কোরবানির হাটে সুস্থ গরু চিনবেন যেভাবে

সংগৃহীত ছবি
কোরবানির ঈদ এলেই জমে ওঠে দেশের পশুর হাট। ভালো ও সুস্থ গরু কেনার জন্য ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। তবে এ সময় অতিরিক্ত লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গরুকে দ্রুত মোটাতাজা করতে বিভিন্ন ধরনের হরমোন, স্টেরয়েড ও ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহার করেন। বাইরে থেকে এসব গরু দেখতে বেশ বড়, ভারী ও আকর্ষণীয় মনে হলেও বাস্তবে সেগুলো সবসময় সুস্থ নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই কোরবানির পশু কেনার আগে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে খেয়াল করা জরুরি।
গরুর চলাফেরা ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন
সুস্থ গরু সাধারণত প্রাণবন্ত ও সচল থাকে। মানুষের উপস্থিতি টের পেলে সাড়া দেয়, স্বাভাবিকভাবে হাঁটে এবং আশপাশের পরিবেশের প্রতি সতর্ক থাকে। কান ও লেজ নেড়ে স্বাভাবিক আচরণ করে।
অন্যদিকে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু অনেক সময় নিস্তেজ ও দুর্বল দেখায়। তারা কম নড়াচড়া করে, হাঁটতে অনীহা প্রকাশ করে এবং সামান্য চলাফেরাতেই হাঁপিয়ে ওঠে। অনেক গরুকে মাথা নিচু করে ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চোখও স্বাভাবিকের তুলনায় ঘোলা বা ক্লান্ত দেখাতে পারে।
শরীরে অস্বাভাবিক ফোলা ভাব আছে কি না দেখুন
হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে অনেক গরুর শরীরে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা যায়। বিশেষ করে উরু, রান, থুতনি, ঘাড় কিংবা প্রস্রাবের পথের আশপাশের অংশ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ফোলা মনে হতে পারে।
অনেক সময় শরীরের চামড়া অস্বাভাবিকভাবে টানটান দেখায়। এছাড়া মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হওয়াও সতর্ক হওয়ার একটি লক্ষণ। এসব বিষয় ভালোভাবে খেয়াল করলে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হয়।
আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে পরীক্ষা করুন
গরু কেনার সময় সহজ একটি পরীক্ষা করতে পারেন। গরুর পিঠ, রান বা অন্য কোনো মাংসল স্থানে কয়েক সেকেন্ড আঙুল দিয়ে চাপ দিন। যদি চাপের জায়গাটি বসে যায় এবং কিছু সময় পর্যন্ত দাগের মতো থেকে যায়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় শরীরে অতিরিক্ত পানি বা তরল জমে আছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহারের কারণে এমন অবস্থা তৈরি হতে পারে। সুস্থ গরুর ক্ষেত্রে চাপ সরিয়ে নেওয়ার পর মাংস দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে এবং কোনো দাগ থাকে না।
কেন এমন গরু এড়িয়ে চলবেন
প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ পশুর শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে গরুর লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমন পশু দ্রুত অসুস্থও হয়ে পড়তে পারে।
শুধু তাই নয়, এসব গরুর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থাকে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাই কোরবানির পশু কেনার সময় শুধু গরুর আকার, ওজন বা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে তার স্বাভাবিক আচরণ, শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যগত লক্ষণগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। একটু সচেতন হলেই সুস্থ ও নিরাপদ গরু নির্বাচন করা সম্ভব।






