স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ঝাপসা দেখছেন? জেনে নিন এর ৫টি কারণ

সংগৃহীত ছবি
আজকাল কাজের প্রয়োজনে হোক বা বিনোদনের জন্য, দিনের অনেকটা সময় আমাদের কাটে মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবলেটের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। টানা অফিসের মিটিং, পড়াশোনা কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত ফেসবুক-ইউটিউবে স্ক্রলিং সব মিলিয়ে আমাদের চোখের ওপর দিয়ে বড় ধকল যাচ্ছে। এর ফলে অনেকেই এখন হুটহাট চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে অল্প বয়সীদের মধ্যে এই সমস্যাটি এখন প্রকট হয়ে দাড়িয়েছে।
ফোর্টিস হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডক্টর রাজেশ খান্না জানান, আমরা যখন দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি, তখন আমাদের চোখের পেশিগুলো বিশ্রাম পায় না। আর এই অনিয়মই ডেকে আনছে বড় বিপদ। আপনার চোখ যদি মাঝেমধ্যেই ঝাপসা হয়ে যায়, তবে এর পেছনে নিচের কারণগুলো থাকতে পারে:
১. চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ
টানা কয়েক ঘণ্টা উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশিগুলো শক্ত হয়ে যায়। এতে চোখের লেন্সের ওপর চাপ পড়ে, ফলে দৃষ্টির চারপাশটা মাঝেমধ্যে কুয়াশার মতো ঝাপসা মনে হয়।
২. চোখের পলক কম পড়া
স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা মিনিটে ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পলক ফেলি। কিন্তু যখন মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করি, তখন আমরা পলক ফেলতে ভুলে যাই। এর ফলে চোখের মণি শুকিয়ে যায় এবং খসখসে ভাব তৈরি হয়, যা দৃষ্টি অস্পষ্ট করে দেয়।
৩. ড্রাই আই বা চোখ শুকিয়ে যাওয়া
স্ক্রিনের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকলে চোখের পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়। চোখ পর্যাপ্ত পিচ্ছিল না থাকলে কোনো কিছুর দিকে তাকালে তা মাঝেমধ্যে কাঁপছে বলে মনে হতে পারে। এক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে বিরতি নিলে বা বেশি করে পলক ফেললে আরাম পাওয়া যায়।
৪. স্ক্রিন থেকে ভুল দূরত্ব
আমরা অনেকেই ফোন একদম মুখের কাছে নিয়ে ব্যবহার করি, আবার ল্যাপটপ অনেক দূরে রেখে কাজ করি এই দুই অভ্যাসই চোখের জন্য ক্ষতিকর। আদর্শ নিয়ম হলো, স্ক্রিন থেকে অন্তত এক হাত দূরত্ব বজায় রাখা। আর স্ক্রিনের ওপরের অংশ যেন চোখের লেভেলের কিছুটা নিচে থাকে।
৫. আলোর স্বল্পতা বা অতিরিক্ত আলো
অন্ধকারে ফোন ব্যবহার করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত কড়া আলোতে স্ক্রিনের দিকে তাকানোও চোখের জন্য যন্ত্রণাদায়ক। ঘরের আলো এবং মোবাইলের ব্রাইটনেস সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে চোখের ওপর দ্বিগুণ চাপ পড়ে।
চোখের এই সমস্যাগুলো এড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সহজ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
২ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাতে একদমই মোবাইল দেওয়া যাবে না। আর ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের দিনে বড়জোর এক ঘণ্টা স্ক্রিন দেখার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
২০-২০-২০ নিয়ম যা খুব কার্যকর একটি পদ্ধতি। প্রতি ২০ মিনিট কাজ করার পর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো জিনিসের দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের পেশিগুলো বিশ্রাম পায়।
অনেক সময় চশমার পাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হলেও মাথা ব্যথা বা চোখ ঝাপসা হতে পারে। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি।
সহজ এই নিয়মগুলো মেনে চললে ডিজিটাল ডিভাইসের যুগেও আপনার চোখ থাকবে সুরক্ষিত এবং দৃষ্টি থাকবে পরিষ্কার।















