বিশ্বকাপের গল্প ও ছবি
নীলের পড়ার টেবিলে বিশ্বকাপ

লিওনেল মেসির ছবিটি এঁকেছে অরিত্রী লাহিড়ী মিমি।
গল্প লিখেছেন কুমার প্রীতীশ বল। লিওনেল মেসির ছবিটি এঁকেছে অরিত্রী লাহিড়ী মিমি। ওর বয়স ১+২+৩ বছর। থাকে চট্টগ্রামের দক্ষিণ নালাপাড়ায়। প্রথম শ্রেণিতে পড়ে পিটিআই স্কুল, চট্টগ্রামে
পূর্ণিমার রাতে নীলের ঘরের জানালা দিয়ে হুট করে একটা ফুটবল এসে বিছানায় পড়ল। বলটার একটা বড় চোখ আর মুখ আছে!
বল হাই তুলে বলল, ‘উফ, কাতার আর আমেরিকা ঘুরে এসে বড্ড ক্লান্ত! তা, খেলা শুরু হবে কখন?’
নীল অবাক হয়ে বলল, ‘তুমি ফুটবল নাকি টকিং টম?’
বলটা হেসে বলল, ‘আমি গ্লোব বল। আজ তোমার ঘরেই দেখব বিশ্বকাপ!’
গ্লোব বল নীলকে বলল, ‘আমার গায়ে একটা হালকা টোকা মারো।’
নীল পা দিয়ে কিক করল। অমনি ঘরের ছাদ উধাও হয়ে গেল। নীল আকাশ বেরিয়ে পড়ল। আকাশে তারা জ্বলজ্বল করছে।
সেই আকাশ থেকে ড্রিবলিং করতে করতে নামল ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরে আলো ছড়ানো তারকা স্ট্রাইকার নেইমার জুনিয়র বলল, ‘নীল, একটা পাস দাও তো, সাম্বা নাচ দেখাই!’
নীল আলতো পায়ে নেইমারকে পাস দিল। তখন ওপাশে ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা মেঘের গোলপোস্ট বানিয়ে ফেলল। আর জাপান, কোরিয়ার ফুটবলাররা চেরি ফুল উড়িয়ে চিয়ারলিডার সেজে নাচতে লাগল।
দেখতে দেখতে নীলের ঘরটা পৃথিবীর মানচিত্র হয়ে গেল। সব দেশ মিলে যখন হুড়োহুড়ি করছিল, তখন আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরে আলো ছড়ানো তারকা স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি গোল করতে এগিয়ে গেল।
নীল ড্রাইভ দিয়ে বলটা লুফে নিয়ে বলল, ‘গোলপোস্ট কিন্তু আমার পড়ার টেবিলটা!’
গ্লোব বল নীলের হাতে উঠে মিটিমিটি হেসে বলল, ‘পড়ার টেবিল হোক বা মাঠ, গোল যেখানেই হোক— আনন্দটা কিন্তু পুরো পৃথিবীর!’




