নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ছুটছে ই-কার

ধোঁয়া নেই, শব্দ নেই, তবুও ছুটে চলছে গাড়ি। এগুলো ই-কার। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ব্যস্ত ক্যাম্পাসে যুক্ত হয়েছে যাতায়াতের নতুন সঙ্গী দুটি পরিবেশবান্ধব ই-কার। ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে এখন থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ঝামেলা কিছুটা কমবে। গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে চক্রাকারে চলবে ই-কারগুলো। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলাচল করবে যান দুটি। ভাড়া মাত্র ৫ টাকা। কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশদূষণ কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হলে উদ্যোগটি আরও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে।
নতুন এই পরিবহনব্যবস্থা দৈনন্দিন ক্যাম্পাসজীবনে কতটা স্বস্তি এনেছে, সে বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ফারদিন পারভেজ বললেন, ‘ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই এক ভবন থেকে অন্য ভবনে ছুটতে হয়। ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে কখনো অ্যাকাডেমিক ভবন, কখনো প্রশাসনিক ভবন, আবার কখনো হলে যেতে হয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ পথ হাঁটার চেনা ভোগান্তিতে এবার স্বস্তি আনবে ই-কার। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ শিক্ষার্থীদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে।’ অর্থনীতি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সোহাগী আক্তার বললেন, ‘আজ রাতে ই-কারে করে ক্যাম্পাস ঘুরতে গিয়ে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। গ্যারেজ থেকে ই-কারে উঠে শান্তিনিকেতন, হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনার এবং লাইব্রেরি হয়ে আবার গ্যারেজে ফিরে এসেছি। রাতে ক্যাম্পাসের আলো, চারপাশের পরিবেশ আর ই-কারের নীরবে চলার বিষয়টি বেশ উপভোগ করেছি। আমার মনে হয়, ই-কার শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই সুন্দর একটি উদ্যোগ। আশা করি, ভবিষ্যতে এই যানের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এর চলাচল আরও সহজলভ্য করা হবে।’
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে স্বস্তির পাশাপাশি ই-কারের এই উদ্যোগকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক ক্যাম্পাস গড়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বললেন, ‘সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব ই-কার ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে শুরু করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে চক্রাকারে পরিচালিত হচ্ছে। এটি সবার যাতায়াতকে যেমন সহজ ও নিরাপদ করছে, তেমনি ক্যাম্পাসে কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশদূষণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। নোবিপ্রবিকে শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান থাকবে।’







