এবার বিষাক্ত উদ্ভিদের আগ্রাসনে কাবু মধ্যপ্রাচ্যের এক দেশ

উদ্ভিদটি অনেক অঞ্চলে ধুতুরা নামে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্র, কিংবা ইসরায়েলের আগ্রাসন নয়। এবার বিষাক্ত এক উদ্ভিদের মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দেশের কৃষক ও সাধারণ বাসিন্দাদের মারাত্মক বিষাক্ত ‘দাতুরা’ উদ্ভিদের আগ্রাসন সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করেছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে ধুতুরা, কাঁটা আপেল বা শয়তানের তূরী নামে পরিচিত।
সাধারণত মরুভূমি অঞ্চলে এই উদ্ভিদটি খুব অল্প পরিমাণে জন্মালেও ইরাকের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বর্তমানে দেশটির কৃষিজমিতে এর বৃদ্ধি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্ভিদটি ফসলের জন্য অত্যন্ত বড় হুমকি; কারণ এর মধ্যে থাকা উচ্চমাত্রার বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান মানুষ, প্রাণী এবং অন্যান্য উদ্ভিদের স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই গাছটি তার সাদা বা বেগুনি রঙের তূরী আকৃতির ফুল, গায়ে কাঁটাযুক্ত সবুজ ফল এবং তীব্র গন্ধযুক্ত বড় বড় পাতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
অত্যন্ত বিষাক্ত হওয়া সত্ত্বেও নিখুঁত ও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ব্যবহার করা হলে এর থেকে চিকিৎসাক্ষেত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদান পাওয়া যায়, যার মধ্যে রয়েছে অ্যাট্রোপিন, হায়োসামিন এবং স্কোপোলামিন, যা চোখের মণি প্রসারণ, মোশন সিকনেস ও খিঁচুনি প্রতিরোধী ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ইরাকের সুলাইমানি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক খালিদ মোহাম্মদ ওমর আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে চিকিৎসাক্ষেত্রে এই উদ্ভিদের ব্যবহার প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো।
ইরাকের সুলাইমানি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক খালিদ মোহাম্মদ ওমর আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে চিকিৎসাক্ষেত্রে এই উদ্ভিদের ব্যবহার প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো।
ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীদের আগমনের আগে সেন্ট্রাল আমেরিকার আদিবাসীরা ঐতিহ্যগত চিকিৎসায়, বিশেষ করে অ্যানেস্থেশিয়া ও ব্যথা উপশমের জন্য এটি ব্যবহার করত। ১৫ শতকের শেষের দিকে ইউরোপীয়রা এটি দেখার পর এর শক্তিশালী কার্যকারিতায় মুগ্ধ হয়ে ইউরোপে নিয়ে যায়, যেখান থেকে এটি পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণত যেকোনো আক্রমণাত্মক উদ্ভিদ তার আদি বাসস্থানের কাছাকাছি জলবায়ুতেই বংশবৃদ্ধি করে, তাই সেন্ট্রাল আমেরিকার জলবায়ুর সাথে অন্যান্য অঞ্চলের আকাশ-পাতাল তফাত থাকা সত্ত্বেও ধুতুরা কীভাবে টিকে আছে তা দেখে বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়েছেন। স্পেনের সেভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিজ্ঞানী দল বিশ্বব্যাপী ধুতুরা উদ্ভিদের এক লাখ চব্বিশ হাজারটিরও বেশি উপস্থিতির ডাটাবেস নিয়ে গবেষণা করে সাত হাজার চারশত চুয়াল্লিশটি সুনির্দিষ্ট স্থানে এর অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন।
সাধারণত যেকোনো আক্রমণাত্মক উদ্ভিদ তার আদি বাসস্থানের কাছাকাছি জলবায়ুতেই বংশবৃদ্ধি করে, তাই সেন্ট্রাল আমেরিকার জলবায়ুর সাথে অন্যান্য অঞ্চলের আকাশ-পাতাল তফাত থাকা সত্ত্বেও ধুতুরা কীভাবে টিকে আছে তা দেখে বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়েছেন। স্পেনের সেভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিজ্ঞানী দল বিশ্বব্যাপী ধুতুরা উদ্ভিদের এক লাখ চব্বিশ হাজারটিরও বেশি উপস্থিতির ডাটাবেস নিয়ে গবেষণা করে সাত হাজার চারশত চুয়াল্লিশটি সুনির্দিষ্ট স্থানে এর অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন।
চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই স্থানগুলোর মধ্যে সাতান্ন শতাংশই অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশ, যা ধুতুরার আদি উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর সম্পূর্ণ বিপরীত, এবং বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে ধুতুরার ছড়িয়ে পড়ার মতো উপযুক্ত অঞ্চলের মাত্র এক শতাংশ জায়গা বাকি আছে যা এখনও অলঙ্ঘিত রয়ে গেছে।
মিশরের ডেজার্ট রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলহাগারি আল জাজিরাকে বলেছেন যে ইরাকের নদীপাড়ের নাইট্রোজেন-সমৃদ্ধ মাটি এবং উত্তপ্ত, আধা-শুষ্ক জলবায়ু এই উদ্ভিদের বিস্তারের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে, যা বিশ্বব্যাপী বাকি থাকা সেই এক শতাংশ জায়গা দখল করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। বিজ্ঞানীরা আরও আবিষ্কার করেছেন যে নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে ধুতুরার শত শত বছর সময় লাগে না, বরং মাটি স্পর্শ করার সাথে সাথেই এর বীজের মধ্যে তাৎক্ষণিক অভিযোজনের এক সুপ্ত ক্ষমতা জাগ্রত হয়।
মিশরের ডেজার্ট রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলহাগারি আল জাজিরাকে বলেছেন যে ইরাকের নদীপাড়ের নাইট্রোজেন-সমৃদ্ধ মাটি এবং উত্তপ্ত, আধা-শুষ্ক জলবায়ু এই উদ্ভিদের বিস্তারের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে, যা বিশ্বব্যাপী বাকি থাকা সেই এক শতাংশ জায়গা দখল করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। বিজ্ঞানীরা আরও আবিষ্কার করেছেন যে নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে ধুতুরার শত শত বছর সময় লাগে না, বরং মাটি স্পর্শ করার সাথে সাথেই এর বীজের মধ্যে তাৎক্ষণিক অভিযোজনের এক সুপ্ত ক্ষমতা জাগ্রত হয়।
অধ্যাপক এলহাগারি দুঃখ প্রকাশ করে আরও জানান যে ইরাকে দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়া এবং বিপুল পরিমাণ উর্বর কৃষিজমি পরিত্যক্ত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকাটাই এই বিষাক্ত উদ্ভিদটির শিকড় গেড়ে বসার পথ সহজ করে দিয়েছে।
বর্তমানে ইরাকি কর্তৃপক্ষ জৈবিক নিয়ন্ত্রণ, কীটনাশক স্প্রে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই উদ্ভিদের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে উদ্ভিদটির ভৌগোলিক সীমানা আরও বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে এবং বিশ্বের যেসব উষ্ণ অঞ্চলে এটি এখনও পৌঁছাতে পারেনি সেখানে এর আগ্রাসী বিস্তার এখনই থামার কোনো সম্ভাবনা নেই।






