ফ্যাশন
রোদে স্টাইল চোখে সুরক্ষা

মডেল: লারা ফেরদৌস সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
ক্রীড়াবিদ, ফিটনেসপ্রেমী থেকে শুরু করে সবার কাছেই স্পোর্টস সানগ্লাস হলো ফ্যাশন ও কার্যকারিতার নিখুঁত সমন্বয়। লিখেছেন সায়মন
একসময় স্পোর্টস সানগ্লাসের ব্যবহার ছিল পেশাদার ক্রীড়াবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখন অ্যাথলিজার ফ্যাশনের জনপ্রিয়তায় এটি দৈনন্দিন জীবনেও জায়গা করে নিয়েছে। ড্রাই-ফিট টি-শার্ট, জগার, ট্র্যাকসুট, ক্যাপ কিংবা স্নিকারের সঙ্গে মানানসই স্পোর্টস সানগ্লাস পুরো লুককে করে তোলে আরও আধুনিক ও প্রাণবন্ত। তাই শুধু মাঠে নয়; ভ্রমণ, লং ড্রাইভ, সাইকেল রাইড কিংবা উইকেন্ড আউটিংয়েও এটি অনেকের প্রথম পছন্দ।
রোদে দীর্ঘ সময় থাকলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি চোখের কর্নিয়া, লেন্স ও রেটিনার ক্ষতি করতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয় ধুলাবালি, বাতাস, ছোট পোকামাকড় কিংবা রাস্তা থেকে প্রতিফলিত তীব্র আলো। ভালো মানের স্পোর্টস সানগ্লাস এসব ঝুঁকি কমিয়ে চোখকে সুরক্ষিত রাখে। পাশাপাশি উজ্জ্বল আলোয় দৃষ্টিকে আরামদায়ক করে এবং দীর্ঘ সময় খেলাধুলা বা ব্যায়ামের সময় চোখের ক্লান্তি কমায়।
লেন্সই আসল
স্পোর্টস সানগ্লাস কেনার সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে লেন্সে। অন্তত ইউভি ৪০০ সুরক্ষাযুক্ত লেন্স বেছে নেওয়া উচিত, যা ক্ষতিকর ইউভিএ ও ইভিবি রশ্মি প্রতিরোধ করে। পোলারাইজড লেন্স অতিরিক্ত ঝলমলে আলো কমিয়ে পরিষ্কার ভিশন দেয়; তাই ক্রিকেট, সাইক্লিং, দৌড় বা জলাশয়ের পাশে খেলাধুলার জন্য এটি আদর্শ। বর্তমানে রেভো কোটিং, মিরর লেন্স, ফটোক্রোমিক লেন্স এবং অ্যান্টি-ফগ প্রযুক্তিযুক্ত সানগ্লাসও জনপ্রিয়, যা বিভিন্ন আবহাওয়া ও আলোর সঙ্গে মানিয়ে আরও আরামদায়ক অভিজ্ঞতা দেয়।
কেমন হবে
ভালো স্পোর্টস সানগ্লাসের ফ্রেম হালকা, নমনীয় ও আঘাত-সহনশীল হওয়া দরকার। নাকের অংশে রাবার গ্রিপ এবং কানের পাশে ননি-স্লিপ প্যাড থাকলে ঘেমে গেলেও চশমা পিছলে যায় না। অনেক মডেলে ভেন্টিলেশন ডিজাইন থাকে, যা লেন্সে ঘাম বা কুয়াশা জমতে দেয় না। ফলে দীর্ঘ সময় খেলাধুলার মধ্যেও দৃষ্টিশক্তি পরিষ্কার থাকে।
কোন খেলায় কেমন
সব ধরনের খেলায় একই সানগ্লাস উপযোগী নয়। ক্রিকেট ও গলফে উচ্চ কনট্রাস্টের লেন্স ভালো কাজ করে। সাইক্লিংয়ে র্যাপ-অ্যারাউন্ড ডিজাইন চোখকে চারদিক থেকে সুরক্ষা দেয়। রানিংয়ের জন্য প্রয়োজন হালকা ও নন-স্লিপ ফ্রেম, আর ট্রেকিং বা হাইকিংয়ের জন্য ইউভি৪০০ ও পোলারাইজড লেন্স সবচেয়ে কার্যকর।
ড্রাই-ফিট টি-শার্ট, জগার, ট্র্যাকসুট, ক্যাপ কিংবা স্নিকারের সঙ্গে মানানসই স্পোর্টস সানগ্লাস পুরো লুককে করে তোলে আরও আধুনিক ও প্রাণবন্ত
ট্রেন্ডে কোন ডিজাইন
আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে এখন বড় আকারের র্যাপ-অ্যারাউন্ড ও শিল্ড ডিজাইনের সানগ্লাস সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর পাশাপাশি হালকা ফুল-ফ্রেম ও সেমি-রিমলেস ডিজাইনও বেশ চলছে। কালো, ম্যাট ব্ল্যাকি ও ধূসর রঙের পাশাপাশি নীল, সবুজ, কমলা, লালরঙা কিংবা মিরর ফিনিশ লেন্সের চাহিদা তরুণদের মধ্যে তুঙ্গে। অ্যাকটিভওয়্যারের সঙ্গে মিলিয়ে এসব সানগ্লাস পুরো স্পোর্টি লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
কোথায় পাওয়া যায়
দেশে এখন দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের স্পোর্টস সানগ্লাস পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মধ্যে ওকলে, শাওমি, ডিকাথলনের বিভিন্ন মডেলের চাহিদা রয়েছে। বাজেটবান্ধব বিকল্প হিসেবে সাসা আইওয়ার ঢঙ এবং স্থানীয় স্পোর্টস গিয়ার বিক্রেতাদের সংগ্রহও জনপ্রিয়। অনলাইনে দারাজ, স্পোর্টি বাংলাদেশ, স্পোর্টস গার্ডেনসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সহজেই অর্ডার করা যায়। অফলাইনে স্টেডিয়াম মার্কেট, নিউ মার্কেট, মৌচাক মার্কেট এবং বড় অপটিক্যাল শোরুমে বিভিন্ন দামের সংগ্রহ মিলবে।
দরদাম
সাধারণ মানের স্পোর্টস সানগ্লাসের দাম ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। ভালো মানের ইউভি৪০০-যুক্ত মডেলের দাম পড়ে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। পোলারাইজড বা রেভো লেন্সের সানগ্লাসের জন্য গুনতে হতে পারে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে দাম ৪ হাজার থেকে শুরু হয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।




