ফেসবুকে মানহানি হলে করণীয়

ফেসবুকে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রকাশ, ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার, ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপমানজনক পোস্টের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় করা হতে পারে। অনেক সময় সত্যতা যাচাই না করেই এসব পোস্টে মন্তব্য করা কিংবা শেয়ার করার ফলে অপপ্রচার আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে সামাজিক বিব্রতকর পরিস্থিতি, পারিবারিক অশান্তি ও পেশাগত জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে মানহানিকর পোস্ট, মন্তব্য, ছবি বা ভিডিওর স্ক্রিনশট, পোস্টের লিংক, প্রকাশের তারিখ ও সময় এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর ফেসবুকের রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পোস্ট বা অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ব্লক করে নিজের অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৯ ধারায় মানহানির সংজ্ঞা এবং ৫০০ ধারায় এর শাস্তির বিধান রয়েছে। মানহানির অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সাধারণ কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে প্রতিটি সমালোচনাই মানহানি নয়; ঘটনার প্রকৃতি, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং আইনে স্বীকৃত ব্যতিক্রমগুলো বিবেচনা করতে হয়। প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত আদালতে অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে।
লেখক : শিক্ষানবিশ আইনজীবী, জেলা জজ আদালত।



