জীবনযাপন
ঘুম কম হলে

মডেল: ইরতিফা রহমান, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। তবু কখনো কখনো বিশেষ কারণে ঘুমের পরিমাণ কম হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ক্লান্তির ছাপ কমানোর উপায় জানাচ্ছেন তুলি রহমান
রাতে ঘুম হয়েছে কম। সকালে আয়নায় মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ক্লান্তি। চোখের নিচে কালচে ভাব, আঁখিপল্লব ফোলা, ত্বকও নিষ্প্রভ। এমন দিনে কাজে বেরোনোর আগে চাই একটু বাড়তি যত্ন। কয়েকটি সহজ উপায়ে মুখে ফিরিয়ে আনা সম্ভব সতেজতা। তবে মনে রাখতে হবে, এসব যত্ন ক্লান্তির ছাপ সাময়িক কমালেও কিছুতে ঘুমের বিকল্প হতে পারে না।
শীতল স্পর্শে চোখের যত্ন
ঘুম কম হলে চোখের চারপাশে ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। সকালে পরিষ্কার কাপড়ে মোড়ানো বরফ দিয়ে বন্ধ চোখের ওপর ৫ থেকে ১০ মিনিট আলতোভাবে শীতল সেক দিন। এতে ফোলা ভাবের পাশাপাশি চোখের ক্লান্তিও সাময়িক কমতে পারে। কাপড় বেশি ঠান্ডা হয়ে গেলে মুহূর্তেই সরিয়ে নিন। সরাসরি চোখের ওপর বরফের স্পর্শ দেবেন না। ঘষাঘষি করাও পুরোদস্তুর বারণ। চোখের নিচের কালচে ভাব ঢাকতে ত্বকের রঙের সঙ্গে মানানসই কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন। আঙুল বা স্পঞ্জের সাহায্যে আলতোভাবে এ প্রসাধনপণ্য সামান্য পরিমাণ মিশিয়ে নিন। বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করলে সূক্ষ্ম রেখা আরও স্পষ্ট দেখাতে পারে।
ত্বকে আর্দ্রতার প্রত্যাবর্তন
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে এমন ক্রিম এবং তৈলাক্ত ত্বকে হালকা ও সুগন্ধিমুক্ত ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া ভালো। কেননা, ত্বক আর্দ্র থাকলে উপরিভাগ মসৃণ দেখায়; মলিন ভাবও নজরে পড়ে কম। এরপর বাইরে যাওয়ার আগে ব্রড-স্পেকট্রাম এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। রোদে থাকলে দুই ঘণ্টা পরপর এবং ঘামলে বা মুখ মুছে ফেললে নির্দেশনা অনুযায়ী আবারও এর প্রয়োগ করুন।
এসব যত্ন ক্লান্তির ছাপ সাময়িক কমালেও কিছুতে ঘুমের বিকল্প হতে পারে না
সতেজতায় মেকআপ
ক্লান্ত মুখে ভারী মেকআপের বদলে হালকা প্রসাধনীর ব্যবহার উপকারী। ত্বকের রঙের সঙ্গে মানানসই বিবি ক্রিম বা হালকা ফাউন্ডেশন দিয়ে শুরু করতে পারেন। চোখের নিচে কনসিলার, গালে সামান্য পিচ বা গোলাপি ব্লাশ এবং ঠোঁটে ন্যাচারাল রঙের লিপস্টিক মুখে প্রাণবন্ত ভাব এনে দেবে। চোখের সাজও হালকা রাখা ভালো। কাজল বা পাতলা আইলাইনার এবং এক কোট মাসকারাই যথেষ্ট। চোখ লাল থাকলে বা জ্বালা করলে আই মেকআপ এড়িয়ে চলতে হবে।
চুলে চমক
চুল এলোমেলো থাকলে আঁচড়ে নিন। পনিটেল, নিচু খোঁপা কিংবা আলগা বেণি সহজেই সাজে পরিপাটি ভাব আনতে পারে। এ সময়ে অতিরিক্ত হেয়ার স্প্রে বা স্টাইলিং পণ্য ব্যবহার না করলেও চলবে।
পানি ও খাবার
শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে ত্বক শুষ্ক দেখাতে পারে। সকালের পাশাপাশি সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সকালের নাশতা বাদ না দিয়ে ডিম, দুধ, দই, ফল কিংবা পছন্দমতো পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কারও কারও শরীরে পানি ধরে রেখে চোখের চারপাশে ফোলা ভাব বাড়াতে পারে। তাই খাবারে লবণের পরিমাণে সংযমী হওয়া জরুরি। তবে পানি পান বা খাবারের পরিবর্তনেই চোখের নিচের কালি দূর হবে, এমন নয়।
ক্যাফেইন নয়, ঘুমই আসল
ঘুম কম হলে চা-কফি সাময়িক ঝিমুনি কমাতে পারে। তবে এগুলো ঘুমের ঘাটতি পূরণ করে না। বিশেষ করে বিকাল বা সন্ধ্যায় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিরাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া আর ঘুম থেকে ওঠা, শোবার আগে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানো এবং আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা ভালো।
মনে রাখুন
ঠান্ডা সেক, ময়েশ্চারাইজার ও হালকা মেকআপে মুখে সাময়িক সতেজতা ফিরতে পারে। তবে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি পূরণ করাই ক্লান্তির ছাপ কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও দীর্ঘদিন ক্লান্তি বা চোখের চারপাশে অস্বাভাবিক ফোলা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।



