অন্দরমহল
বারান্দায় ছোট বাগান

মডেল: শারমা তিতলি, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
শহুরে জীবনে ঘর লাগোয়া ছোট ব্যালকনিই হয়ে উঠতে পারে নিজের একটুকরো বাগান। লিখেছেন রেজাউল আহমেদ
সকালে ঘুম ভাঙার পর সবুজ পাতার দিকে তাকালে কিংবা বিকালে এক কাপ চা হাতে গাছের পাশে বসলে মন ভরে যায় প্রশান্তিতে। আবার কখনো কখনো ঘরের এক কোণে রাখা কয়েকটি সবুজ গাছই মন ভালো করার জন্য যথেষ্ট। আর যদি সেই সবুজের ঠিকানা হয় বারান্দা, তাহলে তো কথাই নেই। পরিসর যত ছোটই হোক, পরিকল্পনা করে সাজালে সেখানে গড়ে তোলা সম্ভব সুন্দর একটি বাগান। বড় বড় টবের সারি নয়; বরং অল্প জায়গায় মানানসই গাছ, কিছু লতানো সবুজ পাতা আর বসার ছোট একটি জায়গা— সব মিলিয়ে বারান্দা সেজে উঠতে পারে ঘরের সবচেয়ে শান্ত ও নান্দনিক অংশ হিসেবে।
আলো-বাতাস
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রিফাত গার্ডেন সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. মিলন বললেন, বাগান করার আগে বারান্দার চারদিক বুঝে নিতে হবে। দিনের কোন সময়ে সেখানে রোদ আসে, কতক্ষণ থাকে, বাতাস কেমন— সবই গুরুত্বপূর্ণ। যে জায়গায় সকাল থেকে ভালো রোদ পড়ে, সেখানে রোদপ্রিয় ফুল ও গাছ রাখা যায়। আবার কম আলোতে বাঁচবে এমন গাছ রাখতে হবে কম আলোর বারান্দায়। তাহলেই ছোট বাগানটি দীর্ঘদিন সতেজ আর সুন্দর থাকবে।
মেঝের সঙ্গে স্ট্যান্ড
ছোট বারান্দায় বাগান করতে গিয়ে অনেকেই গাছের টবগুলো মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে রাখেন। এতে জায়গা যেমন কমে যায়, তেমনি বারান্দাটিও অগোছালো দেখায়; বরং বিভিন্ন উচ্চতার স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন। কিছু টব মেঝেতে, কিছু উঁচু স্ট্যান্ডে আর কয়েকটি দেয়ালের শেলফে রাখুন। এতে একই পরিসরে বেশি গাছ রাখা যাবে, আবার বারান্দায় চলাফেরার জায়গাও থাকবে।
ঝুলন্ত টবের সৌন্দর্য
জায়গা বাঁচানোর সহজ উপায় হতে পারে ঝুলন্ত টব। বারান্দার গ্রিল কিংবা উপযুক্ত জায়গায় কয়েকটি ঝুলন্ত টব রেখে দিতে পারেন। লতানো কিংবা ঝুলে পড়া পাতার গাছ এতে বেশ সুন্দর দেখায়। তবে টব ঝোলানোর আগে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে, সেটি ভালোভাবে আটকানো আছে কি না, না হলে হঠাৎ নিচে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ফুল ও পাতার গাছ
বারান্দার বাগান মানেই শুধু ফুলের গাছ নয়; সঙ্গে বিভিন্ন আকৃতির পাতার গাছ রাখলে পুরো পরিবেশ আরও সুন্দর ও পরিপূর্ণ দেখাবে। এ ছাড়া এমন কিছু গাছ রাখা যেতে পারে, যেগুলো ফুল না ফোটালেও সারা বছর পাতার সৌন্দর্য বিলাবে।
টব বাছাই
এলোমেলো দেখায়, এমন টব পাশাপাশি না রাখাই ভালো। মাটির টবের স্বাভাবিক সৌন্দর্য যেমন আলাদা, তেমনি সাদামাটা সিরামিক বা হালকা রঙের টবও ছোট বারান্দায় বেশ মানিয়ে যায়। টবের আকারও গাছ অনুযায়ী হওয়া দরকার। খুব ছোট টবে বড় কিংবা অতিরিক্ত বড় টবে ছোট গাছ রাখলে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গাছের বৃদ্ধিতেও সমস্যা হতে পারে।
গাছের পাশে বসার জায়গা
বারান্দায় বাগান যখন হয়েই গেছে, তখন নিজের জন্য রাখুন একটু জায়গা। একটি ছোট চেয়ার, মোড়া কিংবা বেঞ্চই যথেষ্ট। পাশে ছোট টেবিল থাকলে সেখানে রাখা যাবে চায়ের সেট, বই কিংবা প্রিয় কোনো শোপিস। সকালবেলার কোমল রোদে কয়েক মিনিট বসা, বিকালে চা খেতে খেতে গাছ দেখা কিংবা রাতে কিছুক্ষণ নিঃশব্দে বসে থাকার মুহূর্তগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে নির্মল আনন্দ।
যত্নই প্রাণ
প্রতিটি গাছের গোড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি যেমন ক্ষতিকর, তেমনি মাটি একেবারে শুকিয়ে যাওয়াও ভালো নয়। মাঝেমধ্যে শুকনো পাতা ও ডাল ছেঁটে এবং টবের মাটি আলগা করে দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী সার দিতে ভুলবেন না। গাছের পাতায় ধুলো জমলে পরিষ্কার করে দিন। কোনো গাছে পোকা ধরেছে কি না, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।




