শতবর্ষী গোল তালাব

গোল তালাব হলো পুরান ঢাকার ইসলামপুরে আহসান মঞ্জিলের ঠিক উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী জলাশয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ঢাকার নবাবদের শাসনামলে নির্মিত এ পুকুরটি স্থানীয়ভাবে ‘নবাববাড়ির পুষ্করিণী’ নামেও পরিচিত।
উর্দু শব্দ ‘তালাব’-এর অর্থ পুকুর বা জলাধার। ঘিঞ্জি ও ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকার মাঝে প্রায় ছয় বিঘা (২.২৩ একর) জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এ বিশাল পুকুরটি এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কংক্রিটের শহরে এ যেন এক টুকরো সবুজ ফুসফুস। নামে ‘গোল’ হলেও এর আকৃতি পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়, বরং উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বি ডিম্বাকৃতির। পুকুরটির চারপাশ লোহার বেষ্টনী দিয়ে সুরক্ষিত এবং পাড় জুড়ে রয়েছে প্রায় অর্ধশত নারিকেলগাছসহ আম, নিম ও জামরুলগাছের সারি, যা এখানে একটি শান্তিময় পরিবেশ তৈরি করেছে।
প্রায় ২৩ ফুট গভীর এ পুকুরের উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি সুদৃশ্য পাকা ঘাট রয়েছে। ঐতিহাসিক এ পুকুরটি আজও স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিদিন নামমাত্র ১০ টাকা ফি দিয়ে স্থানীয় কয়েকশ বাসিন্দা এখানে গোসল ও সাঁতার কাটার সুবিধা পান, যা ঢাকার অন্যান্য এলাকায় এখন বিরল। এ ছাড়া শৌখিন মৎস্যশিকারিদের জন্য নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে এখানে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে।
ইট-কাঠের নগরে ঢাকার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলোর মধ্যে গোল তালাব আজও তার প্রাচীন সৌন্দর্য ও উপযোগিতা টিকিয়ে রেখেছে। খননের সময় নিয়ে মতভেদ আছে, তবে ঊনবিংশ শতকে নবাবদের আমলেই এর জন্ম— এটুকু মোটামুটি নিশ্চিত।
কারও মতে, নবাব আবদুল বারী এটি খনন করান, আবার ১৮৩০ সালে নবাব খাজা আলিমুল্লাহ এটি কিনে নিয়ে সংস্কার করেন। বর্তমানে মৌলবি খাজা আবদুল্লাহ কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন পুকুরটি দেখভাল করে নবাববাড়ি ট্যাংক কমিটি। স্মৃতি ও স্বস্তির এ ঠিকানা বাঁচিয়ে রাখা তাই শহরের নিজের স্বার্থেই জরুরি।



