ফ্যাশন
পোশাকের সঙ্গে জুতার জুড়ি

মডেল: মাইমুনা ইসলাম দিয়া; সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ; ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
পোশাক পরার পর এর সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক জুতা বেছে নিলেই সাজ হয়ে উঠবে আরও গোছানো, আধুনিক ও আত্মবিশ্বাসী। লিখেছেন ফারিয়া আলম
একটি সুন্দর পোশাক, মানানসই ব্যাগ— সবই আছে; অথচ জুতা যেন পুরো সাজের সঙ্গে মিলছে না! আসলে জুতা হাঁটার অনুষঙ্গ হলেও পুরো লুকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পোশাকের কাট, রঙ ও আয়োজন বুঝে পাদুকা বেছে নিতে পারলে সাধারণ সাজও হয়ে ওঠে পরিপাটি ও স্টাইলিশ।
শাড়ির সঙ্গে
উৎসব বা পার্টিতে শাড়ির সঙ্গে হিল, স্ট্র্যাপি স্যান্ডেল কিংবা অলংকারময় ফ্ল্যাট ভালো মানায়। আরামকে গুরুত্ব দিলে ব্লক হিল বা ছোট হিল হতে পারে দারুণ জুড়ি। কটন বা হ্যান্ডলুম শাড়ির সঙ্গে খুব ভারী জুতা না পরে সিম্পল স্যান্ডেল বা ফ্ল্যাট বেছে নিলে সাজে স্বচ্ছন্দ বজায় থাকে।
কুর্তি ও সালোয়ার-কামিজে
কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ বা থ্রি-পিসের সঙ্গে ফ্ল্যাট, মিউল, লোফার কিংবা ছোট হিল— সবই মানায়। পোশাক যদি প্রিন্টেড বা নকশাদার হয়, জুতা রাখুন অপেক্ষাকৃত সাদামাটা। একরঙা পোশাকে একটু স্টাইলিশ পাদুকা দিয়ে সাজে বাড়তি আকর্ষণ আনা সম্ভব।
জিনস ও টপে
ক্যাজুয়াল সাজে স্নিকার্স সবচেয়ে সহজ ও আরামদায়ক। জিনসের সঙ্গে লোফার, ব্যালেরিনা ফ্ল্যাট বা স্যান্ডেলও ভালো মানায়। স্কিনি বা স্ট্রেট জিনসের সঙ্গে স্লিম সিলুয়েটের জুতা যেমন মানায়, ওয়াইড-লেগ জিনসের সঙ্গে একটু ভারী সোলের স্নিকার্স বা প্ল্যাটফর্ম জুতা লুকটিকে ব্যালান্স করে।
পোশাক খুব রঙিন হলে ন্যুড, কালো সাদা বা অন্য কোনো নিউট্রাল শেডের জুতা লুককে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে
কো-অর্ড বা ওয়েস্টার্ন পোশাকে
কো-অর্ড সেটের সঙ্গে জুতার ক্ষেত্রে পোশাকের কাটকে প্রাধান্য দিতে পারেন। স্নিকার্সে পাওয়া যাবে ক্যাজুয়াল লুক, আর হিল বা মিউলে সাজ হয়ে উঠবে আরও পরিপাটি। এসব পোশাকের সঙ্গে স্ট্র্যাপি স্যান্ডেল, পাম্প বা গোড়ালি পর্যন্ত বুটও বেছে নিতে পারেন আয়োজন বুঝে।
লম্বা পোশাকে
ম্যাক্সি, লং ড্রেস কিংবা লম্বা কুর্তির সঙ্গে জুতা খুব বেশি চোখে না পড়লেও পুরো লুকের ভারসাম্যে এর ভূমিকা থাকে। লম্বা পোশাকের সঙ্গে স্যান্ডেল, মিউল বা সামান্য হিল ভালো মানায়। পোশাক যদি মেঝে ছেঁায়া হয়, খুব উঁচু হিলের বদলে আরামদায়ক উচ্চতার জুতা বেছে নেওয়াই ভালো।
পার্টির সাজে একটু ঝলক
পার্টির পোশাক যদি সিকুইন, শিমার বা এমব্রয়ডারিতে ভারী হয়, জুতায় অতিরিক্ত চাকচিক্য না রাখাই ভালো। অন্যদিকে সাদামাটা একরঙা পোশাক হলে মেটালিক, শিমারি বা স্টেটমেন্ট হিল অবয়বে এনে দিতে পারে বাড়তি চমক।
রঙের খেলায়
জুতা পোশাকের রঙের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে পরতেই হবে— এমন কোনো নিয়ম নেই; বরং পোশাকের একটি রঙ ধরে জুতায় সেটির ছেঁায়া আনা যায়। নিউট্রাল পোশাকের সঙ্গে উজ্জ্বল জুতা পুরো সাজের ফোকাল পয়েন্ট হতে পারে। আবার পোশাক খুব রঙিন হলে ন্যুড, কালো, সাদা বা অন্য কোনো নিউট্রাল শেডের জুতা লুককে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে।
হিল মানেই স্টাইলিশ নয়
জুতার উচ্চতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার আয়োজন হলে খুব উঁচু হিলের বদলে ব্লক হিল, কিটেন হিল বা ফ্ল্যাট বেছে নেওয়া ভালো। স্বচ্ছন্দে হাঁটতে না পারলে সবচেয়ে দামি জুতাতেও সাজকে সুন্দর দেখাবে না।
পায়ের গড়ন
জুতা বাছাইয়ের সময় শুধু পোশাক নয়, পায়ের গড়ন ও স্বাচ্ছন্দ্যও বিবেচনায় রাখুন। পা একটু চওড়া হলে খুব সরু নাকের জুতা এড়িয়ে চওড়া ফ্রন্টের ফ্ল্যাট, লোফার বা স্যান্ডেল বেছে নেওয়া ভালো। পায়ের পাতার গড়ন অনুযায়ী স্ট্র্যাপের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। আর পা লম্বা দেখাতে চাইলে পায়ের কাছাকাছি রঙের জুতা বা ভি-শেপ ফ্রন্টের জুতা বেছে নিতে পারেন।



