লন্ডন চিড়িয়াখানার উদ্যোগ
বাঘ-সিংহকে কীভাবে সারিয়ে তোলা হয়, দেখা যাবে সরাসরি

খুব শিগগিরই দর্শনার্থীরা সরাসরি সেখানে দেখার সুযোগ পাবেন পশু চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। ছবি : সংগৃহীত।
চিড়িয়াখানায় গিয়ে বাঘ, সিংহ কিংবা পেঙ্গুইন দেখার অভিজ্ঞতা আছে সবারই। কিন্তু পশু চিকিৎসকরা কীভাবে এসব বন্যপ্রাণীর অপারেশন করেন কিংবা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন, তা দেখার সুযোগ মেলে না সাধারণ দর্শনার্থীদের।
তবে এবার সেই চিরাচরিত ধারণা বদলে দিতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বিখ্যাত লন্ডন চিড়িয়াখানা। খুব শিগগিরই দর্শনার্থীরা সরাসরি সেখানে দেখার সুযোগ পাবেন পশু চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।
প্রতিষ্ঠার ২০০ বছর উদযাপন উপলক্ষে এই বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে লন্ডন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
এক দাতার পক্ষ থেকে পাওয়া ২ কোটি পাউন্ড অনুদানে তৈরি করা হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক বন্যপ্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন ও প্রদর্শন করা হবে পশুদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। দাতা নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে চিড়িয়াখানা পরিচালনাকারী সংস্থা জোলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডনকে (জেডএসএল) দান করেছেন এই বিপুল পরিমাণ অর্থ।
জেডএসএলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত আর্টওয়ার্ক নকশায় দেখা গেছে, নতুন এই মেডিকেল সেন্টারে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে একটি বিশেষ গ্যালারি। সেখানে থাকা বড় স্বচ্ছ জানালার ওপাশেই চলবে চিকিৎসা কার্যক্রম।
খুব শিগগিরই দর্শনার্থীরা সরাসরি সেখানে দেখার সুযোগ পাবেন পশু চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার ২০০ বছর উদযাপন উপলক্ষে এই বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে লন্ডন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক, সবাই খুব কাছ থেকে দেখতে পাবেন কীভাবে পশু চিকিৎসকরা পেঙ্গুইন থেকে শুরু করে বিশালকায় বাঘের চিকিৎসা করছেন। শুধু অপারেশনই নয়, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে করা ময়নাতদন্তও দেখা যাবে এই গ্যালারি থেকে।
তবে ঠিক কবে নাগাদ এই নতুন চিকিৎসা কেন্দ্রটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
চিড়িয়াখানার পশু চিকিৎসক স্টেফান সাভেরিামুত্তু জানান, জনসাধারণের জন্য আমাদের প্রাত্যহিক কাজগুলো দেখার সুযোগ করে দেওয়াটা এক দারুণ ব্যাপার হবে। এর মাধ্যমে মানুষ জানতে পারবে কীভাবে পশু চিকিৎসা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
‘এই সেন্টারটি দেখে অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে পশু চিকিৎসক বা নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইবে’, যোগ করেন চিকিৎসক স্টেফান সাভেরিামুত্তু।
১৮২৬ সালের ২৯ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে লন্ডন চিড়িয়াখানা। একে বিশ্বের প্রথম বৈজ্ঞানিক চিড়িয়াখানা হিসেবে গণ্য করা হয়। ব্রিটিশ নাগরিকরা এখান থেকেই প্রথম জিরাফ, জেব্রা বা পান্ডার মতো প্রাণী সরাসরি দেখার সুযোগ পান।
সূত্র: সিএনএন





