মানব সমাজের এআই যাত্রার শেষ কোথায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু, গ্রিক, রোমান, পারস্য ও মায়া সভ্যতার প্রাচীন শৃঙ্খল ভেঙে মানবসভ্যতা আজ এআই রথে (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)! যে টাইগ্রিস আর ফোরাত নদের তীরে সুমেরীয়রা প্রথম কীলকলিপিতে অক্ষরের জন্ম দিয়েছিল কাদার ফলকে, কিংবা সিন্ধুর তীরে যে পোড়ামাটির নগরী বুনেছিল আধুনিকতার প্রথম বীজ— মানুষের সেই আদিম জিজ্ঞাসা আজ আর মাটির সীমানায় নেই।
গ্রিসের দার্শনিক বিতর্ক কিংবা পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য রোমান কলোসিয়ামের পাথুরে অহংকার, পারস্যের জ্যামিতিক নকশা আর মায়ানদের রহস্যময় নক্ষত্র গণনার প্রাচীন অঙ্কজাদু ভুলে এক অদৃশ্য মহাজাগতিক স্রোতে গা ভাসিয়েছে মানবজাতি। হাজার বছরের চাকা, বাষ্পীয় ইঞ্জিন আর ইন্টারনেটের চেনা স্টেশনগুলো পেছনে ফেলে সভ্যতা এখন এক ডানাহীন, গতিময় ‘হাওয়াই যান’-এর সওয়ার— এআই।
চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বের বিশ্ববিখ্যাত সেই ‘মার্চ অব প্রগ্রেস’ ছবিটির মতো। চার হাত-পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে বেড়ানো সেই আদিম মানুষগুলো কালের বিবর্তনে আজ সুট-টাইয়ের ভদ্রলোক। বহু বছর ধরে যারা ঠিকমতো হাঁটতে ব্যঙ্গাত্মক যন্ত্রটিই আজকের এআই মডেলের চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই, ক্লড, গ্রক— যা সেকেন্ডে লিখে ফেলছে বড় বড় বই বা প্রবন্ধ।
মানব সমাজের এআই যাত্রা: এআইয়ের বৈজ্ঞানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ১৯৫০ সালে। ব্রিটিশ গণিতবিদ অ্যালান টুরিং ‘কম্পিউটিং মেশিনারি অ্যান্ড ইন্টিলিজেন্স’ নামে একটি যুগান্তকারী প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে খুলে দেন এআই গবেষণার পথ । সেখানে তিনি প্রথম প্রশ্ন তুলেছিলেন— মেশিন কি চিন্তা করতে পারে?
বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের একটি পরীক্ষাও প্রস্তাব করেন তিনি। যা আজ বিশ্ব জুড়ে ‘টুরিং টেস্ট’ নামে পরিচিত। এখান থেকেই মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণাগত যাত্রা শুরু। তবে আনুষ্ঠানিক জন্ম ১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এক কর্মশালায়। সেখানেই ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটির নামকরণ করেছিলেন এআইয়ের জনক কম্পিউটার বিজ্ঞানী জন ম্যাককার্থি। সে হিসাবে আজকের এই এআই সভ্যতার জনকও ম্যাককার্থিই!
সভ্যতাকে কোথায় নিয়ে গেছে এআই: আধুনিক সভ্যতাকে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়েছে এআই। আমূল বদলে দিয়েছে মানুষের চিন্তাচেতনা, কাজ এবং জীবনযাত্রার ধরন। হাজার মাইল দূরে বসে ভিন দেশের রোগীকে অপারেশন করছেন আরেক দেশের চিকিৎসক। চালক ছাড়াই নির্ঝঞ্ঝাটে চলছে গাড়ি। আবার ইশারায় খুলছে সেই গাড়ির দরজা। হাতে লেখার বদলে শুধু ভাবলেই টাইপ হয়ে যাচ্ছে সামনের কম্পিউটার স্ক্রিনে। এআই ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) মস্তিষ্কের ওই সংকেতগুলো মুহূর্তে ডিকোড করে লেখা হিসেবে ফুটিয়ে তুলছে স্ক্রিনে। সেটিও আবার হাতের চেয়ে দ্রুত; মানুষের সেই চিন্তার গতিতেই!
লেখার প্রযুক্তির আরও এক ধাপ ছাপিয়ে চলে গেছে ছবিতেও। চোখে কী দেখছে তা হুবহু এঁকে দিচ্ছে স্ক্রিনে। মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কারখানায় কাজ করছে রেকর্ড করছে তিমি মাছ, হাতি, পাখি এবং ডলফিনের মতো প্রাণীদের ডাক ও যোগাযোগের শব্দ। হাতের স্মার্টওয়াচে মাপছে হার্টবিট, রক্তচাপ। ট্র্যাক করছে ঘুম।
এআইয়ের ইতিবাচক প্রভাবকে সভ্যতার জন্য এক বড় আশীর্বাদ হিসেবে দেখানো হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও নিবন্ধেও। শিক্ষা, চিকিৎসা, আবিষ্কার, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, কৃষি, যোগাযোগ, স্থাপত্য— বিশ্বের সব আধুনিক সেবাতেই এআই। আবার যুদ্ধক্ষেত্রের মারণাস্ত্র থেকে তথ্য হ্যাকিংয়ের মতো গোপন গোয়েন্দাগিরিতেও ওস্তাদ যোদ্ধা।
১ জুলাই ইউএন নিউজের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগল ডিপমাইন্ডের ‘আলফাফোল্ড’ প্রযুক্তি এরই মধ্যে ২০ কোটিরও বেশি প্রোটিনের গঠন নিখুঁতভাবে পূর্বাভাস দিতে পেরেছে, যা নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রযুক্তিবিষয়ক থিংকট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বিজনেস অ্যানালিটিক সার্টিফিকেশন (আইএবিএসি) প্রকাশিত গবেষণায় উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিক্ষানুরাগী দিকও। দেখা গেছে, এআইচালিত ব্যক্তিগত টিউটরিং সিস্টেম শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞান শেখার দক্ষতা বাড়িয়ে দিয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ।
এ ছাড়া, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস খাতের উন্নতির ফলে মানুষের যাতায়াতের সময়ও কমে আসবে প্রায় ২০ শতাংশ, যা বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতায় যোগ করবে কোটি কোটি ঘণ্টা সময়। জলবায়ু মডেলিং এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর নানা উপায় খোঁজা হচ্ছে এআইয়ের মাধ্যমে। বড় বড় ডেটা সেন্টারের শক্তি সাশ্রয়ে এআই ব্যবহার করে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে জ্বালানি খরচ।
এআইয়ের প্রধান কাজগুলো: তথ্য বিশ্লেষণ ও প্যাটার্ন চেনা, মানুষের ভাষা বুঝতে পারা, জটিল সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া, লেখালেখি, ছবি আঁকা, গান তৈরি বা কোডিংয়ের মতো সৃজনশীল কাজে সহায়তা, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় সহায়তা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালানো।
এআইয়ের ভয়ংকর চেহারা: সম্ভাবনার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে ‘এজেন্টিক এআই’ এবং এর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান এআই সিস্টেমগুলো মানুষের দেওয়া নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ ছাড়াই নিজে থেকে কোডিং করা বা বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রযুক্তিবিদদের ভয়, এআই যখন মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান বা ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’-এ রূপ নেবে, তখন সে নিজের কোড নিজেই উন্নত করতে শুরু করবে। এই স্তরে পৌঁছানোর পর মানুষের পক্ষে এআইকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
সমাজ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব: অনেকে মনে করেন, এআইয়ের মাধ্যমে মানব বিলুপ্তির বিষয়টি দূরবর্তী ভবিষ্যৎ বা কল্পবিজ্ঞান। কিন্তু এর ফলে বর্তমান সমাজে যে ক্ষতিগুলো হচ্ছে, তা অত্যন্ত বাস্তব। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ডয়চে ভেলের এক নিবন্ধে বর্তমান সমাজের ওপর এআইয়ের নেতিবাচক প্রভাবগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে।
তার মধ্যে অন্যতম হলো ডিপফেইক। এআই-জেনারেটেড ছবি, কণ্ঠস্বর এবং ভিডিওর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। নারীর সম্মতির বাইরে তাদের ডিপফেইক পর্নোগ্রাফি তৈরি এবং রাজনৈতিক নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করার মতো ঘটনা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে।
পরের সিঁড়িতেই রয়েছে চাকরিচ্যুতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিশ্ববিখ্যাত বিজনেস স্কুল বা ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ এক সমীক্ষায় (২০ জুলাই ২০২৬) বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে এআইয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকট এবং সম্পদ কুক্ষিগত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১১ থেকে ১২ শতাংশ। এর ফলে ধনীদের সম্পদ আরও বাড়বে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা কাজ হারিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।
জীবাণু অস্ত্র ও ভাইরাস রূপান্তর : ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এআই নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হলো, মডেলগুলো এখন বিপজ্জনক প্যাথোজেন বা ভাইরাসের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বৈজ্ঞানিক তথ্য দিতে পারছে। এআই সুরক্ষাবিষয়ক ল্যাব অ্যানথ্রোপিক গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে।
সেখানে বলা হয়েছে, কিছু গবেষক তাদের ‘ক্লড’ নামের শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের জেনেটিক রূপান্তরের চেষ্টা করছিলেন। এআইয়ের সাহায্যে তারা এমন পরিবর্তন ঘটাতে চেয়েছিলেন, যা ভাইরাসটির মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এড়িয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা বাড়াতে পারে। এ ছাড়া ক্ষতিকর বিষ ছড়িয়ে মহামারী তৈরির মতো ঝুঁকিপূর্ণ তথ্যও এআই চ্যাটবট থেকে পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা দেখিয়েছেন, এআই ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের কৃত্রিম ভাইরাস জিনোম নকশার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের ল্যাব-সৃষ্ট মহামারী তৈরির আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
কিলার রোবট: যুদ্ধক্ষেত্রে এআইয়ের সবচেয়ে বড় সামরিক অগ্রগতির একটি হলো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পরিচালিত ঘাতক ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় রণতরীর ব্যবহার। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং তাদের বিশেষ টাস্ক ফোর্স ৫৯ সম্প্রতি লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে ‘করসেয়ার’ নামের এআই-চালিত স্বয়ংক্রিয় সারফেস ভেসেল বা চালকবিহীন জাহাজ মোতায়েন করেছে।
এই রণতরীগুলো সমুদ্রের বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে এআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া ইউক্রেনসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে এমন ড্রোন ব্যবহারের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য শনাক্ত ও তা নিয়ে স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম। এ ধরনের প্রযুক্তিকে ‘ডিজিটাল ডিহিউম্যানাইজেশন’ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
রণক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের আগস্টেই এ ধরনের ‘কিলার রোবট’ আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সমাধান: চলমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বনেতারা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া এক ভাষণে সতর্ক করে বলেছেন, এআই মানব অস্তিত্বের জন্য এক অভূতপূর্ব হুমকি। তিনি অবিলম্বে কঠোর আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে ‘ইউরোপীয় এআই অ্যাক্ট’ পাস করেছে, যেখানে এআইয়ের ঝুঁকি অনুযায়ী সেগুলোকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে নিয়ন্ত্রণের নিয়ম করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের মধ্যে এআই প্রশিক্ষণের জন্য মানুষের ব্যক্তিগত ডেটা স্ক্র্যাপ করার পরিবর্তে ‘সিন্থেটিক ডেটা’ (কৃত্রিমভাবে তৈরি ডেটা) ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো, যা মানুষের গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে।
এআই কত প্রকার?: এআইকে মূলত দুটি প্রধান দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা হয়: ক্ষমতা বা বুদ্ধিমত্তা এবং কার্যপদ্ধতি বা প্রযুক্তি।
ক্ষমতা বা বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক এআই আবার তিন প্রকার— ১. ন্যারো বা উইক এআই (এরা মানুষের দেওয়া নির্দেশের বাইরে নিজে থেকে অন্যকিছু করতে পারে না)। চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনাই, আইফোনের সিরি, চালকবিহীন গাড়ি বা দাবা খেলার কম্পিউটার— সবই ন্যারো এআইয়ের উদাহরণ। ২. জেনারেল বা স্ট্রং এআই (হুবহু মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে)। ৩. সুপার এআই (এআইয়ের চূড়ান্ত রূপ)। এই স্তরে পৌঁছালে এআইয়ের বুদ্ধিমত্তা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকেও কোটি কোটি গুণ ছাড়িয়ে যাবে।
কার্যপদ্ধতি বা টেকনিক্যাল বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এআই আবার চার প্রকার। এআইয়ের অতি-আধুনিকতা যে একদিন পুরো মানবসমাজকে ধ্বংস করবে, সেই সতর্কতা আজ থেকে ১০ বছর আগেই দিয়েছিলেন পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং। ২০১৪ সালে বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মানবজাতির অবসান ঘটাতে পারে পূর্ণাঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ।’
তিনি এর ব্যাখ্যায় ডারউইনের বিবর্তনবাদের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেছিলেন, মানুষ একটি ধীর জৈবিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু এআই যখন মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে, তখন সে নিজে থেকেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিজের কোড এবং নকশা পরিবর্তন বা উন্নত করতে শুরু করবে।
সেই আশঙ্কায় এখন চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মানুষের নিজের হাতে গড়া এআই প্রযুক্তি নিয়ে। সৃষ্টির আগুনেই পুড়ে ছাই হওয়ার পথে হাজার বছরের শ্রমে গড়া মানুষের সভ্যতা।



