সিনেমায় অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি ১৪ বছর হলো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘আলী বাবা এবং চল্লিশ চোর’ গল্পের সেই মর্জিনা তিনি নন। আরব্য রজনীর সেই লোককাহিনির চরিত্র হয়ে ওঠার কোনো ইচ্ছেও তার ছিল না বলেই মনে হয়েছে। তিনি অন্য এক মর্জিনা। ঢাকাই বাংলা সিনেমায় প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠা পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করা এক শিল্পী। জীবনে অসংখ্যবার শুটিং ফ্লোরে উজ্জ্বল আলোর সামনে দাঁড়িয়ে পরিচালকের অ্যাকশন আর কাট বলা শুনেছেন। কাজ করেছেন একদা ঢাকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির খ্যাতিমান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে। ১৪ বছর হলো তিনি আর এফডিসিতে পা রাখেন না। নিজের হাতের তালুর মতো পরিচিত এফডিসি এখন তার কাছে অপরিচিত।
‘কাজ ছেড়ে দিলেন কেন?’ প্রশ্নটা করতেই সামান্য অন্যমনস্ক হলেন মর্জিনা। একটু ভেবে বললেন, ‘আর ভালো লাগে না। এফডিসি আর আগের মতো নেই; অনেক কিছুই পাল্টে গেছে।’
‘একটা সময়ে বাংলা সিনেমায় পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বহু নারী ভিড় জমাতেন এফডিসিতে। সিনেমা জগতের মোহন আকর্ষণ তাদের টেনে নিয়ে আসত। তাদের সংখ্যা কি এখন কমে গেছে?’
‘হ্যাঁ, এখন তারা আর আসে না। পুরনো সময়ে যারা কাজ করেছেন তাদের কেউ কেউ রয়ে গেছে।’
‘কেন আসে না? তাদের কাজের সুযোগ নেই?’
প্রশ্নের উত্তরে মর্জিনা জানালেন, এখন সিনেমায় কাজের ধরন বদলে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে নায়ক বা নায়িকার ওপরই অনেক টাকা লগ্নি করা হচ্ছে। ফলে অন্যদের কাজের সম্মানী স্বাভাবিকভাবেই কমে যাচ্ছে।
‘তাহলে সিনেমায় পার্শ্ব-চরিত্রের অভিনয়ের পেশাটাই কি উঠে যাবে?’
দীর্ঘশ্বাস ফেলে মর্জিনা বললেন, অর্ধেক তো উঠেই গেছে। বহু মানুষ বেকার হয়েছে। কেউ কেউ সিনেমায় কাজ করা ছেড়ে দিয়েছে।
মাত্র ১১ বছর বয়সে মর্জিনা বাংলা সিনেমায় অভিনয় করতে এসেছিলেন। নাচের দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। কখনো শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অথবা ক্যামেরার সামনে দিয়ে নির্বাক হেঁটে যাওয়া একটি চরিত্র হিসেবেও কাজ করেছেন। সেটা আশির দশকের গোড়ার দিকের কথা। তারপর বহু পথ অতিক্রম করেছেন। কখনো সৎমায়ের চরিত্রে আবার কখনো বড় বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তখন এফডিসিতে প্রচুর কাজ হতো। সেখানে একদিন না গেলে ভালো লাগত না। এফডিসির স্টুডিও, পরিচিত মানুষ, ইট-কাঠ সবই খুব আপন বলে মনে হতো। তারপর পেছনে হটে এসেছেন। পার হয়ে গেছে ১৪ বছর। তার স্বামীও চান না এ পেশায় স্ত্রী কাজ করুক। সব ছেড়ে এখন নিজের ছোট্ট সংসারে স্থিত হয়েছেন। একমাত্র পুত্রসন্তান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। একটা জীবন অন্যভাবে কেটে যাচ্ছে মর্জিনার।
পেছনে রেখে আসা বাংলা সিনেমার জগৎটাকে তার কি মনে পড়ে এখন? উত্তরে সামান্য হেসে জানালেন, এখন আর মনে পড়ে না। ভিন্ন এক জীবনধারায় অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। রান্না করা, সংসার সামলানোই তার কাছে এখন প্রধান দায়িত্ব। তবে অবসর সময়ে মাঝেমধ্যে গান শোনেন। কোনো কোনো সময় কাজ করেছেন এমন সিনেমাগুলো ফিরে ফিরে দেখেন।
ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায় বেড়ে উঠেছেন। সেখানেই তার পরিবারের স্থায়ী আবাস। কিছুদিন আগেও তার কাছে অভিনয় করার প্রস্তাব এসেছিল। ফিরিয়ে দিয়েছেন। পেছনে রেখে আসা জীবনের প্রতি তার কোনো আকর্ষণ নেই, কোনো আফসোসও নেই।






