হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান যুক্তরাজ্যের

ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের টোল আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটি বলছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য থাকতে হবে উন্মুক্ত।
‘হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক ট্রানজিট রুট এবং এর ওপর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন প্রযোজ্য। কোনো দেশ একতরফাভাবে এখানে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে না’— মন্তব্য করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।
তার ভাষ্য, দেশগুলো এমন আন্তর্জাতিক ট্রানজিট রুট দখল করে একতরফাভাবে টোল আরোপ করতে পারে না। সমুদ্র আইন ও জাতিসংঘের ব্যবস্থার আওতায় এটি অনুমোদিত নয়।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যে ইরান প্রতি জাহাজে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার টোল নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আলোচনার অংশ।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা একটি মৌলিক বৈশ্বিক নীতি। এটি আমাদের দেশের জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অপরিহার্য।
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার আহ্বান এবং সতর্ক করেছেন কুপার। তার দাবি, কোনো ধরনের টোল বা বিধিনিষেধ বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার কারণে এ পথে চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বেড়েছে জ্বালানি মূল্য।
নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। গত সপ্তাহে লন্ডনে ৪০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংঘাতের অবসানকে প্রধান শর্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
লেবাননকেও চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান এবং ওই অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কুপার।
তবে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে— সতর্ক করে বলছেন বিশ্লেষকেরা।














