বিশ্বকাপে বদলে গেল সব

ছবি: সাজ্জাদ
‘ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের কাছে উৎসবের মতো। পতাকা টাঙানো, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক আর রাত জেগে খেলা দেখা— সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যেন আলাদা এক আবেগের নাম। এবার ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে। খেলা দেখার স্থানগুলো ছাত্রছাত্রীদের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র খন্দকার আবু শিহাব। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই অন্য ক্যাম্পাসগুলোতেও দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আসিফ ইসতিয়াক অলি বলেন, ‘বিশ্বকাপের সময় সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসে। বড় পর্দার সামনে সবাই একসঙ্গে খেলা দেখে, খুনসুটি করে; আবার প্রিয় দল জিতলে বিজয় মিছিলও বের করে। বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ তর্ক-বিতর্ক ক্যাম্পাসকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।’
বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হলো সমর্থকদের আবেগ। কেউ ব্রাজিল, কেউ আর্জেন্টিনা, কেউবা পর্তুগালকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক ছাত্র বললেন, ‘সত্যিকারের সমর্থকরা ট্রফির জন্য দলকে ভালোবাসে না; বরং দলের জন্যই ট্রফির স্বপ্ন দেখে। সমর্থন মানে শুধু সাফল্যের সময়ে পাশে থাকা নয়, বরং জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দলের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখা।’ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা দেখা, বিশ্বকাপের নানা মুহূর্তকে ঘিরে স্মৃতিচারণও কম নয়। ইডেন মহিলা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী আদীবা আবসারী ছোটবেলার একটি ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ‘ঝড়ে আর্জেন্টিনার একটি পতাকা ছিঁড়ে গিয়েছিল। একজন ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে আমার আনন্দ আর দেখে কে!’ নাওরাত নাবা তুশিন বলেন, ‘ছোটবেলায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেলা দেখা, গোল উদযাপন কিংবা প্রিয় দলের থিমে কেক বানানোর স্মৃতি এখনো আমার মনে গেঁথে আছে। বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় দলগুলোর কয়েকটিতে ভাগ হয়ে যায়। তবে এই বিভাজন বিরোধের নয়; বরং আনন্দ, খুনসুটি আর বন্ধুত্বের। দেশের অলিগলি, ছাদ, বারান্দা ও ক্যাম্পাস জুড়ে উড়তে থাকা বিভিন্ন দেশের পতাকাও সেই উৎসবেরই অংশ হয়ে ওঠে।’
ঢাকা কলেজের ছাত্র মো. মনোয়ারুল ইসলাম তারেকের মতে, ফুটবল বিশ্বকাপ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে। টঙের দোকানে চায়ের কাপ হাতে গল্পের মূল বিষয় হয়ে ওঠে ফুটবল বিশ্বকাপ। একই কলেজের ইমন আলী মনে করেন, ‘খোলা আকাশের নিচে শত শত বন্ধু ও সহপাঠীর সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখা একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা। মনে হয় যেন সত্যিকারের স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখছি।’


