বিরল ভাগ্যবান
দ্বৈত হিবাকুশা

জাপানি নাগরিক ইয়ামাগুচি
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট। জাপানের হিরোশিমা শহরে অফিসের কাজে ছিলেন ইয়ামাগুচি। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হঠাৎ আকাশে ভয়াবহ এক আলো ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হয়।
শহরের বড় অংশ মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যায়। ইয়ামাগুচি মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও আহত হলেও আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। পরদিন তিনি কোনোভাবে ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে ট্রেনে করে নিজের শহর নাগাসাকিতে ফিরে আসেন।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতা এখানেই শেষ হয়নি। মাত্র তিন দিন পর, ৯ আগস্ট ১৯৪৫-এ, নাগাসাকিতেও আরেকটি পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়। বিস্ফোরণের সময় তিনি আবারও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েন এবং দ্বিতীয়বারও আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যান।
এভাবে তিনি ইতিহাসে জাপান সরকারের দাপ্তরিক স্বীকৃতি পাওয়া একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হন, যিনি একই যুদ্ধে দুটি পারমাণবিক হামলার প্রত্যক্ষ শিকার হয়েও জীবিত ছিলেন। জাপানে পারমাণবিক বোমার জীবিত ভুক্তভোগীদের ‘হিবাকুশা’ বলা হয়, আর ইয়ামাগুচি বিশেষভাবে ‘দ্বৈত হিবাকুশা’ হিসেবে স্বীকৃত।
২০১০ সালে সুতোমু ইয়ামাগুচি ৯৩ বছর বয়সে মারা যান।



