ক্রাইম থিলার
দ্য স্নোম্যান

শীতের রাতে চারপাশ বরফে ঢাকা। জানালার বাইরে তাকিয়ে হঠাৎ দেখা গেল, উঠানে দাঁড়িয়ে আছে একটি স্নোম্যান। দৃশ্যটি আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ। কিন্তু সেই স্নোম্যানের মুখ যদি ঘরের দিকে ফেরানো থাকে আর পরদিনই বাড়ির গৃহিণী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান, তখন বরফের সেই মূর্তিই হয়ে ওঠে আতঙ্কের প্রতীক। নরওয়েজীয় লেখক জু নেসবোর ‘দ্য স্নোম্যান’ এমনই এক শীতল রহস্যের গল্প, যেখানে তুষারের শুভ্রতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক ভয়ংকর অপরাধীর ছায়া।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন অসলো পুলিশের গোয়েন্দা হ্যারি হোল— অসাধারণ তদন্ত ক্ষমতার অধিকারী, কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও নানা জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে চলা এক পুলিশ কর্মকর্তা। প্রথম তুষারপাতের পর একের পর এক নারী নিখোঁজ হতে শুরু করলে ঘটনাগুলোর মধ্যে অস্বাভাবিক একটি যোগসূত্র খুঁজে পান হ্যারি। নিখোঁজ নারীদের বাড়ির আশপাশে দেখা যায় স্নোম্যান। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে, বহু বছর ধরে চলতে থাকা এক সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ঘটনাগুলোর যোগ রয়েছে।
তদন্তে হ্যারি জানতে পারেন, গত এক দশকে বেশ কয়েকজন নারী নিখোঁজ হয়েছেন, অথচ তাদের অন্তর্ধানের মধ্যে যে অদৃশ্য সূত্রটি এতদিন কেউ খুঁজে পায়নি, সেটিই হলো প্রথম তুষারপাত।
জু নেসবোর নরওয়ের তুষারে ঢাকা ভূদৃশ্যকে শুধু গল্পের পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করেননি; বরং সেটিকেই রহস্যের অন্যতম চরিত্রে পরিণত করেছেন। সাদা বরফ, নিস্তব্ধ রাত, দীর্ঘ শীত আর জনমানবহীন পরিবেশ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এমন এক আবহ, যেখানে। যে স্নোম্যান সাধারণত শীতের আনন্দের প্রতীক, নেসবোর গল্পে সেটিই হয়ে যায় মৃত্যুর পূর্বাভাস।
তবে ‘দ্য স্নোম্যান’ শুধু একজন সিরিয়াল কিলারকে খুঁজে বের করার গল্প নয়; তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে হ্যারি হোলের ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক, অতীত এবং নিজের সীমাবদ্ধতার সঙ্গেও তার লড়াই সামনে আসে। একদিকে তাকে অনুসরণ করতে হয় অপরাধীর রেখে যাওয়া সূত্র, অন্যদিকে প্রতিটি নতুন তথ্য তাকে নিয়ে যায় আরও জটিল এক গোলকধাঁধার ভেতরে।
নেসবো পাঠককে সহজ কোনো উত্তর দেন না; বরং সন্দেহ, বিভ্রান্তি ও অপ্রত্যাশিত মোড়ের মধ্য দিয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন, যেখানে শেষ পর্যন্ত অপরাধী কে— এই প্রশ্নের পাশাপাশি আরও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, এতদিন সে কীভাবে সবার চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য রয়ে গেল।
২০১০ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত ‘দ্য স্নোম্যান’ হ্যারি হোল সিরিজের সপ্তম উপন্যাস। বইটি জু নেসবোর আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বিস্তৃত করে এবং নরডিক নোয়ার ধারার অন্যতম বহুল আলোচিত থ্রিলার হয়ে ওঠে।



