সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
গ্রাম ডুবিয়ে শহরে আলো!

গ্রাম ডুবিয়ে শহরে আলো!

সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • ইপেপার
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • ইপেপার
  • EN

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ আগামীর সময়

আগামীর সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অ্যাপোলো বনাম আর্টেমিস

৫৮ বছরে পৃথিবীর বদলে যাওয়ার গল্প

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৫১
৫৮ বছরে পৃথিবীর বদলে যাওয়ার গল্প

বাঁয়ে ১৯৬৮ সালের, ডানে ২০২৬ সালের পৃথিবীর ছবি, দুটি ছবিই নাসার তোলা। ছবি: সংগৃহীত

সময়টা ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বর। চাঁদের অজানা পেছনের অংশ প্রদক্ষিণ করছিল অ্যাপোলো-৮। জানালার বাইরে তাকিয়ে মহাকাশচারী ফ্রাঙ্ক বোরম্যান দেখছিলেন এক নির্জন, ধূসর জগৎ। গহ্বর আর আগ্নেয়গিরির চিহ্নে ভরা, জীবনের কোনো ছাপ নেই সেখানে।

হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্য। চাঁদের দিগন্ত পেরিয়ে ধীরে ধীরে ভেসে ওঠে রঙিন পৃথিবী। নিঃজীব সেই প্রান্তরের বিপরীতে জীবন্ত এক গ্রহ। সহযাত্রী উইলিয়াম অ্যান্ডার্স দ্রুত সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন। জন্ম নেয় ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ছবি ‘পৃথিবী উদয়’।

বিশাল মহাশূন্যের অন্ধকারে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র, রঙিন এই গ্রহের ছবি বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। পৃথিবীকে নতুন করে দেখার চোখ তৈরি করে। পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নটি উঠে আসে নতুন গুরুত্ব নিয়ে। এর প্রভাবেই ১৯৭০ সালে শুরু হয় আর্থ-ডে। যা পরবর্তীতে বৈশ্বিক পরিবেশ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে।

আবার চাঁদের পথে, নতুন এক দৃশ্য

প্রায় ৫৮ বছর পর, ২০২৬ সালে আবার চাঁদের পথে মানুষ। আর্টেমিস–২ মিশনের মহাকাশচারীরা এবার ধারণ করেন পৃথিবীর আরেকটি ব্যতিক্রমী ছবি। এই ছবিতে দেখা যায়, চাঁদের ধূসর দিগন্তের পেছনে ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে পৃথিবী। নিস্তব্ধ, রঙহীন প্রান্তরের বিপরীতে যেন আলো-ছায়ায় ভরা এক জীবন্ত গোলক। ছবিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পৃথিবী অস্ত’।

৬ এপ্রিল ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে, চাঁদের পাশ দিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টার উড্ডয়নকালে ধারণ করা হয় এই দৃশ্য। পৃথিবীর আলোকিত অংশে সাদা মেঘের স্তর আর নীল সমুদ্র স্পষ্ট, আর অন্য প্রান্তে নেমে এসেছে গভীর রাতের অন্ধকার।

১৯৬৮ সালের মতো এবার আর মুহূর্তটি আকস্মিক ছিল না বরং পরিকল্পিত প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই ধরা হয়েছে এই দৃশ্য।

প্রযুক্তির যুগেও মানুষের চোখ

আজ পৃথিবীকে নজরদারিতে রেখেছে অসংখ্য কৃত্রিম উপগ্রহ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকেও সরাসরি পৃথিবীর দৃশ্য দেখা যায়। তবুও ‘পৃথিবী অস্ত’ ছবিটি আলাদা গুরুত্ব পায়। কারণ এটি মানুষের চোখে দেখা ও অনুভূতি থেকে ধারণ করা। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই ছবিটিকে বিশেষ অর্থ দেয়।

যন্ত্রের ক্যামেরা পৃথিবীর তথ্য ধরে, কিন্তু মানুষের চোখ ধরে অনুভূতি। একজন মহাকাশচারী যখন এমন একটি মুহূর্তে ক্যামেরার বোতাম চাপেন, তখন সেখানে শুধু দৃশ্য নয়—থাকে বিস্ময়, উপলব্ধি আর এক ধরনের নীরব সংযোগ। সেই কারণেই এই ছবি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক নথি নয়, বরং আমাদের নিজস্ব গ্রহকে নতুন করে দেখার এক আবেগঘন স্মারক হয়ে ওঠে।

বদলে যাওয়া পৃথিবী

ভূ-তাত্ত্বিক হিসেবে ৫৮ বছর খুবই স্বল্প সময়। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবীতে দৃশ্যমান পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মহাকাশ থেকে তাকালে সেই পরিবর্তনের ছাপ ধীরে ধীরে চোখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জলবায়ুতে। গড় তাপমাত্রা অন্তত ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে। একই সঙ্গে বনভূমি কমে গিয়ে কৃষিজমি ও নগরায়ন দ্রুত বেড়েছে। মানুষের বসতি, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো বিস্তারের ফলে পৃথিবীর ভূ-দৃশ্যও বদলে গেছে।

এর একটি বড় উদাহরণ আরাল সাগর। একসময় যা ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলাশয়, তা এখন আগের তুলনায় নেমে এসেছে ১০ শতাংশেরও কমে।

এই পরিবর্তনগুলো শুধু পরিসংখ্যান বা গবেষণার কাগজে সীমাবদ্ধ নয়। মহাকাশ থেকে তোলা ছবিতেও এর প্রভাব ধরা পড়ে। কোথাও কমে যাওয়া সবুজ, কোথাও শুকিয়ে যাওয়া জলাধার, আবার কোথাও দ্রুত বিস্তৃত নগরাঞ্চল। দূর থেকে পৃথিবী এখনও সুন্দর, কিন্তু সেই সৌন্দর্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধীরে ধীরে বদলে যাওয়ার স্পষ্ট সংকেত।

অ্যান্টার্কটিকার সতর্ক সংকেত

দুটি ছবিতেই দৃশ্যমান অ্যান্টার্কটিকা। পৃথিবীর এই দক্ষিণ প্রান্তটি দীর্ঘদিন ধরে বরফে আচ্ছাদিত থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এটি দ্রুত পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা একে পৃথিবীর দ্রুত উষ্ণ হওয়া অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক দশকে প্রায় ২৮ হাজার বর্গকিলোমিটার বরফস্তর ভেঙে সাগরে মিশে গেছে। শুধু তাই নয়, সমুদ্রের ওপর ভাসমান বরফের পরিমাণও কমছে ধারাবাহিকভাবে। বরফ গলার সময় আগের চেয়ে দ্রুত হচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে শীতকালেও বরফ গঠনের ধরণ বদলে যাচ্ছে।

এর পাশাপাশি ঋতুচক্রেও স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কোথাও তুষারপাত দেরিতে শুরু হচ্ছে, আবার কোথাও আগেভাগেই গলে যাচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রও চাপের মুখে পড়ছে।

গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের বড় অংশই মানুষের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে, যার প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে অ্যান্টার্কটিকার মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে।

দূর মহাকাশ থেকে তোলা দুটি ছবিতে এই পরিবর্তন সরাসরি চোখে না পড়লেও, একই অঞ্চলকে ঘিরে সময়ের ব্যবধান আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর পরিবর্তন নীরবে হলেও থেমে নেই।

অতীতও ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা

১৯৬৮ সালের পৃথিবীও নিখুঁত ছিল না। সে সময় বড় বড় শিল্পনগরীগুলোতে বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশেও এমন অবস্থা ছিল যে, ধোঁয়া আর কুয়াশার মিশ্রণে অনেক শহরে দিনের বেলায়ও দৃশ্যমানতা কমে যেত। কোথাও কোথাও দূষণের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, নদীর পানিতে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শিল্পায়ন ও উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছিল, তার প্রভাব তখনই স্পষ্ট হতে শুরু করে। তবে সেই বাস্তবতা সবার কাছে সমানভাবে ধরা পড়ছিল না।

এই প্রেক্ষাপটেই ‘পৃথিবী উদয়’ ছবিটি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়। মহাকাশের দূরত্ব থেকে দেখা ক্ষুদ্র, নীল এই গ্রহ মানুষকে হঠাৎ করেই ভাবতে বাধ্য করে, এটাই আমাদের একমাত্র বাসস্থান, যার বিকল্প নেই।

ছবিটি শুধু বিস্ময় জাগায়নি, বরং এক ধরনের দায়বদ্ধতাও তৈরি করেছিল। পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নটি তখন নতুন গুরুত্ব পায়। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে জনসচেতনতা, শুরু হয় আন্দোলন।

অনেকের মতে, এই ছবিটি একটি প্রজন্মকে বদলে দিয়েছিল তাদেরকে প্রকৃতির প্রতি আরও সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল হতে। আজও সেই প্রভাব বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সচেতনতার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে।

যা বলেছিল বিজ্ঞানীরা

ফ্রাঙ্ক বোরম্যান একবার বলেছিলেন, তারা চাঁদের পথে রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু সবচেয়ে বেশি মনোযোগ ছিল পৃথিবীর দিকেই।

বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগান একবার বলেছিলেন, ‘এই ক্ষুদ্র নীল বিন্দুই আমাদের সবকিছু। এখানেই আমাদের বসবাস, আমাদের ইতিহাস, আমাদের ভবিষ্যৎ।’

দুটি ছবি-‘পৃথিবী উদয়’ ও ‘পৃথিবী অস্ত’—দুটি সময়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমটি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছিল, পৃথিবীকে নতুন করে দেখার দৃষ্টি দিয়েছিল। আর দ্বিতীয়টি সেই দৃষ্টিকেই আরও গভীর করে, আমাদের সামনে তুলে ধরছে এক নীরব সতর্কবার্তা।

সূত্র: বিবিসি

    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    চট্টগ্রামে জমজমাট একটি দিন

    চট্টগ্রামে জমজমাট একটি দিন

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২২

    ফল খেয়ে নিষ্ফল মিটিং, ভাড়া বাড়তে পারে ২২ পয়সা

    ফল খেয়ে নিষ্ফল মিটিং, ভাড়া বাড়তে পারে ২২ পয়সা

    ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:১০

    ‘ক্যামেরা বন্ধ করেন ভাই, আমরা নেগোশিয়েট করতেছি’

    ‘ক্যামেরা বন্ধ করেন ভাই, আমরা নেগোশিয়েট করতেছি’

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৫

    জীবনের ছয় দশকে গল্প শোনালেন অভিনেতা তৌকীর আহমেদ

    জীবনের ছয় দশকে গল্প শোনালেন অভিনেতা তৌকীর আহমেদ

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:২৩

    চার ম্যাচ হাতে রেখে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন

    চার ম্যাচ হাতে রেখে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন

    ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩২

    ৫৮ বছরে পৃথিবীর বদলে যাওয়ার গল্প

    ৫৮ বছরে পৃথিবীর বদলে যাওয়ার গল্প

    ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৫১

    এস আলমকে ফেরাতে চান চাকরিচ্যুতরা, শাস্তি দাবি গ্রাহকদের

    এস আলমকে ফেরাতে চান চাকরিচ্যুতরা, শাস্তি দাবি গ্রাহকদের

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৬

    শরিফুলের কৌশলেই স্মিথের বাজিমাত

    শরিফুলের কৌশলেই স্মিথের বাজিমাত

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪১

    নতুন করে গরিব হবে অনেক মানুষ

    নতুন করে গরিব হবে অনেক মানুষ

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৭

    তেলের দামে লাফ, খাবারের প্লেটে পড়বে টান

    তেলের দামে লাফ, খাবারের প্লেটে পড়বে টান

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৫

    আইপিএলের গ্যালারিতে ‘কালাজাদু’

    আইপিএলের গ্যালারিতে ‘কালাজাদু’

    ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৮

    বাসের ভাড়া ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর আবদার

    বাসের ভাড়া ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর আবদার

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৯

    মসজিদের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    মসজিদের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪০

    তেলের দাম বাড়তেই ২০০ টাকার ভাড়া ৪০০

    তেলের দাম বাড়তেই ২০০ টাকার ভাড়া ৪০০

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৫

    দেশ ছাড়তে সাগর পাড়ি

    দেশ ছাড়তে সাগর পাড়ি

    ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০১