অতিপ্রাকৃত
রাতের ভূমিকম্প!

আঁকা : অনন্যা বিশ্বাস
২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রচণ্ড গরমে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান ঠিক করা হলো ভোলার চরফ্যাশনের চর কুকরিমুকরিতে। প্রবীণ সাংবাদিক ইউসুফ আলী এটমের নেতৃত্বে ঈদের পরদিন রওনা দিই আমি, সুলতান, লতিফ ও সাইমুন। চরফ্যাশনে রাতে ছিলাম তাঁবুতে। পেছনের জঙ্গলের মধ্যে অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছিল শিয়ালের চোখ। একটা-দুটো নয়, প্রায় অর্ধশত। আমরা পানি খাবার বোতল আছড়ে ভয় দেখিয়ে শিয়াল তাড়ানোর চেষ্টা করলাম; কাজ হলো না। রাত গভীর হলো। শিয়াল বাহিনীর গগনবিদারী হুক্কাহুয়া ডাকে আতঙ্কিত চরের সব তাঁবুর লোকজন। এখান থেকেই ঠিক হলো ভোলা-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী হয়ে যাব মিরসরাই-সীতাকুণ্ডে পাহাড়-সমুদ্র দেখতে। পরদিন অটোরিকশায়, বাসে, ট্রলারে মেঘনা পার হয়ে বিকালে পৌঁছালাম লক্ষ্মীপুরে মজুচৌধুরীর হাট। সেখান থেকে বাসে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশে রওনা হলেও রাত ১০টায় পৌঁছালাম ফেনীতে। এখানেই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল আসল রোমাঞ্চ।
রাত ১টার মতো বাজে তখন। হঠাৎ দরজায় জোরে টোকা দেওয়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল
ফেনী মহিপাল ফ্লাইওভারের পাশেই একটি হোটেলের দোতলায় ছোট ছোট তিনটি রুম নেওয়া হলো সস্তায়। এটম মামা সিঙ্গেল বেডের রুমে, আমি আর সুলতান এক রুমে, লতিফ-সাইমুন আরেকটি রুমে। হোটেলের ম্যানেজার সবাইকে বলল, পূর্ব দিকের জানালা না খুলতে। ছিঁচকে চোর জিনিসপত্র নিয়ে যেতে পারে। সকালে উঠতে হবে, ফ্রেশ হয়ে তাই দ্রুত শুয়ে পড়লাম। আমার আর সুলতানের আলাদা বিছানা। রাত ১টার মতো বাজে তখন। চোখ লেগে গিয়েছিল। হঠাৎ দরজায় জোরে টোকা দেওয়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। সুলতানকে বললাম, তুই খোল। সে দরজা খুলে দেখে, কেউ নেই। আবার টোকা, এবারও খুলে দেখল কেউ নেই।
দরজা আটকে শুয়ে পড়তে বললাম। এবার আমি টের পাচ্ছি, আমার খাট ভূমিকম্প হওয়ার মতো নড়ছে। একই সময় সুলতানও আমাকে বলল— ঘুমা, খাট নাড়াইস না। নড়া থামলে প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ এত জোরে আবার খাট নড়ে উঠল, তড়িঘড়ি করে উঠে বসে পড়লাম। ওদিকে অন্ধকারে সুলতানও একইভাবে লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠল। দুজন দরজা খুলে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলাম। পাশের দুই রুমের টিম মেম্বারদের ডেকে তুললাম। তারপর ঘুম থেকে তুলে ম্যানেজারকে বকাবকি করে রুম বদলে দিতে বললাম। নতুন কামরায় আর কোনো সমস্যা হলো না।
এখনো যখন একত্র হই কুকরিমুকরির শিয়াল আর ফেনীর ভৌতিক অভিজ্ঞতার আলাপ করে রোমাঞ্চিত হই। তবে সেই গল্পে সুলতান থাকে না। কারণ, গত অক্টোবরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা যায় ক্ষণজন্মা ফটোসাংবাদিক সুলতান।







