সায়েন্স ফিকশন
দি এন্ড অব ইটারনিটি

আইজ্যাক আসিমভের টাইম ট্রাভেল বা সময় ভ্রমণের উপন্যাসগুলোর মধ্যে ‘দি এন্ড অব ইটারনিটি’ অন্যতম সেরা ও মাস্টারপিস হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এই সায়েন্স ফিকশন উপন্যাসটি শুধু একটি সাধারণ সময় ভ্রমণের গল্প নয়; বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর ও চিন্তনশীল দর্শন।
গল্পের মূল প্রেক্ষাপট ইটারনিটি বা অনন্তকাল নামে এক গোপন সংস্থাকে ঘিরে। এই সংস্থার কর্মীরা সময়ের বিভিন্ন শতাব্দী বা শতাব্দের বাইরে অবস্থিত এমন এক জগতে বাস করে, যা আমাদের চেনা মহাবিশ্বের সাধারণ সময়ের প্রবাহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাদের কাজ হলো মানবজাতির ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া। মানবসভ্যতা যাতে কোনো বড় ধরনের যুদ্ধ, রোগ বা ধ্বংসের মুখে না পড়ে, সেজন্য তারা সময়ের সামান্য পরিবর্তন বা রিয়্যালিটি চেঞ্জ ঘটিয়ে মানুষের কষ্ট ও বিপদ দূর করার চেষ্টা করে।
গল্পের মূল প্রেক্ষাপট ইটারনিটি বা অনন্তকাল নামে এক গোপন সংস্থাকে ঘিরে। এই সংস্থার কর্মীরা সময়ের বাইরের এক জগতে বাস করে
কিন্তু এই নিখুঁত ব্যবস্থার ভেতরেই দানা বাঁধতে শুরু করে এক জটিল সংকট। অ্যান্ড্রু হার লেন নামে এক টেকনিশিয়ান এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, যার কাজ হলো সময়ের বিভিন্ন পরিবর্তন বা ফিজিক্যাল রিয়্যালিটি নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা। সময়ের স্রোতে তার সঙ্গে পরিচয় হয় নোয়াস ল্যাম্বেন্ট নামে এক তরুণীর এবং তার প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে অ্যান্ড্রু এক অন্তহীন দ্বন্দ্বে পড়ে যান। তিনি বুঝতে পারেন, মানবজাতির ইতিহাসকে পুরোপুরি ব্যথা-বেদনা ও সংঘাতমুক্ত করতে গিয়ে আসলে মানুষের ভেতরের সৃজনশীলতা, স্বাধীনতা এবং আসল বিকাশকেই থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আসিমভ এই উপন্যাসে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে প্যারাডক্স, মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা ও নিয়তিবাদের প্রশ্নগুলো সামনে এনেছেন। এর পটভূমি যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক, তেমনি এর প্লট টুইটগুলো পাঠককে শেষ পর্যন্ত এক রহস্যের জালে আটকে রাখে। বইটিতে কোনো মূল গল্পের ক্লাইম্যাক্স প্রকাশ না করেই বলা যায়, এটি বিজ্ঞানের কৌতূহল এবং মানবীয় আবেগের এক চমৎকার মেলবন্ধন। যারা টাইম ট্রাভেল থিওরি এবং গভীর মনস্তাত্ত্বিক সায়েন্স ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য সৃষ্টি।






