পাত্র চাই!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বেলে গানেস ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়ে খুন করতেন পুরুষদের। এই সিরিয়ার কিলারকে নিয়ে লিখেছেন ইমরানুর রহমান
খামার বাড়িটিতে একের পর এক আসতেন পুরুষরা। কেউ আসতেন নতুন জীবনের আশায়, কেউ ভালোবাসার খোঁজে, আবার কেউ নিজের সঞ্চয় নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন সুখের সংসার গড়ার। কিন্তু তাদের অনেকেই আর কখনো বাড়ি ফিরতে পারেননি। অবশেষে ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একটি খামারে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে মানুষের দেহাবশেষ। উন্মোচিত হতে থাকে এক ভয়ংকর রহস্য, যার কেন্দ্রে ছিলেন খামারের মালিক এক নারী— বেলে গানেস। ইতিহাসে যিনি পরিচিত হয়ে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কুখ্যাত নারী সিরিয়াল কিলার হিসেবে।
বেলে গানেসের জন্ম ১৮৫৯ সালের ১১ নভেম্বর নরওয়ের সেলবুতে। জন্মের সময় তার নাম ছিল ব্রাইনহিল্ড পলসদাতের স্টরসেথ। ১৮৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। পরে শিকাগোতে বসবাস শুরু করেন এবং নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যান। ১৮৮৪ সালে ম্যাডস সরেনসনকে বিয়ে করেন বেলে। তাদের সংসারে পালিত সন্তানও ছিল। দম্পতির বাড়ি ও মিষ্টির দোকানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং বীমার অর্থ দিয়ে তারা নতুন সম্পদ কেনেন। তাদের দুই পালিত সন্তানের মৃত্যু হয়। ১৯০০ সালে ম্যাডসের মৃত্যুর পর বেলে বীমার অর্থ পান।
১৯০১ সালে বেলে ইন্ডিয়ানার লা পোর্ট শহরে একটি খামার কেনেন। পরের বছর পিটার গানেসকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু এই সংসারও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পিটারের ছোট মেয়ের মৃত্যুর পর ১৯০২ সালে তার নিজেরও মৃত্যু হয়। বেলের দাবি ছিল, একটি মাংস পেষার যন্ত্র পিটারের মাথায় পড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এরপর শুরু হয় বেলের জীবনের সবচেয়ে রহস্যময় অধ্যায়। তিনি সংবাদপত্রে জীবনসঙ্গী খোঁজার বিজ্ঞাপন দিতে থাকেন। বিজ্ঞাপনে এমন একজন সচ্ছল পুরুষের কথা বলা হতো, যিনি তার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে আগ্রহী। দূরদূরান্ত থেকে পুরুষরা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার খামারে আসতেন। তাদের কেউ কেউ অর্থসম্পদ নিয়েও আসতেন। কিন্তু তাদের অনেকেই পরে নিখোঁজ হয়ে যান।
এমনই একজন ছিলেন অ্যান্ড্রু হেলগেলিয়েন। দক্ষিণ ডাকোটার এই কৃষক ১৯০৮ সালের জানুয়ারিতে বেলের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। পরে তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলে তার ভাই খোঁজ নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে খামারে অনুসন্ধান চালিয়ে বস্তার মধ্যে অ্যান্ড্রুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এরপর খামারের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি করে আরও মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশুর দেহাবশেষও ছিল।
খামারে অন্তত ১৩টি মরদেহ পাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় ঐতিহাসিক সূত্র। বেলের বিরুদ্ধে অর্থের লোভে পুরুষদের হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। তবে তার হাতে ঠিক কতজন প্রাণ হারিয়েছিলেন, তা আজও নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন বর্ণনায় ৪০ বা তারও বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হলেও সব ঘটনার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রহস্যের সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে ১৯০৮ সালের ২৮ এপ্রিল। ভোরে বেলের খামারবাড়িতে আগুন লাগে। ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন শিশুর মরদেহ এবং মাথাবিহীন এক নারীর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ধারণা করা হয়, ওই নারী বেলে নিজেই। কিন্তু মাথা না থাকায় তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।



