লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের খাবার সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

লোডশেডিংয়ে গৃহিণীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফ্রিজে রেখে দেয়া খাবার নিয়ে। ছবি : এআই
লোডশেডিংয়ের সেই দিনগুলো আবার যেন ফিরে এসেছে। সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে দুশ্চিন্তা। অন্যান্য অনেক চিন্তার পাশাপাশি গৃহিণীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফ্রিজে রেখে দেয়া খাবার নিয়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে মাংস, মাছ, দুধ, ডিম কিংবা রান্না করা খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রিজের সব খাবার নষ্ট হয়ে যায় না। কিছু সতর্কতা মেনে চললে বেশ কিছু সময় খাবার নিরাপদ রাখা সম্ভব।
দরজা কম খোলা
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অপ্রয়োজনে ফ্রিজের দরজা না খোলা। সাধারণভাবে একটি বন্ধ ফ্রিজ প্রায় ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভেতরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারে। তাই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বারবার দরজা খুলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বের করে দেওয়া উচিত নয়। কী কী খাবার আছে, তা আগে থেকেই জানা থাকলে প্রয়োজনীয় খাবার একবারে বের করে নেওয়া ভালো।
খাবার গুছিয়ে রাখা
ফ্রিজারের খাবারগুলো একে অপরের সাথে একদম লাগিয়ে বা ঠাসাঠাসি করে রাখুন। এতে খাবারগুলো একে অপরের ঠান্ডায় দীর্ঘক্ষণ জমে থাকে।
কোন খাবার আগে খাবেন?
বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময় না থাকলে খাবারের ধরন অনুযায়ী অগ্রাধিকার ঠিক করা জরুরি। দুধ, কাঁচা মাংস, মাছ, রান্না করা খাবার ও কাটা ফলের মতো দ্রুত নষ্ট হয় এমন খাবার আগে খাওয়া বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা উচিত। অন্যদিকে আচার, জ্যাম, মাখন, কিছু ফল ও সবজির মতো তুলনামূলক কম পচনশীল খাবার পরে খাওয়া যেতে পারে।
গন্ধ দেখে সিদ্ধান্ত নয়
খাবার নষ্ট হয়েছে কি না শুধু গন্ধ, রং বা স্বাদ দেখে বোঝার চেষ্টা করা ঠিক নয়। খাবার দেখতে স্বাভাবিক হলেও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পচনশীল খাবার দীর্ঘ সময় অনিরাপদ তাপমাত্রায় থাকলে তা খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সন্দেহ হলে খাবার ফেলে দেওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
বরফ ও কুলার হতে পারে বিকল্প
লোডশেডিংয়ের সমস্যা থাকলে আগে থেকেই ছোট ছোট প্লাস্টিকের বোতলে পানি ভরে বরফ করে রাখা যেতে পারে। বিদ্যুৎ চলে গেলে নরমাল চেম্বারের তাকে এই বরফের বোতলগুলো রেখে একটি ঠান্ডা আবহাওয়া তৈরি করা যেতে পারে। এটি ফ্রিজের তাপমাত্রা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। বরফসহ একটি আইস বক্স বা কুলার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে দ্রুত নষ্ট হয় এমন খাবার ঠান্ডা রাখা সম্ভব। তবে খাবার নিরাপদ রাখতে কুলারের তাপমাত্রাও পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
ড্রাই আইস বা জেল প্যাক
যদি বুঝতে পারেন বিদ্যুৎ দীর্ঘক্ষণ থাকবে না, তবে বাজার থেকে ড্রাই আইস বা জেল প্যাক কিনে ফ্রিজে রাখতে পারেন। এটি খাবারকে দীর্ঘ সময় হিমায়িত রাখতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
বিদ্যুৎ আসার পর প্রতিটি খাবার পরীক্ষা করুন। মাছ বা মাংসের বরফ পুরোপুরি গলে গেলে এবং তাতে কোনো দুর্গন্ধ বা পিচ্ছিল ভাব দেখা দিলে তা কোনোভাবেই খাবেন না। দুগ্ধজাত খাবার বা রান্না করা খাবার যদি দুই ঘণ্টার বেশি সময় ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরের তাপমাত্রায় থাকে, তবে তা ফেলে দেওয়া নিরাপদ।
মনে রাখা দরকার, খাবার ভালো আছে কি না তা বোঝার জন্য কখনোই জিহ্বা দিয়ে চেখে দেখবেন না। ‘সন্দেহ হলে ফেলে দেয়া ভাল’ খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে বড় নিয়ম। সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতাই পারে আপনার শখের খাবারগুলোকে অপচয় থেকে বাঁচাতে।






