নামের মতোই তেজস্বী বীর

এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী বাবর আলীর সঙ্গে বীর
‘বীর’ নামের মতোই তেজস্বী এই ছেলে। বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার সঙ্গে আমার প্রথম যোগাযোগ হয় কয়েক বছর আগে। ও তখন ভারতের সব রাজ্যে সাইকেল চালানোর পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে ঘুরছে।
স্বেচ্ছায় রক্তদানে জনমানুষকে উৎসাহিত করতে এরই মধ্যে বীর সাইকেলে ঘুরে ফেলেছে দেশের ৬৪ জেলা। আমি এর অল্প কিছুদিন আগে সাইকেলে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী ঘুরে এসেছি। পথের হদিস আর পরামর্শের জন্যই এসেছিল আমার কাছে। আমি সাধ্যমতো পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করলাম। কদিন পরেই ও চষে বেড়াতে লাগল ভারতের নানা রাজ্য। ফেরার কিছুদিন বাদে ওর মাথায় ঢুকল সার্কভুক্ত দেশগুলো সাইকেলে ভ্রমণের পোকা। তবে অনুমতি-সংক্রান্ত লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে সময়ক্ষেপণও হলো বেশ। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত অনুমতিপত্র হাতে পাওয়ার পর ওর সঙ্গে বসা হয়েছে বারকতক। মূলত নেপালের ট্রেক রুটগুলো নিয়ে নানা খুঁটিনাটি জেনে নিয়েছে ও। পৃষ্ঠপোষকের খোঁজ করলেও সময়ের টানাটানিতে সেগুলো ফলপ্রসূ হয়নি।
অবশ্য এসব ওকে থোড়াই দমাতে পেরেছে। অত্যুল্প পুঁজি নিয়েই পথে নেমেছে ও। এরই মধ্যে ওর অন্যতম লক্ষ্য এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছে গেছে বীর। সামনে আছে অন্নপূর্ণা সার্কিট আর মানাসলু সার্কিট ট্রেকের বাধা। আর সেসবের পরে আছে সার্কভুক্ত বাকি দেশগুলো সাইকেলে এক্সপ্লোর করার স্বপ্ন। নিঃসন্দেহে বলতে পারি, বীরের বীরগাথা এখানেই থামবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমিপুত্র এই ছেলের সাইকেলের চাকায় লেগে থাকবে আরও অনেক পথের ধুলো।



