নখের ইনফেকশনে সতর্ক থাকুন
- নখের ইনফেকশন বলতে বেশিরভাগ মানুষ নখকুনিকেই বুঝে থাকেন। আশপাশের নখগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে এ সংক্রমণ। বিস্তারিত লিখেছেন ডা. সিনথিয়া আলম

খেলতে গিয়ে বা কাজ করতে গিয়ে নখে আঘাত পাননি কিংবা নখের কোনা দেবে পুঁজ হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। নখের ইনফেকশন বলতে বেশিরভাগ মানুষ নখকুনিকেই বুঝে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে পাত্তা না দিয়ে সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলি আমরা। আবার দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ খাওয়ার পরও দেখা যায় রোগ সারে না। আশপাশের নখগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে এ সংক্রমণ। নখের ইনফেকশন মূলত দুরকম হয়— একটি ব্যাকটেরিয়াল ও আরেকটি ফাঙ্গাল।
নখে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ
নখে আঘাত পেলে, ভেঙে গেলে কিংবা কোনা দেবে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এ সময় নখের আশপাশে বা নিচের নরম চামড়ায় প্রদাহ দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে সাধারণত প্যারোনিকিয়া বলা হয়। চারপাশে থাকা চামড়া নখকে সুরক্ষিত রাখে। কোনো কারণে এ চামড়ায় আঘাত পেলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে।
কারণ
নখে কোনো ভারী জিনিসের আঘাত লাগলে বা নখ উল্টে গেলে।
দাঁত দিয়ে নখ কাটা অথবা নখের চারপাশের মরা চামড়া বা কোনা টেনে ছিঁড়লে।
নখের একদম গভীরে বা কোনা ঘেঁষে বাঁকা করে নখ কাটলে।
অপরিষ্কার নেইল কাটার বা ম্যানিকিউরের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে।
দীর্ঘক্ষণ হাত-পা ভেজা রাখলে।
ফাঙ্গাল সংক্রমণ
নখের ওপর বা নখের নিচের নরম চামড়ায় ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। এটি তুলনামূলক ধীরে সংক্রমিত হয় এবং সহজে সারতে চায় না। নখে গুরুতর আঘাত পেলে বা জটিল অসুখে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে। এতে নখের রঙ বদলে সাদা, হলদেটে, বাদামি বা কালো হয়ে যায়। নখ স্বাভাবিক মসৃণতা হারিয়ে আস্তে আস্তে এবড়োখেবড়ো বা মোটা হয়ে যায়। খুব নরম ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সামান্য আঘাতেই গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ভেঙে যায়। অনেক ক্ষেত্রে আলগা হয়ে ওপরে উঠে আসতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ওনাইকোমাইকোসিস।
কারণ
দীর্ঘক্ষণ ভেজা জুতা-মোজা পরে থাকলে।
নখে আগে কোনো আঘাত পেলে।
অন্য কারও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস, যেমন— চিরুনি, তোয়ালে বা নেইল কাটার ব্যবহার করলে।
ডায়াবেটিস, লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে কিংবা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে।
কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে
নখে আঘাত পাওয়ার পর যদি সেখানে পুঁজ তৈরি হয় এবং চারপাশ লাল হয়ে যায়, তবে সতর্ক হোন। এই অবস্থা যদি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে আর দেরি করা ঠিক হবে না। নখের যেকোনো সমস্যায় চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে।
ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে দ্রুত সেরে যায়। তবে ফাঙ্গাল ইনফেকশন সহজে দূর হতে চায় না। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সাধারণত হাতের নখের ইনফেকশন সারতে ৪ থেকে ৬ মাস সময় লাগে। পায়ের নখের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত হয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ধৈর্য ধরে ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করতে হবে।
ডায়াবেটিক রোগীদের বাড়তি বিপদ
ডায়াবেটিক রোগীদের নখের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তারা নখের আঘাত বা ব্যথা সহজে টের পান না। ফলে রোগটি ভেতরে ভেতরে অনেক বেড়ে যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে নখ পুরোপুরি তুলে ফেলতে হতে পারে। নখের চিকিৎসায় সচেতন না হলে সাধারণ ইনফেকশন থেকেই আঙুলে পচন পর্যন্ত ধরতে পারে। যেহেতু ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষত সহজে শুকায় না, তাই নখে কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত ড্রেসিং করাতে হবে।
লিভার ও কিডনি রোগীদের সতর্কতা
যাদের লিভারের সমস্যা বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ আছে, তাদের নখের ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা দরকার। কারণ, সব অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ তাদের জন্য নিরাপদ নয়। চিকিৎসকরা এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের ডোজ কমিয়ে বা পরিবর্তন করে দেন। অনেক সময় খাওয়ার ওষুধের বদলে নখের ওপর ব্যবহারের জন্য বিশেষ ড্রপ, ক্রিম বা স্প্রে দেওয়া হয়।
সহকারী অধ্যাপক ও কনসালট্যান্ট ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড অ্যাস্থেটিক ডার্মাটোলজি
কন্টিনেন্টাল হসপিটাল পিএলসি (সাবেক ইউনাইটেড হাসপাতাল)




