বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ শান্তি শোভাযাত্রা

জাতীয় সম্মিলিত শান্তি শোভাযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসব ২০২৫। ছবি: সংগৃহীত
গৌতম বুদ্ধের দেখানো পথ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে দিয়েছে শান্তির দিশা, শিখিয়েছে আত্ম-অনুসন্ধান ও মুক্তির পথ । তিনি কেবল একজন ধর্ম প্রবর্তকই নন, ছিলেন এক মহান দার্শনিক, এক কালজয়ী মানবতাবাদী এবং এমন এক আলোকবর্তিকা, যাঁর আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে মানবমুক্তির পথ।
আগামীকাল পহেলা মে পালিত হবে বুদ্ধ পূর্ণিমা। এই দিনের তারিখ চন্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে নির্ধারিত হয়, তাই প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে এর তারিখ পরিবর্তিত হতে থাকে। বুদ্ধ পূর্ণিমাকে "ত্রিস্মৃতি বিজড়িত" পূর্ণিমা বলা হয়, কারণ এই দিনে গৌতম বুদ্ধের জীবনের তিনটি প্রধান ঘটনা ঘটে। এগুলো হলো, নেপালের লুম্বিনীতে রাজকুমার সিদ্ধার্থ হিসেবে তাঁর জন্ম, ভারতের বোধগয়ায় একটি বোধিবৃক্ষের নিচে তিনি পরম জ্ঞান বা বুদ্ধত্ব লাভ এবং ভারতের কুশিনগরে মহাপরিনির্বাণ লাভ, অর্থাৎ তাঁর দেহত্যাগ।
এই তিনটি ঘটনা একই বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে ঘটায় এই দিনটি বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র। বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন করেন।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের উদ্যোগে দীর্ঘ ২৭ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে "জাতীয় সম্মিলিত শান্তি শোভাযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসব"। এ বছর ২৫৭০ বুদ্ধবর্ষের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে "যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, হিংসা নয় মৈত্রী চাই"।
এই মর্মবাণীকে ধারণ করে ৩০ এপ্রিল বিকাল ৪টায় ঢাকার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে এই বর্ণাঢ্য শান্তি শোভাযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসব শুরু হবে। বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া বিভিন্ন ধর্ম, সম্প্রদায় ও বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি এই উৎসবকে এক সার্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত করবে।



