মনের খেয়াল
উন্মাদনা আনন্দের বিভেদের নয়

মডেল: সাহাবি ইসলাম আলবির, লারা ফেরদৌস মাহিন হাসান রাজা। জার্সি: অ্যাথলিট স্পোর্টস গিয়ার। বল: হাউজ। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
সামনেই ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রিয় দলকে সাপোর্ট করা নিয়ে অনেকেই দ্বন্দ্বে জড়ান। ঘটে নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও। এড়ানোর উপায় জানাচ্ছেন কাজী রুমানা হক
বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার সীমানা পেরিয়ে আবেগ, পরিচয় এবং ভালোবাসার বড় জায়গা দখলে নেয়। প্রিয় দলকে ঘিরে মানুষ আনন্দ, উল্লাস আর উদযাপন করে; নিজেদের একাত্মতার প্রকাশ
ঘটায়। কিন্তু কখনো কখনো এ সমর্থন এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে বন্ধুত্ব নষ্টের পাশাপাশি ঝগড়া-বিবাদের সূত্রপাত, এমনকি মারামারির মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটে। এর পেছনে কাজ করে মানুষের পরিচয়বোধ ও দলগত মানসিকতা।
মানুষ যখন কোনো দলকে সমর্থন করে, অনেক সময় সেটিকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখে। ‘আমি আর্জেন্টিনার’, ‘আমি ব্রাজিলের’— এমন কথাগুলো শুধু খেলার সমর্থনের মধ্যে আটকে না থেকে ব্যক্তিগত বা আত্মপরিচয়ের অনুভূতিতে রূপ নেয়। ফলে কেউ যখন সেই দলের সমালোচনা করে কিংবা দলটি হেরে যায়, তা ব্যক্তিগত আঘাতের মতো অনুভূত হতে পারে। এখান থেকেই শুরু হয় আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারানো।
দ্বন্দ্ব কমানোর প্রথম উপায় হলো একটি কথা মনে রাখা— সমর্থন মানে যুদ্ধ নয়, বরং পছন্দের প্রকাশ। মানুষের পছন্দ ভিন্ন ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক। এই ভিন্নতাকে সম্মান করার মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন আবেগ নিয়ন্ত্রণের চর্চা। খেলার সময় উত্তেজনা স্বাভাবিক; কিন্তু উত্তেজক মুহূর্তের কথা বা আচরণ অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে— ‘আমি যা বলছি বা করছি, তাতে কি সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে?’
তৃতীয়ত, কটূক্তি, অপমান বা ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা শ্রেয়। অনেকেই রসিকতার নামে অন্যের পছন্দের দল বা খেলোয়াড়কে অপমান করেন। কিন্তু হাস্যরস আর অসম্মানের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। এমন কিছু বলা উচিত নয়, যা অন্যের অনুভূতিতে আঘাত দেয়।
পরিবার, বন্ধু ও সমাজের এখানে ভূমিকা আছে। খেলাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে নয়; আনন্দ বা উদযাপনের জায়গা হিসেবে দেখানো দরকার।
লেখক: হেড অব মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম এবং লিড সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর, মনের বন্ধু




