পাঠ্যবইয়ের কবিতা পাঠপদ্ধতি

পূর্ব প্রকাশের পর
পরীক্ষায় কবিতা মুখস্থ লিখতে হয় না বলে শিক্ষার্থীরা ওসব মুখস্থ করা দূরে থাক, অনেক সময় পড়েও না। শুধু গাইড বইয়ের সাজেশনগুলো পড়ে। যার ফল আমরা এ প্রজন্মের পাঠবিমুখ বহু তরুণে আচার-আচরণ ও মূল্যবোধেও পাচ্ছি। তাদের অনেকেই যেমন গুছিয়ে বাংলা লিখতে পারে না, তেমনি বলতেও পারে না।
অথচ বাংলা বইগুলো এমনভাবে রচিত যে, এর মাধ্যমেই শিশুদের স্বজাত্যবোধ ও সুসংহত মননশীলতা গড়ে উঠবে বলে ধরে নেওয়া যায়। কবিতা লেখার বেশ কিছু নিয়ম আছে। শিক্ষকদের সহায়তায় প্রচলিত ছন্দগুলো শিখে নিলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ছড়া কবিতা লিখতে পারবে। ছন্দ কঠিন কিছু নয়। অষ্টম শ্রেণি ও তাদের ওপরের শিক্ষার্থীরা চাইলে ছন্দের জগতে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারবে। চাই শুধু শিক্ষকদের সহায়তা।
রবীন্দ্রনাথ অল্প বয়সেই ছন্দ নিয়ে ধারণা লাভ করেছিলেন। একাদশ শ্রেণিতে পাঠ্য সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি চমৎকার ছন্দে লেখা। মহৎ এই কবি মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, অর্থাৎ এই কবিও খুব কম বয়সে ছন্দে পারদর্শী হয়েছিলেন। একাদশ শ্রেণির ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি নজরুল মাত্র ২১ বছর বয়সে লিখেছিলেন। ছন্দ বিষয়ে নজরুলের ধারণাও স্বল্পবয়সেই অর্জিত, জসীম উদ্দীনের অতিপঠিত ‘কবর’ কবিতাও কবির তরুণ বয়সের লেখা।
অর্থাৎ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা কবিতা ও ছড়ার ‘ছন্দ’ দরদ দিয়ে জানলে বুঝলে তাদের সামনে নতুন ও নান্দনিক এক জগৎ উন্মোচিত হবে। ছন্দ বিষয়ে তাদের এই নতুন পথটি উন্মোচন করতে হলে সম্মানিত শিক্ষকদের আরও যত্নবান হতে হবে শিক্ষার্থীদের প্রতি।
সাহিত্যের সুর-ছন্দ-বিষয় মানুষকে আলোকিত করার পাশাপাশি নিবিড়ভাবে আলোড়িতও করে, মোহিত করে জীবনের মোক্ষম পথের প্রতি। যে পথ উদারতার, মানবিকতার, গভীর উপলব্ধির এবং সচেতনতার। একটি পড়ুয়া সমাজ গড়ে তুলতে পারলে তাদের মধ্য থেকে আগামীতে বিদ্বান ও সহনশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।
পড়তে হবে, এই পড়াটা অন্তত শুরু হোক পাঠ্যবই পড়ার মাধ্যমে, পাঠ্য বইয়ের কবিতা মুখস্থ ও আত্মস্থ করার মাধ্যমে।(সমাপ্ত)



