ফ্যাশন
স্বস্তিতে ছন্দে ঢোল পায়জামা

মডেল: ফাইজা ফেরদৌস খান, সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ, পোশাক: লা রিভ, গয়না: পেটাল গহনা, ছবি: অপূর্বা
ঈদের ব্যস্ততায় খুঁজছেন এমন পোশাক, যাতে মিলবে আরাম, আবার স্টাইলও হবে ভিন্ন? ক্যাজুয়াল ঈদ ফ্যাশনে নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে ঢোল পায়জামা। লিখেছেন অলকানন্দা রায়
ঈদের দিনমান জুড়ে থাকে নানা ব্যস্ততা। আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা, দুপুরের গরম, বিকালের আড্ডা— সব মিলিয়ে অনেকেই খুঁজছেন এমন পোশাক, যাতে মিলবে আরাম, আবার স্টাইলও হবে ভিন্ন। সেই ক্যাজুয়াল ঈদ ফ্যাশনেই নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে ঢোল পায়জামা।
একটু ঢিলা, একটু হাওয়াদার আর দেখতে আলাদা— এই তিনে মিলেই তৈরি ঢোল পায়জামা। নামটি যেমন মজার, পরার অভিজ্ঞতাও আরামদায়ক। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের ক্যাম্পাস, আড্ডা, এমনকি ছোটখাটো অনুষ্ঠানেও এই পরিধেয় হয়ে উঠেছে এক নতুন স্টাইল স্টেটমেন্ট। ঈদের দিন সকালের ব্যস্ততা পেরিয়ে বিকালের দাওয়াত কিংবা ছাদে পারিবারিক আড্ডাতেও পরতে পারেন এই স্বস্তিদায়ক বটম লাইন ড্রেস।
ঢোল পায়জামার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর কাট। সাধারণ পায়জামার মতো সোজা নয়; বরং এটি একটু ফুলে ওঠা, ঢোলের মতো বিস্তৃত। এখান থেকেই এসেছে নাম। কোমরে ইলাস্টিক বা ড্র-স্ট্রিং, ফলে যেকোনো বডি টাইপে সহজে মানানসই। হাঁটাচলায় বাধা নেই; গরমে গা ঘামে না। তাই ফ্যাসনিস্তারা অনেকে একে ডেইলিওয়্যার হিসেবেও বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদের দিনের মতো দীর্ঘ ব্যস্ততায়, যখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পোশাকে স্বস্তি প্রয়োজন, তখন ঢোল পায়জামা ধরা দিতে পারে দারুণ সমাধান হিসেবে।
নকশার দিক থেকে রয়েছে দারুণ বৈচিত্র্য। এতে যোগ হচ্ছে টাই-ডাই বা বাটিকের ডিজাইন। প্রতিটি পিসই আলাদা; দেখলে মনে হবে যেন হাতে আঁকা গল্প। প্যাচওয়ার্ক স্টাইলও বেশ নজরকাড়া। ভিন্ন ভিন্ন কাপড় জোড়া দিয়ে নকশায় আনা হয় ভিন্নমাত্রা। এ ছাড়া প্রিন্টেড মোটিফও পেয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। এতে ফুটে ওঠে ট্রাইবাল, ফোক বা জ্যামিতিক নকশার মোটিফ। আবার স্টাইলে যারা মিনিমাল থাকতে চান, তাদের জন্যও রয়েছে সলিড রঙের ঢোল পায়জামা।
কাটের ভিন্নতাও একে দিয়েছে নিজস্ব পরিচয়। ঢিলেঢালা কাট, কোথাও নিচের অংশ বেশি গ্যাদারড, কোথাও আবার একটু টেপার্ড; কোনো ডিজাইনে পকেট যোগ হয়েছে, আবার কোনোটা পুরোপুরি ফ্লুইড; আর মাঝখানে প্যাচওয়ার্ক ডিজাইন— সব মিলিয়ে একধরনের বোহেমিয়ান আবহ তৈরি করে। নীলের ওপর টাই-ডাই ইফেক্ট, তার সঙ্গে লাল আর সবুজ প্যাচ রঙের এই মিশ্রণ চোখে আরাম দেয়, আবার খুব বেশি চড়াও নয়। ফলে একেকটি পায়জামায় তৈরি হয় একেক স্টাইল।
ঢোল পায়জামার আরেকটি বড় আকর্ষণ এর কাপড়। কটন, মসলিন, রেয়ন কিংবা হালকা সিল্ক— প্রতিটি কাপড়ই এই কাটে আলাদা ভাব ফুটিয়ে তোলে। গরমের দিনে নরম কটন বা রেয়ন দারুণ আরাম দেয়, আবার ঈদের সন্ধ্যার দাওয়াতে সিল্কি ফিনিশের ঢোল পায়জামা হয়ে উঠতে পারে নজরকাড়া। অনেক ডিজাইনার এখন হ্যান্ডলুম কাপড় ব্যবহার করছেন; ফলে প্রতিটি পিসে থাকে দেশীয় কারুশিল্পের ছাপ।
স্টাইলিংয়ের ক্ষেত্রেও এটি বেশ ফ্লেক্সিবল। সাদা কটন টপ, ছোট কুর্তি কিংবা ক্রপ টপ— সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে যায়। ঈদের দিনের ক্যাজুয়াল সাজে কেউ চাইলে হালকা এমব্রয়ডারির কুর্তির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন ঢোল পায়জামা। পায়ে স্যান্ডেল বা কেডস— দুটোতেই আলাদা লুক এনে দেবে। বড় কানের দুল বা কাঠের ব্রেসলেট যোগ করলে পুরো সাজই হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত।
এই পায়জামার জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারণ, এর জেন্ডার-নিউট্রাল আবেদন। নির্দিষ্ট কোনো ধারায় আটকে নেই এটি। যে কেউ নিজের মতো পরতে পারেন। ফ্যাশনের এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি নতুন প্রজন্মের কাছে ঢোল পায়জামাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।







