মামুন পেল ‘নাম্বার ওয়ান’ শিক্ষাবৃত্তি

বাবা দুলালকে নিয়ে শিক্ষাবৃত্তি নিচ্ছে মামুন
ভোরে দোকান খোলা থেকে রাতে বন্ধ করা পর্যন্ত দিনের বেশিরভাগ সময় চায়ের দোকানেই কাটে দুলাল হোসেনের। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আশরাফুল টি স্টলে চা বিক্রি করে চলে তার সংসার। এই আয় দিয়ে পরিবারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয়ও সামলাতে হয় তাকে। তার ছেলে মামুন ইসলাম এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে। সে দিনাজপুরের ইব্রাহিম মেমোরিয়াল শিক্ষানিকেতনের শিক্ষার্থী ছিল।
দুলালের মতো চায়ের দোকানি পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে এবং পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাতে ২৭ অক্টোবর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’।
‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজনে মামুনসহ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ১৩৫ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে মা-বাবার পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে তাদেরও সম্মানিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে ক্রেস্ট, সনদ, মেডেল, এককালীন শিক্ষাবৃত্তি ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি ২০২৮) আগামী দুই বছর প্রস্তুতির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী নাম্বার ওয়ানের পূর্ণ সহযোগিতায় ‘টেন মিনিট স্কুল’-এর অ্যাকাডেমিক কোর্স করার সুযোগ পাচ্ছে।
চায়ের দোকানের সীমিত আয় আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে তোলার স্বপ্ন দেখেন অনেক মা-বাবা। তাদের সন্তানদের সেই স্বপ্ন পূরণে উৎসাহ ও সহযোগিতা দিতে তিন বছর ধরে এ আয়োজন করে আসছে ‘নাম্বার ওয়ান’।
মামুনের বাবা দুলাল হোসেন ‘নাম্বার ওয়ান’-এর সহযোগিতা পেয়ে এখন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি চান, তার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে। এরপর বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে শিক্ষকতা পেশায় আসবে। ‘সে যদি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, তাহলে আমার কষ্ট সার্থক হবে’, বললেন দুলাল। তিনি আরও বললেন, ‘চায়ের দোকান চালিয়ে সবসময় ছেলেমেয়েদের সব চাহিদা পূরণ করতে পারি না। আমার সামর্থ্য সীমিত। কিন্তু সন্তানদের পড়াশোনার জন্য যতটা সম্ভব সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি চাই না, টাকার অভাবে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাক। বরং চাই, আমার ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখুক, মানুষের মতো মানুষ হোক। মামুনের ফল ভালো হয়েছে, এটি আমার জন্য খুব আনন্দের।’
মামুন বলল, “বাবা আমার পড়ালেখার জন্য অনেক কষ্ট করেন। আমিও প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। আমি এসএসসির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে উচ্চমাধ্যমিকেও ভালো করতে চাই। এখন আমাকে কলেজে ভালো ফল করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ‘নাম্বার ওয়ান’-এর এই সহায়তায় টেন মিনিট স্কুলের কোর্সগুলো আমার পড়ালেখায় কাজে লাগবে বলে আশা করছি। আমি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভালো ফল করতে চাই। আমার লক্ষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে শিক্ষকতা পেশায় আসা।”
নাম্বার ওয়ানের উদ্যোগ সম্পর্কে এমজিআইয়ের প্রধান হিসাব কর্মকর্তা মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার, এফসিএ বললেন, “আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি দেওয়া হলে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। চা দোকানি পরিবারের সন্তানদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সংগ্রাম। ‘নাম্বার ওয়ান’-এর এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও সম্মানিত করতে চাই। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য তাদের পাশে থাকতে চাই। আরও বেশি শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতে আমরা এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চাই।”




