কুমড়োর আগে শালগমে খোদাই হতো ভূতের মুখ!

প্রতীকী ছবি
হ্যালোইনের পরিচিত প্রতীক জ্বলজ্বলে কুমড়ো। কিন্তু এই ভৌতিক সাজের ইতিহাসে কুমড়োর আগে জায়গা ছিল শালগমের। শত শত বছর আগে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মানুষ শালগমের ভেতর খোদাই করতেন ভয়ংকর মুখ। ভেতরে জ্বালানো হতো মোমবাতি। অন্ধকার রাতে সেই আলো-আঁধারির মুখ দেখে ভয় পেত পথচারীরা।
অক্টোবরের শেষ রাত। চারদিকে অন্ধকার। বাড়ির দরজা কিংবা জানালার পাশে রাখা একটি সবজির ভেতর থেকে জ্বলছে মৃদু আলো। কাছে যেতেই দেখা গেল, সবজিটির গায়ে খোদাই করা চোখ-মুখ। মুখটি যেন হাসছে, আবার মনে হচ্ছে ভয় দেখাচ্ছে। হ্যালোইনের পরিচিত কুমড়োর লণ্ঠনের পেছনে রয়েছে এমনই এক পুরোনো ঐতিহ্য। তবে তখন কুমড়ো নয়, ব্যবহার করা হতো শালগম।
মৃত আত্মা তাড়ানোর বিশ্বাস
এই প্রথার শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় আয়ারল্যান্ডের প্রাচীন সামহেইন (Samhain) উৎসবে। কেল্টিক জনগোষ্ঠীর কাছে এটি ছিল গ্রীষ্মের সমাপ্তি ও শীতের আগমনের সময়। অক্টোবরের ৩১ তারিখের রাতকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, এ সময় জীবিত ও মৃতের জগতের মধ্যকার সীমারেখা অনেকটা পাতলা হয়ে আসে। মৃতদের আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে। অশুভ আত্মার হাত থেকে বাঁচতে মানুষ নানা ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করত।
শালগম, আলু কিংবা বিটের মতো সবজির ভেতর ফাঁপা করে তাতে ভয়ংকর মুখ খোদাই করত। এরপর ভেতরে বসানো হতো মোমবাতি। এসব লণ্ঠন বাড়ির দরজার পাশে রাখা হতো কিংবা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো হতো। উদ্দেশ্য ছিল অশুভ আত্মাকে ভয় দেখিয়ে দূরে রাখা।
আয়ারল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরে এমন একটি শালগমের লণ্ঠনের নমুনা সংরক্ষিত আছে। ১৯৪৩ সালে ডানেগল কাউন্টির ফিনটাউন এলাকার এক শিক্ষকের কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে ১৯০০ সালের দিকে এ ধরনের লণ্ঠন তৈরির প্রচলন ছিল।
শালগম থেকে কুমড়ো
শালগমের লণ্ঠনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘স্টিঞ্জি জ্যাক’ নামের এক লোককাহিনি। গল্প অনুযায়ী, জ্যাক নামের এক ব্যক্তি শয়তানকে বারবার বোকা বানিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর স্বর্গ ও নরক—কোথাও তাঁর ঠাঁই হয়নি। অন্ধকারে ঘুরে বেড়ানোর জন্য শয়তান তাঁকে একটি জ্বলন্ত কয়লা দিয়েছিল। জ্যাক সেটি রেখেছিলেন ফাঁপা শালগমের ভেতর। সেই থেকে তাঁর নাম হয় ‘জ্যাক অব দ্য ল্যানটার্ন’, যা পরে ‘জ্যাক-ও-ল্যানটার্ন’ নামে পরিচিতি পায়।
উনিশ শতকে আইরিশ অভিবাসীরা নিজেদের ঐতিহ্য নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তাঁরা দেখতে পান, শালগমের তুলনায় কুমড়ো আকারে বড়, সহজে পাওয়া যায় এবং ভেতরটা ফাঁপা করাও তুলনামূলক সহজ। ফলে শালগমের জায়গা দখল করে নেয় কুমড়ো। ধীরে ধীরে কুমড়োর গায়ে ভয়ংকর মুখ খোদাই করে লণ্ঠন বানানোর রীতি ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই পুরোনো আইরিশ ঐতিহ্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রূপ পেয়ে হ্যালোইনের অন্যতম পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়।
সূত্র: ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আয়ারল্যান্ড, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন, হিস্ট্রি ডটকম




