ইন্টারন্যাশনাল ট্রেন্ড
চশমার ফ্রেমে রেট্রোর ছোঁয়া

বড় ফ্রেমের চশমা ফিরে এসেছে নতুন পরিচয়ে। রানওয়ে থেকে স্ট্রিট স্টাইল, অফিস থেকে ক্যাফে— সবখানেই এর নজরকাড়া উপস্থিতি লিখেছেন সায়মন
ফ্যাশনের দুনিয়ায় একসময় যেটিকে পুরনো বলে সরিয়ে রাখা হয়, একদিন সেটিই আবার নতুন রূপে ফিরে আসে। বাপ-দাদার আমলের সেই বিশাল ফ্রেমের চশমাগুলোর কথাই ধরা যাক। একসময় যেগুলো সেকেলে বলে মনে করা হতো, সেই ওভারসাইজড রেট্রো ফ্রেমই এখন আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের অন্যতম বড় ট্রেন্ড। দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখার প্রয়োজনের বাইরে এটি ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও শক্তিশালী অনুষঙ্গ।
আন্তর্জাতিক কেন্দ্রবিন্দু: প্যারিস, মিলান কিংবা নিউ ইয়র্কের ফ্যাশন উইকে চোখ রাখলেই বোঝা যায়, রেট্রো চশমার প্রত্যাবর্তন কতটা জোরালো। সরু বা ফ্রেমলেস ডিজাইনের বদলে এখন নজর কাড়ছে সত্তরের দশকের চাঙ্কি অ্যাসিটেট ফ্রেম, আশির দশকের জ্যামিতিক নকশা এবং বড় আকারের অ্যাভিয়েটর স্টাইল। গুচি, প্রাডা, টম ফোর্ড, মিউ মিউ কিংবা লোয়ের মতো বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন হাউজগুলোর সাম্প্রতিক সংগ্রহেও বড় ফ্রেমের চশমার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
হলিউড তারকা, ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অনেকেই স্বচ্ছ, টরটয়েসশেল কিংবা হালকা রঙের ওভারসাইজড ফ্রেমকে দৈনন্দিন স্টাইলের অংশ করে নিয়েছেন। ফলে এ চশমা এখন গিক-চিক অর্থাৎ বুদ্ধিদীপ্ত এবং স্টাইলিশ লুকের প্রতীক।
ফিরে আসার কারণ: ওভারসাইজড রেট্রো চশমার জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে ব্যবহারে এর বহুমুখিতা। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, ভ্রমণ, ক্যাফে কিংবা উৎসব— সব জায়গায়ই এটি সমান মানিয়ে যায়। বড় ফ্রেম মুখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থিতি তৈরি করে, আবার খুব সাধারণ পোশাকেও এনে দেয় আলাদা ব্যক্তিত্ব। আধুনিক কাট, হালকা উপাদান, স্বচ্ছ রঙ, জ্যামিতিক নকশা এবং আরামদায়ক ডিজাইনের সঙ্গে রেট্রো আবহ মিলিয়ে এ চশমা হয়ে উঠেছে একই সঙ্গে নস্টালজিক ও সমসাময়িক।
নস্টালজিয়ার গল্প: বাংলাদেশেও বড় ফ্রেমের চশমার আলাদা ইতিহাস রয়েছে। পঞ্চাশ থেকে আশির দশকে মোটা কালো ফ্রেম ছিল মননশীলতা ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী অনেকের চোখেই দেখা যেত এমন চশমা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কিংবা পুরান ঢাকার আড্ডায় বড় ফ্রেমের চশমা পরা তরুণদের দেখে মনে হতো, যেন তারা বই, বিতর্ক আর স্বপ্ন নিয়েই পৃথিবী বদলে দিতে প্রস্তুত। বাংলা সাহিত্যের দুই কিংবদন্তি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও হুমায়ূন আহমেদের কথাই ধরা যাক। বড় ফ্রেমের চশমা যেন তাদের ব্যক্তিত্বেরই অংশ হয়ে উঠেছিল। সেই স্মৃতিই আজকের রেট্রো ট্রেন্ডকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
রঙে বৈচিত্র্য: একসময় এমন চশমায় কালো ফ্রেমেরই ছিল আধিপত্য। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টরটয়েসশেল, ক্রিস্টাল ক্লিয়ার, অ্যাম্বার, অলিভ, বারগান্ডি, মধুরঙা ও গাঢ় সবুজের মতো নানা শেড। যারা সাহসী স্টাইল পছন্দ করেন, তারা বেছে নিতে পারেন মোটা বর্ডারের জ্যামিতিক ফ্রেম।
পোশাকের সঙ্গে মিল: ওভারসাইজড রেট্রো চশমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বহুমুখিতা। সাদা শার্ট, লিনেন, ব্লেজার, ডেনিম, কুর্তা, শাড়ি কিংবা মনোক্রোম পোশাক— সবকিছুর সঙ্গেই এটি সহজে মানিয়ে যায়। ক্লিন গার্ল মেকআপ বা একেবারে মিনিমাল সাজের সঙ্গে এ চশমা পুরো লুকের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
রোদচশমাতেও একই আবেদন: শুধু পাওয়ার গ্লাস নয়, সানগ্লাসেও বড় ফ্রেমের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। সত্তরের দশকের স্টাইল থেকে অনুপ্রাণিত অতি বড় স্কয়ার, রাউন্ড, ক্যাট-আই কিংবা অ্যাভিয়েটর সানগ্লাস এখন ইউরোপ-আমেরিকার সামার ফ্যাশনের অন্যতম আকর্ষণ। হলুদ, হালকা বাদামি বা প্যাস্টেল টিন্টেড লেন্স এ ট্রেন্ডকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
প্রাপ্তিস্থান ও দরদাম: রেট্রো চশমার শখ মেটাতে চাইলে ঢাকার পাটুয়াটুলী বা চকবাজারের গোলাম রসুল মার্কেট হতে পারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী গন্তব্য। বৈচিত্র্যময় কালেকশনের জন্য নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, পলওয়েল বা বায়তুল মোকাররমে ঢুঁ মারতে পারেন। ইউনিক ও প্রিমিয়াম ডিজাইনের খোঁজে বসুন্ধরা সিটি, টোকিও স্কয়ার, যমুনা ফিউচার পার্কের স্টোর কিংবা শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পেজগুলো সেরা। সাধারণ প্লাস্টিক বা মেটাল ফ্রেম মিলবে ৩০০-৭০০ টাকায়। অ্যান্টি-ব্লু লাইটসহ মাঝারি মানের ফ্রেমের দাম পড়বে ৮০০-১৮০০ টাকা। তবে হাই-কোয়ালিটি অ্যাসিটেট বা ইমপোর্টেড রেট্রো ফ্রেম চাইলে বাজেট রাখতে হবে ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা।
যত্ন জরুরি: বড় ফ্রেমের চশমা ব্যবহারের পর হার্ড কেসে রাখুন। মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে লেন্স পরিষ্কার করুন। শার্ট বা ওড়নার কোণে লেন্স মুছবেন না। নিয়মিত স্ক্রু ও ফ্রেম পরীক্ষা করালে চশমার স্থায়িত্বও বাড়ে।
কোন ফ্রেম কার জন্য: গোল মুখে কৌণিক বা বর্গাকার ফ্রেম ভারসাম্য আনে। চৌকো মুখে গোল বা ওভাল ফ্রেম নরম আবহ তৈরি করে। লম্বাটে মুখে একটু চওড়া ফ্রেম ভালো লাগে। হৃদয়াকৃতি মুখে সফট ক্যাট-আই বা গোলাকার ফ্রেম সবচেয়ে মানানসই।
ছবি: ইন্টারনেট




