গরমে পেট ঠিক রাখতে গুরুপাক খাবার বাদ দিন

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে তীব্র গরমে খাবারে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। ফলে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়। এটাই পেট খারাপ হওয়ার প্রধান কারণ বলে ধরে নেওয়া হয়। এ সময় বেলার খাবার বেলায় খেয়ে ফেলতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। হোমমেড টাটকা খাবার ছাড়া বাইরের খাবার না খাওয়াই ভালো। এ ছাড়া মানতে হবে বিশেষ কিছু নিয়ম।
হাইড্রেশন ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য: তীব্র গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এটি তৈরি করে ডিহাইড্রেশন এবং এর প্রভাব পড়ে মেটাবলিজমে। তাই তীব্র রোদে বেশিক্ষণ কাজ করা উচিত নয়। বেশি ঘেমে গেলে পর্যাপ্ত পানি ও ওরস্যালাইন খাওয়া দরকার। ফলের রস, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত পান করা যেতে পারে। তীব্র রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার করুন।
বারবার হালকা খাবার: ভারী খাবার হজম হতে সময় নেয় এবং শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা উৎপাদন করে। ফলে বাইরের অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে শরীরে তৈরি হওয়া তাপমাত্রায় আমাদের হাঁসফাঁস লাগে। এটি এড়াতে একবারে বেশি খাবার না খেয়ে প্রতি তিন-চার ঘণ্টা অন্তর অল্প করে সুষম খাবার খান।
পাতে রাখুন প্রোটিন ও ফাইবার: খাদ্য তালিকায় মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, দই এবং মৌসুমি শাকসবজি রাখুন। প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার হজম প্রক্রিয়ায় বেশি শক্তি খরচ করায় মেটাবলিজম বাড়ে।
মিষ্টি ও ফাস্টফুড বর্জন: কোমল পানীয়, আইসক্রিম বা অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার মেটাবলিজমের গতি ধীর করে। গরমে এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো। এমনকি অতিরিক্ত গরমে একের পর এক আইসক্রিম খাওয়া ভালো নয়। আইসক্রিমের অতিরিক্ত সুগার শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
ঠান্ডা সময়ে শরীরচর্চা: গরমের দিনে সকালের বা সন্ধ্যার ঠান্ডা আবহাওয়ায় হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন। এটি বিপাক হার বাড়ায়। প্রতিবার খাওয়ার ১৫ মিনিট পর ৫-১০ মিনিটের জন্য হাঁটুন। এতে হুট করে রক্তে চিনির মাত্রা বাড়বে না।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম: রাতে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা গভীর ঘুম হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং বিপাক প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে সহায়তা করে। রাতে ফোন ব্যবহার আপনার ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিছানায় যাওয়ার এক ঘণ্টা আগেই মোবাইল সরিয়ে রাখুন।
লেখক: ইনডোর মেডিকেল অফিসার, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল






