মিশেল ফ্যুকোর জন্মদিন
ক্ষমতার লেন্সে জ্ঞানের প্রত্নসন্ধান

মিশেল পল ফ্যুকো (জন্ম: ১৫ অক্টোবর, ১৯২৬ — মৃত্যু: ২৫ জুন, ১৯৮৪)
আধুনিক চিন্তার ইতিহাসে মিশেল ফ্যুকোর সবচেয়ে বড় অবদান একটি সরল অথচ বিস্ফোরক প্রশ্নে নিহিত: ক্ষমতা যদি কেবল রাষ্ট্রের হাতে ধরা তলোয়ার বা কারাগারের শিকল না হয়, যদি তা বরং আমাদের প্রতিদিনের ভাষা, অভ্যাস, শিক্ষা, চিকিৎসা, ভালোবাসা— সবকিছুর ভেতরে ছড়িয়ে থাকে, তাহলে ব্যক্তি আর ক্ষমতার সম্পর্ক আসলে কী?
এই প্রশ্নটি ফ্যুকো এমনভাবে উত্থাপন করেছেন যে আজ দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান, সাহিত্যতত্ত্ব, এমনকি চিকিৎসাশাস্ত্রও তার উত্তর খুঁজতে বাধ্য। তিনি দেখিয়েছেন, ক্ষমতা কেবল চাপিয়ে দেওয়া জিনিস নয়— তিনি একে ভেবেছেন উৎপাদনশীল, তরল, সর্বব্যাপী এক স্নায়ুতন্ত্র হিসেবে, যা ঘরে-বাইরে, স্কুলে-হাসপাতালে, কারাগারে-সেনানিবাসে, এমনকি আমাদের নিজের আত্মপরিচয়ে পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ধারণা এতটাই নতুন ছিল যে ফ্যুকোকে একই সঙ্গে দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, সমাজতাত্ত্বিক, ভাষাতাত্ত্বিক, মনোবিশ্লেষক, রাজনৈতিক তাত্ত্বিক— সবকিছুর মিশ্রণ বলে মনে হয়।
তার লেখা সীমানা ভাঙে; দর্শনের ভাষায় কথা বলে, আর্কাইভ ঘেঁটে ইতিহাস বলে, আবার বর্তমানের রাজনীতি নিয়েও মুখ খোলে। এ কারণেই তাকে উত্তর-কাঠামোবাদী, উত্তর-আধুনিক, উত্তর-মার্কসবাদী, এমনকি নারীবাদী তত্ত্বেও ব্যবহার করা হয়। ফ্যুকোর প্রভাব সমাজতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান, ইংরেজি সাহিত্য, ইতিহাস— সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। তার মূল কথা হলো, জ্ঞান কখনো নিরপেক্ষ নয়; ক্ষমতার সঙ্গে জ্ঞানের যোগসূত্র সূক্ষ্ম, কখনো অদৃশ্য।
তিনি বলেন, ‘বক্তৃতার ভেতরেই ক্ষমতা ও জ্ঞান একসঙ্গে যুক্ত হয়।’ এই সূত্র ধরে তিনি দেখান, মানবিক বিজ্ঞান কীভাবে মানুষকে জানে, শ্রেণিবদ্ধ করে, নিয়ন্ত্রণ করে— আর সেই নিয়ন্ত্রণই কতটা সূক্ষ্ম, কতটা গভীর। তার লেখা পড়লে মনে হয়, সমাজের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান— বিদ্যালয়, কারাগার, হাসপাতাল, সেনানিবাস— একই সংগঠনিক কাঠামোয় গড়া, যেখানে ব্যক্তির সময় ও স্থান ঘণ্টায় ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রিত। এই কাঠামোই ক্ষমতার প্রযুক্তি। ফ্যুকো এই কাঠামোর উৎস খুঁজেছেন, তার বিকাশ ধরেছেন, দেখিয়েছেন কীভাবে শাস্তি প্রকাশ্য নির্যাতনের দৃশ্য থেকে আত্মার শাস্তিতে পরিণত হলো। তিনি দেখিয়েছেন, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জন্ম হলো কীভাবে; পাগল ও সুস্থের সীমানা কে টানল; যৌনতা কীভাবে এক আলাদা বক্তৃতার বিষয় হয়ে উঠল।
মিশেল পল ফ্যুকো ১৯২৬ সালের ১৫ অক্টোবর ফ্রান্সের পোয়াতে শহরে এক সম্ভ্রান্ত চিকিৎসক পরিবারে জন্ম নেন। তার বাবা ছিলেন চিকিৎসক। এই ডাক্তারবাবুর পরিবেশ থেকেই তিনি পেয়েছিলেন মানবদেহ, রোগ, স্বাস্থ্য, সুস্থতা-অসুস্থতার সীমানার প্রতি টান— যা পরে তার দর্শনের গভীরে কাজ করেছে। ১৯৪৫ সালে তিনি প্যারিসের লিসে অঁরি চতুর্থে জাঁ ইপোলিতের কাছে পড়েন, পরে ১৯৪৬ সালে প্রখ্যাত ইকোল নর্মাল সুপেরিয়রে ভর্তি হন। দর্শন ও মনোবিজ্ঞানে ডিগ্রি নেন, মরিস মেরলো-পন্তের মতো অধ্যাপকদের সঙ্গে কাজ করেন। ফরাসি শিক্ষাব্যবস্থার ট্রাডিশনাল পথটাকে তিনি এড়িয়ে যান; ১৯৫৫ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে সুইডেন, পোল্যান্ড ও জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী পদে পড়ান। এই ভিনদেশি জীবনের মাঝেই তিনি পাগলামি ও সভ্যতার ইতিহাস নিয়ে ডক্টরেট থিসিস শেষ করেন— যা ১৯৬১ সালে ‘ফোলি এ লা রেজোঁ’ নামে প্রকাশিত হয়।
ফ্যুকোর ব্যক্তিগত জীবন ছিল সংগ্রামী ও জটিল। তিনি সমকামী ছিলেন, আর সেই পরিচয়কে কখনো গোপন করেননি। ফরাসি রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি করার সময়ে সমকামিতার কারণে তিনি চাপের মুখে পড়েন, কিন্তু লুকিয়ে না গিয়ে বরং নিজের ভেতরের অস্থিরতা অস্তিত্বের প্রশ্নে রূপান্তরিত করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর ‘যৌনতার ইতিহাস’ লেখার গভীর প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
ফ্যুকো ধীরে ধীরে ফরাসি একাডেমিক জগতে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৬০-এর দশকে ক্লেমো-ফেরাঁ, তিউনিস ও প্যারিসের বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৯ সালে জাঁ ইপোলিতের উত্তরসূরী হিসেবে তিনি কলেজ দে ফ্রান্সে নির্বাচিত হন এবং সেখানে ‘চিন্তা-ব্যবস্থার ইতিহাসের অধ্যাপক’ পদে অধিষ্ঠিত হন। এই অধ্যাপকের আসনে বসে তিনি এমন এক ধারাবাহিক বক্তৃতামালা শুরু করেন, যা আজও দর্শনের ছাত্রদের কাছে অমূল্য সম্পদ। ১৯৭০-এর দশক থেকে ফ্যুকো কেবল ক্যাম্পাসের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি সরাসরি রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে জাঁ-মারি দোমেনাক, পিয়ের ভিদাল-নাকে-র সঙ্গে তিনি ‘গ্রুপ দ’ইনফরমেশন সুর লে প্রিজঁ’ (কারাগার তথ্য দল) গড়ে তোলেন, যা কারাগার ব্যবস্থার নিপীড়ন নিয়ে জনমত তৈরি করে। ১৯৭৭ সালে ‘খবরের কাগজের নিবন্ধ’ থেকে শুরু করে ফ্যুকো সমকামীদের অধিকার, অভিবাসীদের অধিকার, বন্দিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হন। তিনি ফরাসি রাষ্ট্রের ‘বামন দণ্ড’ ব্যবস্থা বিলোপের দাবিতে আন্দোলন করেন, নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ান। এই রাজনৈতিক সক্রিয়তাই তার দর্শনকে শুষ্ক অ্যাকাডেমিকতামুক্ত রেখেছে।
১৯৭০-এর দশকে ফ্যুকো তার সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি বই লেখেন। ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত ‘ডিসিপ্লিন অ্যান্ড পানিশ : দ্য বার্থ অব দ্য প্রিজন’-এ তিনি দেখান, আধুনিক কারাগার ব্যবস্থার জন্ম কীভাবে হলো। আগে অপরাধীর শাস্তি ছিল প্রকাশ্য দৃশ্য— সবাই দেখত রাজা বা রাষ্ট্রের ক্ষমতা। কিন্তু আধুনিক কারাগার সেই ক্ষমতা অদৃশ্য করে দিল। শাস্তি এখন আর দেহের ওপর নয়, আত্মার ওপর— যেখানে অপরাধীর মনকে সংশোধন করা হয়। এই বইয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত তত্ত্ব প্যানোপটিসিজম।
জেরেমি বেন্থামের ডিজাইন করা প্যানোপটিকন কারাগার হলো এমন এক স্থাপত্য, যেখানে কেন্দ্রীয় টাওয়ার থেকে সব বন্দিকে দেখা যায়, কিন্তু বন্দিরা দেখতে পায় না কে দেখছে। এই অদৃশ্য দৃষ্টি এক চিরস্থায়ী আত্ম-নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা তৈরি করে; বন্দি নিজেই নিজের প্রহরী হয়ে যায়। ফ্যুকো দেখান, এই প্যানোপটিক যুক্তি কেবল কারাগারে সীমাবদ্ধ নয়— স্কুল, হাসপাতাল, সেনানিবাস, কারখানা— সব জায়গায় একই ধরনের ব্যবস্থা।
১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘দ্য হিস্টরি অব সেক্সুয়ালিটি: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন’। এই বইয়ে ফ্যুকো দেখান, যৌনতা কোনো স্বাভাবিক জিনিস নয়— এটি পশ্চিমা সমাজে অপেক্ষাকৃতভাবে সাম্প্রতিক কালে জন্ম নেওয়া এক বক্তৃতামূলক বিষয়। আগে যৌনাচার শুধু শারীরিক ক্রিয়া ছিল, আধুনিক সমাজে তা হয়ে উঠল আলাদা বিষয়— যা নিয়ে কথা বলতে হয়, বিশ্লেষণ করতে হয়, স্বীকার করতে হয়।
ফ্যুকোর মতে, ১৭ শতকের আগে মানুষ তার লিঙ্গ নিয়ে অনেক স্বাধীন ছিল; ১৮-১৯ শতকে চিকিৎসাবিজ্ঞান, মনোবিশ্লেষণ, আইন-কানুন— সবই মিলে যৌনতার ওপর ক্ষমতার জাল বিছিয়ে দেয়। এই ক্ষমতাকে তিনি বললেন বায়োপাওয়ার বা শরীরের প্রতি ক্ষমতার প্রযুক্তি, যা শুধু দমন করে না, উৎপাদনও করে।
ফ্যুকোর আরও কয়েকটি মৌলিক ধারণা আছে, যেগুলো তার দর্শনের মেরুদণ্ড। ১৯৬১ সালে ‘ফোলি এ লা রেজোঁ’র জন্য তিনি ফ্রান্সের সেন্টার অব সায়েন্টিফিক রিসার্চ থেকে একটি মেডেল পান। ‘লি মো এ লে শোজ’ (১৯৬৬) বইয়ে তিনি দেখান, ভাষা কীভাবে এক বিষয় গঠন করে; মানুষের ধারণা তার বাইরে নয়, ভেতরে এক কাঠামোর মধ্যে বসবাস করে।
‘ল’আর্কিওলজি দ্যু স্যাভোয়া’ (১৯৬৯) বইয়ে তিনি প্রত্নতাত্ত্বিক পদ্ধতির কথা বলেন— যেখানে পটভূমির বিবৃতিগুলো ঘেঁটে দেখা হয় কোন যুগে কী ধরনের জ্ঞান সম্ভব ছিল। ফ্যুকোর মতে, প্রতিটি যুগের একটি এপিস্টেমে থাকে, যা নির্ধারণ করে কোন ধরনের জ্ঞান সত্য বলে গৃহীত হবে। ১৯৭০-এর দশকে তিনি জেনিয়ালজি পদ্ধতিতে যান, যেখানে তিনি দেখেন কীভাবে ক্ষমতা-জ্ঞানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, কে কী বলতে পারে, কে কী জানতে পারে। ১৯৭৮-৭৯ সালে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি গভর্নমেন্টালিটি ধারণা তুলে ধরেন এবং দেখান, আধুনিক রাষ্ট্র কীভাবে জনসংখ্যাকে পরিচালনা করে, জনসংখ্যার স্বাস্থ্য, জন্মহার, মৃত্যুহার, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করে। এভাবে ক্ষমতা আর কেবল রাজনীতির সীমায় সীমাবদ্ধ থাকে না; তা হয়ে ওঠে জীবনের ব্যবস্থাপনা।
ফ্যুকো ১৯৭৬ সালে ‘দ্য হিস্টরি অব সেক্সুয়ালিটি’-র প্রথম খণ্ড প্রকাশ করেন। পরে ১৯৮৪ সালে শেষ দুটি খণ্ড প্রকাশিত হয়— ‘ল্যুজ দে প্লেজির’ ও ‘লে সুয়া দ্য সোয়া’। এই কাজে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, যৌনতা কেবল নিপীড়নের বিষয় নয়; তা আত্ম-প্রকাশের, স্বাধীনতার, নৈতিকতার প্রশ্ন। তিনি যৌনতার ইতিহাসকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ইতিহাসে সীমাবদ্ধ না রেখে একজন ব্যক্তির নিজের প্রতি দায়িত্ব, আত্ম-পরিচর্যা, সুখের ব্যবহার— এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। ফ্যুকোর লেখা ধীরে ধীরে সাহিত্য, শিল্প, স্থাপত্য, এমনকি চলচ্চিত্রেও প্রভাব ফেলে।
ফ্যুকোর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি পুরস্কারে ভরা। ১৯৬১ সালে ‘ফোলি এ লা রেজোঁ’র জন্য সেন্টার অব সায়েন্টিফিক রিসার্চ থেকে মেডেল পান। ১৯৭০-এর দশকে তার খ্যাতি আন্তর্জাতিক হয়। ১৯৮৩ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্কলেতে বার্ষিক অধ্যাপনার আমন্ত্রণ পান। তার বক্তৃতাগুলো চার বছর ধরে চলেছিল। ফ্যুকো কখনো নোবেল পাননি— কারণ তার কাজ দর্শনের সীমায় বন্দি ছিল না, ইতিহাস, সমাজ, ভাষা— সবকিছুতেই ছড়িয়ে ছিল। কিন্তু তার প্রভাব আজ বিশ্বের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রতিটি সমাজবিজ্ঞান বিভাগে, প্রতিটি সাহিত্য বিভাগে— কারাগার, হাসপাতাল, বিদ্যালয়, যৌনতা, ক্ষমতা, জ্ঞান সবখানে।
জীবনের শেষ দিকে ফ্যুকো প্যারিসে ফিরে আসেন। ১৯৮৪ সালের জুন মাসে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে ভর্তির কয়েক সপ্তাহ পর ২৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর ফরাসি দার্শনিক সম্প্রদায়ে আলোচনা ওঠে— তার লেখা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। কিন্তু এসব বিতর্ক তার গুরুত্ব কমাতে পারেনি। ফ্যুকো আজও প্রাসঙ্গিক— আধুনিক যুগে ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ, জ্ঞান, প্রতিরোধ, যৌনতা, পরিচয়— সবকিছু বোঝার এক অপরিহার্য চাবিকাঠি।
ফ্যুকোর উত্তরাধিকার আজ আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত। তার মৃত্যুর পর তার বক্তৃতামালা প্রকাশিত হয়, অনুবাদ হয়, ছড়িয়ে পড়ে। তার ধারণাগুলো নারীবাদী তত্ত্ব, উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্ত্ব, সমালোচনামূলক তত্ত্ব, এমনকি পরিবেশ-অধ্যয়ন, অক্ষমতা-অধ্যয়নেও জায়গা পায়। তার খ্যাতি এতটাই গভীর যে আজ ‘ফুকোল্ডিয়ান’ শব্দটি আলাদা একটি বিশ্লেষণী ধারা হিসেবে স্বীকৃত। ফ্যুকো বিশ্বাস করতেন, ক্ষমতা কেবল দমন করে না, উৎপাদনও করে; আর জ্ঞান কোনো নিরপেক্ষ জানালা নয়, তা ক্ষমতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই দুটি বিশ্বাস আজ সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি, দর্শন, ইতিহাস সব শাখায় মূল্যবান অবদান।
ফ্যুকোর নিজের ভাষায়, সমালোচনা মানে সার্বজনীন মূল্যবোধের সন্ধান নয়; বরং ঐতিহাসিক তদন্ত— যেখানে আমরা কী হয়েছি, কী ভাবছি, কে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। এই তদন্তই ফ্যুকোর মূল সুর— তিনি আমাদের শেখান, নিজের চোখে প্রশ্ন করা, প্রতিষ্ঠানকে চ্যালেঞ্জ করা, ক্ষমতার অদৃশ্য জাল দেখতে শেখা। ফ্যুকো তাই কেবল দার্শনিক নন— তিনি এক প্রত্নতত্ত্ব, এক জেনিয়ালজি, এক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। তার লেখা পড়া মানে নিজের সমাজকে দেখা, নিজের ক্ষমতা চেনা, নিজের প্রতিরোধের ভাষা খোঁজা। যে পাঠক একবার ফ্যুকো পড়েন, তিনি আর আগের পাঠক থাকেন না; তার চোখ বদলে যায়, তিনি দেখতে শেখেন— ক্ষমতা কোথায়, জ্ঞান কোথায়, আর সেই সূক্ষ্ম জালের ভেতর তিনি কোথায় দাঁড়িয়ে।
আমন্ত্রণ নতুন পাঠকদের ফ্যুকোর জগতে, এই লেখাটিকে আপনি ফ্যুকো পাঠের ভূমিকা হিসেবেও নিতে পারেন।






