অশরীরী জগৎ
পেত্নী

ভূতের জগতে পেত্নী সবচেয়ে পরিচিত। পেত্নী হলো ভূতের নারী সংস্করণ। সংস্কৃত শব্দ ‘প্রেতিনী’ থেকে আসা এই নামটি ‘প্রেত’-এর স্ত্রীলিঙ্গ। সহজ বাংলায় পেত্নী মানে হলো নারী ভূত। যদিও অঞ্চলভেদে এদের নামের ভিন্নতা আছে, যেমন— হিন্দিতে ‘চুড়েল’, পাঞ্জাবিতে ‘পিচলপেড়ী’, নেপালিতে ‘বোক্সি’। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের কিছু জায়গাতেও পেত্নী নিয়ে লোককথা আছে।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, বিবাহযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর পর বা বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে যারা অকালে বা অপঘাতে মারা যান, তাদের আত্মাই পেত্নী হয়ে ফেরে। তবে সবসময় যে শুধু অবিবাহিতারাই পেত্নী হয়, তা নয়। কিছু গল্পে বলা হয়, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে, গর্ভাবস্থায় অথবা বিশেষ অশুভ সময়ে কোনো নারীর মৃত্যু হলে তার আত্মা পেত্নীতে পরিণত হতে পারে। বিবাহিতাদের অকালমৃত্যুর পর রূপান্তরকে বাংলার মানুষ ‘শাকচুন্নি’ হিসেবে চেনে। কিন্তু একটি বিষয় সব ক্ষেত্রেই সাধারণ, তা হলো— ‘অতৃপ্তি’। কোনো অপূর্ণ ইচ্ছা বা বাসনা যেন তাকে মৃত্যুর পরও পৃথিবীর সঙ্গে আটকে রাখে।
দেখতে কেমন এই পেত্নীরা? প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, পেত্নীরা মোটেও সুন্দরী নন। কোথাও তাকে কুৎসিত, এলোমেলো লম্বা চুল, বড় দাঁত, কালো জিহ্বা, ধারালো নখ এবং অস্বাভাবিক ঠোঁটের নারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কোথাও তার শরীরের সামনের অংশ ফর্সা কিন্তু পেছনের অংশ কালো বলে গল্প রয়েছে। তবে পেত্নীদের সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো উল্টো পা, অর্থাৎ তার পায়ের আঙুল সামনের দিকে না থেকে পেছনের দিকে থাকে।
এরা তেঁতুল বা শ্যাওড়া গাছে পা ঝুলিয়ে বসে থাকে এবং অশরীরী সুরে মানুষকে বিরক্ত করে। এ ছাড়া পেত্নীদের কবরস্থান, শ্মশান, পরিত্যক্ত যুদ্ধক্ষেত্র, বাড়ির প্রবেশপথ, রাস্তার মোড় এবং নির্জন জায়গায়ও দেখা যায়।
কিছু গল্পে বলা হয়, পরিবারের পুরুষদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পেত্নী ফিরে আসে। বিশেষ করে যে নারী পরিবারের নির্যাতন বা খারাপ ব্যবহারের কারণে মারা গেছে বলে বিশ্বাস করা হয়, তার আত্মা পরিবারের পুরুষদের আক্রমণ করতে পারে। আরেক ধরনের লোককথায় পেত্নী রাতে তরুণ অবিবাহিত পুরুষদের কাছে আসে। তার আকর্ষণে কেউ সাড়া দিলে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কোনো কোনো গল্পে তাকে রক্ত বা জীবনশক্তি শোষণকারী হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।







