং স্টেশনে কাজ নিয়েছে। আমি বলি, বেশ, আপনি কবে যাবেন? ও একটু হাসল। বলে, না, আমার অবস্থা ওর চেয়ে কিঞ্চিৎ ভালো। ফ্রিল্যান্স কাজে সুবিধাটা মেয়েরা যেভাবে বুঝতে পারে বা করতে পারে, ছেলেরা পারে না। সমাজ প্রতিষ্ঠিত ছেলে খোঁজে, ওর প্রেমিকা ছুটে যাচ্ছিল, না গিয়ে কী করবে!

আমি বুঝতে পারি রীতা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতার কাজ করে। রীতাই বলে, আপনার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগে। আমি বলি, আপনার কণ্ঠস্বরটি ভালো। সে অভিমানী গলায় বলে, কিন্তু আপনার সঙ্গে আমার দেখা হলে আপনি আমায় চিনতেই পারবেন না। আমি বলি, হতে পারে, আমি চেহারা মনে রাখতে পারি না। তবে যখন কথা বলবেন ঠিক চিনতে পারব। রীতা বলে, পরশু তো একটা ফাও ছুটি আছে, একটু চা খাওয়াবেন কি?

—কোথায়?

—টেভোলি। রীতাই রাস্তাঘাট চিনিয়ে দেয় ফোনে।

টেভোলি খুব নবীন কোনো হোটেল নয়, কোথায় একটা প্রাচীন বনেদি ছাপ, পুরাতনী গন্ধ। ঢুকতেই মানিপ্ল্যান্ট জড়ানো ছায়াছন্ন প্রাচীন জোড়া আমগাছের জন্যই বোধ হয়। রীতার রুচির তারিফ করা লাগে, সত্যি। সাংবাদিক হলে সব জানা থাকে! দাঁড়িয়ে থাকা তো শোভন নয়, অন্তত আমার মতো একজনের জন্য। আমি লবির সবচেয়ে নিরিবিলি কোণটি বেছে বসে পত্রিকার পাতা ওল্টাই। হঠাৎ নীরার কথা মনে হয়, প্রতিবেশী ছিল, এইটে পড়ত, খুব ভালোবাসতে ইচ্ছা করত। তখন আমি কলেজে পড়ি। আর কখনো কাউকে সেভাবে ভালোবাসতে ইচ্ছা করেনি। নীরার জানালার পর্দাটা বাতাসে উড়লে ওর ছায়াটা দেখা যেত, তাই দেখার জন্য বারান্দায় আমি পলকহীন তাকিয়ে থাকতাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বহুদিন ওদের বাড়ির দরজায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম, যদি হঠাৎ নীরা বেরিয়ে আসে! একদিন একটা চিরকুট পাই দরজায়, কেউ দেয়নি, এমনি পড়ে ছিল। তাতে লেখা, ‘তুমি আসিলে, ভালোবাসিলে, মনে হয় সে তো নয়, বলো তো কেন এমন হয়?’ আর যাইনি। এ কথাগুলো আমার জন্যই তো!

বসে বসে ভাবছি, ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, আমার চুলের আশিভাগ পাকা কিন্তু মন এখনো খুব ভালোবাসতে চায়। রীতা কি নীরার মতো কোনো মেয়ে! নাকি নীরাই রীতা হয়ে এসেছে। এখন কি রীতা নামের নীরা আমায় ফোন দিয়ে বলবে, সরি স্যার, একটা কাজে আটকে গেছি, বোঝেন তো ফ্রিল্যান্স, মওকা পেলে কি ছাড়া উচিত? না, আমি কিছু মনে করব না। কারণ এমন ফোন আমিও রীতাকে দিতে পারি। উচ্চপর্যায়ের ফোন পেয়ে ছুটতে হলো বলে কিংবা হঠাৎ মনে হলো, কে রীতা, কার জন্য বসে আছি, ছিঃ। কিন্তু এর মধ্যে একটা লোক আমার সামনে একটা চক্কর মেরে গেছে। লোকটা আমায় চেনে! নাকি হোটেলেরই লোক, কী জানি।

চোখ মেঝেতে পড়তেই দেখি পাশাপাশি গুছিয়ে দাঁড়ানো দুটো পায়ের পাতায়, দুই ফিতার ঝকঝকে স্যান্ডেলে বেআব্রু পাতা। আমি তড়াক করে উঠে দাঁড়াই, নীরা নাকি রীতা। হ্যাঁ, রীতাই বটে। ভারি মিষ্টি চেহারা। আমি ওর কান বরাবর তাকাই, মুখের দিকে তাকাতে পারি না, আড়ষ্ট লাগে।

—স্যার, ভালো আছেন?

—হু, আপনি?

—ভালো, ওপরে ভালো বসার জায়গা আছে, আমরা ওপরে বসতে পারি!

আমি ওকে অনুসরণ করি, নাকি ও আমাকে, বুঝতে পারি না। অফিসে সবাই আমাকে অনুসরণ করে, এখানেও আমি নিজেকে সেভাবেই মেলে ধরেছি কি না, বুঝতে পারি না। এটা তো অফিস নয়, এখানে কী হওয়া উচিত! ওপরে ওঠার পর আমি যথার্থই রীতাকে অনুসরণ করি। রীতা তিনটা ইউটার্ন দিয়ে একটা অপেক্ষাকৃত কম পরিসর জায়গায় কয়েকটা ছড়ানো-ছিটানো টেবিল-চেয়ারের দিকে ইঙ্গিত করে বলে, এখানে বসি, একটু পর আমরা ওপরে উঠে যাব, আপনার কোনো অসুবিধা নেই তো! আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে কী বলতে চাইলাম আমি জানি না। ও আমায় থামিয়ে দিয়ে বলে, রুমের চাদর-টাদর পাল্টে আমায় কল দেবে। আমি নড়েচড়ে উঠলাম। যুক্ত হতে প্রণোদিত হলাম, নাকি বিযুক্ত হতে শব্দ হাতড়ালাম, বলতে পারব না। ও তাড়াতাড়ি বলে, স্যার আমি অসম্ভব সুন্দর একটা গল্প শোনাব আপনাকে। আমি জীবনে প্রথম একজনকে পেলাম, যাকে আমার গল্পটা শোনাব বলে ঠিক করেছি, আপনি শুনবেন না?

—এখানেই বলো রীতা।

—না, এখানে বলা যাবে না। সব কথা সব জায়গায় বলা যায় কি?

—তাহলে চলো ওপরে, আমাকে আবার একটা কাজে যেতে হবে। কথাটা মিথ্যা সেটা হয়তো রীতাও বুঝে থাকবে কিন্তু কাজের কথাটা বলে নিজেকে কতটা কেজো লোক হিসেবে প্রতিপন্ন করতে পারলাম, তা জানি না। সংশয় রয়েই গেল। আমি সচেতন স্মার্টলি দাঁড়িয়ে আছি, মেদহীন মজবুত পাঁচ ফিট নয় ইঞ্চির মধ্যবয়সী অভিজ্ঞ মানুষ। রীতা যেন আমার কথাটা লুফে নিল, স্যার গল্পটা তাড়াতাড়ি আমিও বলতে চাই, চলুন। এবার রীতাই পুরোপুরি পথপ্রদর্শক, আমি ক্রমশ দোদুল্যমান, সংশয়িত। দুইশ বেয়াল্লিশ নম্বর রুম। আমি চমকে উঠি, সর্বনাশ, শনি, আট সংখ্যা! ততক্ষণে আমরা ভেতরে। ভেতরে গিয়ে কিছু ভেবে আনন্দ হলো, আট সংখ্যা হলেও সংখ্যাটি প্যালিড্রোমিক। মানে উল্টে দিলেও একই হয়।

রীতা দূরে চেয়ারে বসে আছে। ভঙ্গিটা সুস্থির নয়। আমি ওর কাছাকাছি দাঁড়াই। এই প্রথম আমি ওকে তুমি বলি। বলি, রীতা গল্পটা বলো। রীতা এবার আমার গা ঘেঁষে দাঁড়ায়, বলে, গল্পটা এখন শুরু হবে স্যার, আমি খুব দুঃখিত, গল্পটায় আমার হাত কিঞ্চিৎ। রীতা আমার বুকের কাছে, ওর নিঃশ্বাস পড়ে জোরে জোরে। শীতেও আমি ঘামছি। কী গল্প! কেমন গল্প! রীতা, গল্পটা বলো লক্ষ্মী! রীতা কিছু বলে না।

—গল্পটা বল সোনা। বল, তুই আসলে নীরা, তুইও আমায় পাগলের মতো ভালোবাসতি, আমি তোর কথা শোনার জন্যই এসেছি পাগলি, গল্পটা বল।

দরজা খুলে দুজন লোক আমাদের কাছে এসে দাঁড়ায়। ঝটপট কয়েকটা ছবি তুলে ফেলে। তারপর বলে, কার্ডটার্ড যা আছে বাইর করেন ইজ্জত বাঁচাতে চাইলে। আমি দেখি রীতার মুখটা বিকৃত হয়ে গেছে, লজ্জায় নত। আমি বলি, রীতা তুমি ভয় পেও না, ওরা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। একজন স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে, ‘পাঁচ লাখ আছে তো, না থাকলে বুঝতেই পারছেন! পিন নাম্বার বলেন।’ আমি বলি অ্যাকাউন্টে তত টাকা নেই। ওরা বলে, পিন বলেন। আমি কিছু বলি। ওরা কার্ড নিয়ে বেরিয়ে যায়। আমার খারাপ লাগে না। রীতা অধোমুখে শোফায় বসে থাকে। ওর কপালে কয়েক বিন্দু স্বেদ জ্বলজ্বল করে। রীতা ভাবছে আমি ওকে কত খারাপ মনে করছি, ও আমার ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। রীতা বলে, কত আছে অ্যাকাউন্টে!

—দেড় লাখের মতো হবে।

ও অবাক হয়ে বলে, এত কম কেন? আপনি ঘুষ খান না?

—বিপদে পড়লে খাই, এই অ্যাকাউন্টে ঘুষের টাকাই থাকে।

—এর আগে যারা এসেছে, এখানে বা অন্য কোথাও, সবারই তো কমপক্ষে বিশ ছিল।

—সব নিয়েছে?

—না, জানি না, সবই নেওয়ার কথা।

আমার গলায় হাহাকার, তুমি সাংবাদিক নও? তোমার নাম রীতা?

—নাহ, অন্য নাম।

ছায়ানিবিড়না রীতানা নীরাকৃষ্ণচূড়াপোস্টঅফিসসর্বজনবিদিতকাজললেখা
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    জনতা ব্যাংকে মহাদুর্নীতি, ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বোর্ড

    জনতা ব্যাংকে মহাদুর্নীতি, ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বোর্ড

    ডিআইজি-এসপিসহ চাকরি গেল ৬  কর্মকর্তার

    ডিআইজি-এসপিসহ চাকরি গেল ৬ কর্মকর্তার

    সৌদির রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় কালীগঞ্জের দুই প্রবাসীর মৃত্যু

    সৌদির রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় কালীগঞ্জের দুই প্রবাসীর মৃত্যু

    ‘নিয়মিত ক্লাস না করলে সুপারিশ শোনা হবে না’

    ‘নিয়মিত ক্লাস না করলে সুপারিশ শোনা হবে না’

    শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই গ্রেপ্তার

    শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই গ্রেপ্তার

    ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ বলা সেই ওসি গ্রেপ্তার

    ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ বলা সেই ওসি গ্রেপ্তার

    অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়েই জুডিশিয়াল সার্ভিসে বাজিমাত ঢাবির ১০ শিক্ষার্থীর

    অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়েই জুডিশিয়াল সার্ভিসে বাজিমাত ঢাবির ১০ শিক্ষার্থীর

    খলিলুর রহমানের দপ্তরে নিয়োগ পেলেন জাইমা রহমানসহ ৬ বাংলাদেশি

    খলিলুর রহমানের দপ্তরে নিয়োগ পেলেন জাইমা রহমানসহ ৬ বাংলাদেশি

    এনবিআরের কর কমিশনারের শতকোটির দুর্নীতি!

    এনবিআরের কর কমিশনারের শতকোটির দুর্নীতি!

    স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় বলিউডের ৭ নায়িকা

    স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় বলিউডের ৭ নায়িকা

    জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় ৬ মুহূর্ত

    জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় ৬ মুহূর্ত

    বিএনপি-এনসিপি কর্মীদের হট্টগোল, তোপের মুখে হান্নান মাসউদ

    বিএনপি-এনসিপি কর্মীদের হট্টগোল, তোপের মুখে হান্নান মাসউদ

    রাজপথে বিএনপি, লক্ষ্য তিনটি

    রাজপথে বিএনপি, লক্ষ্য তিনটি

    বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে হামলার শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

    বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে হামলার শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

    মেরিটাইম সম্ভাবনা বিনা পদক্ষেপে ব্যর্থ হতে দিতে চান না নৌপরিবহন মন্ত্রী

    মেরিটাইম সম্ভাবনা বিনা পদক্ষেপে ব্যর্থ হতে দিতে চান না নৌপরিবহন মন্ত্রী