কেমন শিক্ষক চাই

ফাইল ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মেঘলা আক্তারের মতে, শিক্ষকের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, নৈতিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীলতা থাকা জরুরি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হওয়া উচিত আস্থা ও বন্ধুত্বের। মেঘলার প্রত্যাশা, শ্রেণিকক্ষ হবে অংশগ্রহণমূলক। একটানা বক্তৃতার পরিবর্তে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, উপস্থাপনা ও দলীয় কাজের সুযোগ থাকা দরকার। একই সঙ্গে সমসাময়িক ঘটনাকে অ্যাকাডেমিক পড়ালেখার সঙ্গে যুক্ত করলে পাঠ আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য হবে।
প্রতিটি ক্লাসের আগে শিক্ষকের যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে অভিমত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র একরামুল হক ইমনের। ফাইন্যান্স বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র রাফিজুল ইসলাম তাউসিফের মতে, একজন শিক্ষককে নিজের বিষয় গভীরভাবে জানার পাশাপাশি সেটি শিক্ষার্থীদের কাছে সহজভাবে উপস্থাপন করা জানতে হবে। ক্লাস শুধু স্লাইড পড়ে শোনানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশ্নের সুযোগ, সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা ও বাস্তব জীবনের উদাহরণ যুক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষককে শিক্ষার্থীর দুর্বলতা বুঝে তার এগিয়ে যাওয়ায় সহায়তা করতে হবে। ক্যারিয়ার গঠনে দিতে হবে বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা।
অর্থনীতির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র কামরুল হাসানের মতে, একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য করবেন না। একই সঙ্গে তাদের অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধও তাকে শেখাতে হবে। ক্লাসে শুধু বই পড়া বা নোট লেখানোর পরিবর্তে বাস্তব উদাহরণ, প্রশ্নোত্তর, গ্রুপওয়ার্ক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছবি, চার্ট, ভিডিও ও প্রেজেন্টেশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
শিক্ষকের বাস্তবভিত্তিক পাঠদানের ওপর জোর দিয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মুকরিমা জান্নাত শেফা। তার কাছে শিক্ষকের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সংকট কিংবা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার কারণে হতাশ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষককে অন্তত তাদের কথা শুনে মানসিকভাবে পাশে দাঁড়ানো উচিত।
কোনো শিক্ষার্থী ভালো করলে তাকে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহ দেবেন— একজন শিক্ষকের কাছে এমন আচরণই প্রত্যাশা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সোহরাব আলী। তার মতে, ফল খারাপ হলে হতাশ না করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা বুঝিয়ে উন্নতির সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষকের আচরণ হতে হবে আন্তরিক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রশ্ন ও সমস্যার কথা বলতে পারেন। সোহরাব মনে করেন, বইয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক ঘটনা ও বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে পড়ানো উচিত। এতে শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান শুধু পরীক্ষায় নয়; বাস্তব জীবনেও প্রয়োগ করতে পারবেন।



