খেলা শেখার ক্লাসরুম

সংগৃহীত ছবি
আপনি কি জানেন, দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন? সেটা হলো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (যবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয়। বিভাগের নাম শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান। এ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী তিনি। শুধু কৃতী খেলোয়াড় নয়, এ বিভাগ থেকে পাস করে অনেকেই সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শারীরিক শিক্ষা প্রশিক্ষক, কোচ কিংবা ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ সেশনের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন বললেন, ‘খেলাধুলার প্রসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিভাগের কর্মক্ষেত্র ও সম্ভাবনা ক্রমে বাড়ছে। বিভাগের অধিকাংশ স্নাতক বর্তমানে শিক্ষক, ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর, কোচ কিংবা উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত। দেশে শারীরিক সুস্থতা ও খেলাধুলার গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভবিষ্যতে এ খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা আরও বাড়বে।’
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে যবিপ্রবিতে এই বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। পরে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এ বিষয়ে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করা হয়। বর্তমানে ক্রীড়া ও শারীরিক শিক্ষা খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিভাগটি। এখানে স্পোর্টস বায়োমেকানিকস, অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, এক্সারসাইজ ফিজিওলজি, কিনানথ্রোপোমেট্রি, নিউট্রিশনসহ আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়। পাশাপাশি গবেষণার সুযোগও রয়েছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, হকি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, টেনিস এবং অ্যাথলেটিকসের বিভিন্ন ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের ভর্তি প্রক্রিয়াও অন্যান্য বিভাগের তুলনায় কিছুটা আলাদা। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পাশাপাশি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ৭০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এতে উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করা হয়। দৌড়, স্ট্যান্ডিং ব্রড জাম্প, চিন-আপসহ বিভিন্ন শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্যও বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতি রয়েছে। শিরীন আক্তারের মতো আরো অনেক কৃতি শিক্ষার্থী রয়েছেন এ বিভাগে। সম্প্রতি বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ যবিপ্রবি নারী ফুটবল দল আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই ছিলেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। একই প্রতিযোগিতায় যবিপ্রবি পুরুষ ফুটবল দল ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যেখানে ১৭ খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৬ জনই ছিলেন এ বিভাগের শিক্ষার্থী।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক-স্বল্পতার কারণে শিক্ষকদের একই দিনে একাধিক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাস নিতে হয়। সুইমিংপুল না থাকায় গ্রামের একটি পুকুরে সাঁতার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে হয়। টেনিস কোর্টের অভাবে শিক্ষার্থীদের নিজ খরচে বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এ ছাড়া পর্যাপ্ত মাঠ, আধুনিক ল্যাব সুবিধা ও শ্রেণিকক্ষের সংকটও রয়েছে।


